স্বতন্ত্র প্রার্থীর ১ শতাংশ ভোটারের সমর্থনের রিভিউ শুনানি রোববার

জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন-সংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত করার বিধান রয়েছে। এ সংক্রান্ত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের বিধানের বৈধতা দিয়ে প্রায় ১৫ বছর আগে রায় দিয়েছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ওই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা আবেদন শুনানির জন্য আগামী রোববার (১১ জানুয়ারি) দিন ঠিক করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এই দিন ঠিক করেন। আদালতে আজ আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার মো. ওমর ফারুক। দুজন আইনজীবীসহ সাত ব্যক্তি গত বছরের নভেম্বরে আবেদনটি করেন। আপিল বিভাগের চেম্বার জজ আদালত হয়ে আবেদনটি নিয়মিত ও পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। আজ আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় (কজলিস্টে) ৯১ নম্বর ক্রমিকে ছিল। এ বিষয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, রিভিউ আবেদনটি শুনানির জন্য আগামী রোববার দিন ধার্য করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। এখন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চে রিভিউ আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। ওইদিন আপিল বিভাগের তালিকায় শীর্ষ স্থানে থাকবে মামলাটি। আরও পড়ুননির্বাচন ও গণভোটের তফসিলের বৈধতার রিট শুনতে হাইকোর্টের অপারগতাদুর্নীতির প্রমাণ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা: সুপ্রিম কোর্ট গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের (আরপিও) ১২(৩ক)(ক) বিধান অনুযায়ী, নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন-সংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়নপত্রের সঙ্গে যুক্ত করে দিতে হবে। তবে শর্ত থাকে যে কোনো স্বতন্ত্র প্রার্থী এর আগে জাতীয় সংসদের কোনো নির্বাচনে সদস্য নির্বাচিত হয়ে থাকলে ওই তালিকা প্রদানের প্রয়োজন হবে না। আইনজীবীর তথ্য অনুসারে, ঢাকার একটি আসন থেকে ২০০৭ সালের ২২ অক্টোবর জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাহবুব আহমেদ চৌধুরী নামের এক ব্যক্তি মনোনয়নপত্র নেন। পরে নির্বাচনের ওই তারিখ পিছিয়ে যায়। অন্যদিকে ২০০৮ সালে আরপিও দফা ১২ (৩ক)-তে সংশোধনী আনা হয়। এই বিধান সংবিধানের কয়েকটি অনুচ্ছেদ ও আরপিওর ১২(১) ধারার পরিপন্থি উল্লেখ করে মাহবুব আহমেদ চৌধুরী ২০১০ সালে হাইকোর্ট রিট করেন। আবেদনকারী সাত ব্যক্তি হলেন- ব্যারিস্টার এম সারোয়ার হোসেন, মেজর (অব.) এস এম হারুনুর রশীদ, কাজী জাহেদুল ইসলাম, আইনজীবী এস এম আজমল হোসেন, মেজর (অব.) নিয়াজ আহমেদ জাবের, মেজর (অব.) মো. জিয়াউল আহসান ও সালাহ উদ্দিন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট রুল জারির আদেশ দেন। ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০১০ সালের ১৬ আগস্ট হাইকোর্ট রুল ডিসচার্জ (খারিজ) করে রায় দেন। দফা (৩ক) সংবিধান পরিপন্থি নয় বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে ২০১০ সালে লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করেন রিট আবেদনকারী। শুনানি শেষে আপিল বিভাগ ২০১১ সালের ২৩ জানুয়ারি লিভ টু আপিল খারিজ করে রায় দেন। স্বতন্ত্র প্রার্থীর ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকার এক শতাংশ ভোটারের সমর্থন-সংবলিত স্বাক্ষরযুক্ত তালিকা মনোনয়ন সঙ্গে যুক্ত করা সংক্রান্ত আরপিওর ১২ (৩ক)-তে বেআইনি কিছু পাননি বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়। ওই রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে দুই আইনজীবীসহ সাত ব্যক্তি গত বছর পুনর্বিবেচনার আবেদন করেন, যার ওপর শুনানি শুরু হতে যাচ্ছে। এফএইচ/কেএসআর/জেআইএম