বৈধ প্রার্থীর ৫০১ জনই কোটিপতি, দল হিসেবে শীর্ষে বিএনপি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র বৈধ হওয়া এক হাজার ৮৪২ প্রার্থীর মধ্যে ৫০১ জনই কোটিপতি। তারা কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। বুধবার (৭ জানুয়ারি) পর্যন্ত মোট বৈধ প্রার্থীর ২৭ দশমিক ১৯ শতাংশই কোটিপতি। বৈধ হওয়া প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ তথ্য পাওয়া গেছে। হলফনামার তথ্যানুযায়ী, বিএনপিতে রয়েছে সর্বোচ্চ কোটিপতি প্রার্থী। এ তালিকায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জাতীয় নাগরিক পার্টি, জাতীয় পার্টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও রয়েছেন। মোট এক হাজার ৮৪২ জন বৈধ প্রার্থী রয়েছেন, যার মধ্যে ৫০১ জনের সম্পদ কোটি টাকার বেশি। বিএনপির কোটিপতি প্রার্থী ২১২ জন, সবচেয়ে বেশি। জামায়াতে ইসলামী থেকে ৬৪ জন কোটিপতি প্রার্থী, যা দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের ৩৫, জাতীয় পার্টির ৩০, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ১২, গণঅধিকার পরিষদ, এনসিপি ও আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) পাঁচজন করে এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের চারজন প্রার্থী কোটিপতি। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী ৫৮ জন এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের ৭১ জন প্রার্থী কোটিপতি। ইসির হলফনামায় দেখে গেছে, বিভাগওয়ারী সর্বোচ্চ কোটিপতি রয়েছে ঢাকায় ১৪৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১১৪ জন, রংপুর বিভাগে ৫১ জন, রাজশাহীতে ৪৭, খুলনায় ৪০, বরিশালে ৩৯, সিলেটে ৩৭ এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ৩০ জন প্রার্থীর কোটি টাকার বেশি সম্পদ আছে। ইসির হলফনামা অনুযায়ী, বিভাগভিত্তিক সর্বোচ্চ কোটিপতি প্রার্থী রয়েছে ঢাকায় ১৪৩ জন। এছাড়া চট্টগ্রামে ১১৪, রংপুরে ৫১, রাজশাহীতে ৪৭, খুলনায় ৪০, বরিশালে ৩৯, সিলেটে ৩৭ এবং ময়মনসিংহে ৩০ জন প্রার্থীর কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। জেলা হিসেবে বান্দরবানে কোনো কোটিপতি প্রার্থী নেই। ঢাকায় ৫১, চট্টগ্রামে ৩৬ এবং কুমিল্লা জেলায় ২১ জন প্রার্থীর কোটি টাকার বেশি সম্পদ রয়েছে। এছাড়া নোয়াখালীতে ১৭, ময়মনসিংহে ১৬, নারায়ণগঞ্জে ১৫ এবং সিলেটে ১৩ প্রার্থী আছেন যাদের সম্পদ কোটি টাকার বেশি। বরিশাল, টাঙ্গাইল ও নরসিংদী জেলায় ১২ জন করে কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়া ১১, বগুড়া ১০, গাজীপুর ১০, রংপুর ৯, সুনামগঞ্জ ৯, চাঁদপুর ৮, গাইবান্ধা ৮, দিনাজপুর ৮, মাদারীপুর ৮ এবং মৌলভীবাজার ৮ জন প্রার্থী কোটিপতি। বাগেরহাট, লালমনিরহাট, হবিগঞ্জ, রাজশাহী, ফেনী, নেত্রকোনা, নীলফামারী, খুলনা, গোপালগঞ্জ, নওগাঁ ও ঝালকাঠিতে ৭ জন করে প্রার্থী কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক। জামালপুর, কক্সবাজার, নাটোর, ফরিদপুর, ভোলা, মানিকগঞ্জ, যশোর, লক্ষ্মীপুর ও সিরাজগঞ্জে ৬ জন করে, শরীয়তপুর, পিরোজপুর, পাবনা, পটুয়াখালী, কুড়িগ্রাম ও কুষ্টিয়ায় ৫ জন করে, কিশোরগঞ্জ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, নড়াইল, বরগুনা ও মুন্সিগঞ্জে ৪ জন করে এবং রাজবাড়ী, সাতক্ষীরা, পঞ্চগড় ও ঝিনাইদহে ৩ জন করে প্রার্থী কোটিপতি। মেহেরপুর, মাগুরা ও জয়পুরহাটে ২ জন করে, আর রাঙামাটি, শেরপুর, খাগড়াছড়ি ও চুয়াডাঙ্গায় একজন করে কোটিপতি প্রার্থী রয়েছেন। সবচেয়ে বেশি সম্পদের মালিক চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনের বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ আসলাম চৌধুরী, যার সম্পদের পরিমাণ ৩৬৫ কোটি ৫ লাখ ২৮ হাজার ৮৩৬ টাকা। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান, যার সম্পদ ২৬৫ কোটি ৩ লাখ ২ হাজার ৯৫৭ টাকা। তৃতীয় স্থানে কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) আসনের বিএনপির প্রার্থী জাকারিয়া তাহের, যার সম্পদ ২০৪ কোটি ৬২ লাখ ৯ হাজার ৪৩০ টাকা। এরপর লক্ষ্মীপুর-১ আসনের ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী মো. জাকির হোসেন পাটওয়ারী (১২৬ কোটি ৪৭ লাখ ৫৫ হাজার ৭৩৬ টাকা) এবং চাঁদপুর-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী মো. হারুনুর রশিদ (১১৮ কোটি ২৩ লাখ ৩৫ হাজার ৩৬৯ টাকা) অবস্থান করছেন। এছাড়া ফেনী-৩ (সোনাগাজী–দাগনভূঞা) আসনের বিএনপির প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর সম্পদ ১১৬ কোটি ৯০ লাখ ৮৯ হাজার ১৫৯ টাকার। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের হাতে নগদ পৌনে ৪ কোটি টাকা, মোট সম্পদ ৫৩ কোটি ১৬ লাখ টাকা এবং তিনি আয়কর দিয়েছেন ৩ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এমওএস/এমএএইচ/জেআইএম