রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার নয়াপাড়ায় অনুমোদনহীনভাবে পরিচালিত কসমেটিকস কারখানার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেছে প্রশাসন।বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ‘সাফা কসমেটিকস’ নামে ওই কারখানাটির বিভিন্ন গুরুতর অনিয়ম ধরা পড়ে। এ সময় প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ড দেয়া হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুঠিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিবু দাশ জানান, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই দীর্ঘদিন ধরে কারখানাটি ক্রিম ও লোশন উৎপাদন করে বাজারজাত করছিল। অভিযানের সময় দেখা যায়, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে নিম্নমানের কাঁচামাল ব্যবহার করে কসমেটিকস সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছিল। উৎপাদন প্রক্রিয়ায় মান নিয়ন্ত্রণের কোনো ব্যবস্থা ছিল না, ছিল না বিএসটিআই কিংবা ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদনও।অভিযানে কারখানায় ব্যবহৃত বিভিন্ন মেশিনারিজ, কাঁচামাল ও প্রস্তুতকৃত ক্রিম-লোশন জব্দ করা হয়। আরও পড়ুন: রাজশাহীতে দেখা নেই সূর্যের, শৈত্যপ্রবাহে জনজীবন বিপর্যস্তজব্দকৃত পণ্যগুলো পরীক্ষার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে বলে জানান ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তিনি বলেন, ‘অনুমোদনহীনভাবে কসমেটিকস উৎপাদন জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। এ ধরনের কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।’এদিকে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন ও নিম্নমানের কসমেটিকস ব্যবহারে ত্বকে অ্যালার্জি, চুলকানি, ফুসকুড়ি, ব্রণ ও বিভিন্ন ধরনের চর্মরোগ দেখা দিতে পারে। শুধু ত্বকই নয়, এসব পণ্য চোখে ব্যবহৃত হলে দৃষ্টিশক্তির ক্ষতির ঝুঁকিও রয়েছে। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে শরীরে ক্ষতিকর রাসায়নিক জমে ক্যানসারের মতো মারাত্মক রোগের আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না চিকিৎসকরা।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সাফা কসমেটিকসের পণ্যগুলো কম দামে বিভিন্ন হাটবাজার ও গ্রামীণ দোকানে বিক্রি হতো। আকর্ষণীয় মোড়ক ও ভেজাল বিজ্ঞাপনের কারণে অনেক সাধারণ মানুষ এসব পণ্য ব্যবহার করতেন।প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতেও অনুমোদনহীন খাদ্য ও কসমেটিকস উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে। জনস্বাস্থ্য রক্ষায় এ ধরনের কঠোর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও আশ্বাস দেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।