মাদারীপুরে যৌতুক মামলার জেরে ফাতেমা আক্তার নামে এক গৃহবধূর ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিন দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা না নেয়ায় পুলিশের বিরুদ্ধে গড়িমসির অভিযোগ উঠেছে। মামলা রেকর্ড না হওয়ায় ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন ভুক্তভোগী ও তার পরিবার।বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর পর্যন্ত থানায় মামলা রেকর্ড হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের হোসনাবাদ গ্রামের মোবারক গৌড়ার মেয়ে ফাতেমা আক্তারের সঙ্গে ২০২১ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি একই ইউনিয়নের সাবেক কালিকাপুর গ্রামের মৃত হাকিম গাছীর ছেলে রাহাত গাছীর (২৯) বিয়ে হয়। বিয়ের সময় বরপক্ষকে নগদ ৪ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও আসবাবপত্র দেয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের পরও শ্বশুরবাড়ির লোকজন বিভিন্ন সময় যৌতুকের দাবিতে ফাতেমার ওপর মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকে। যৌতুকের টাকা না দেয়ায় ফাতেমার বাবার বাড়ির ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে রাহাতের বড় ভাই রাসেল তাকে (রাহাতকে) সৌদি আরব পাঠিয়ে দেন। এরপর থেকে ফাতেমার ভাসুর রাসেল ও তার পরিবারের সদস্যরা যৌতুক দাবি অব্যাহত রাখেন। এর জেরে গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর ফাতেমার বাবার বাড়ি গিয়ে তাকে মারধর ও হুমকি দেয়া হয়। বাধ্য হয়ে চলতি বছরের ১ জানুয়ারি ফাতেমা আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বামী রাহাত ও ভাসুর রাসেলসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। আরও পড়ুন: মাদারীপুরে বন্ধ গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি, বিপাকে মানুষ মামলার খবর পেয়ে গত সোমবার সন্ধ্যায় শহরের পানিছত্র এলাকা থেকে নিজ বাড়িতে যাওয়ার পথে উকিলপাড়া এলাকায় ফাতেমার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীর। এ সময় ফাতেমার ডাক-চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। পরে আহত অবস্থায় তাকে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সদর মডেল থানায় রাসেল ও তার লোকজনের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী। তবে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত থানায় মামলাটি রেকর্ড হয়নি। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগ, পুলিশের পক্ষ থেকে বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। ভুক্তভোগী ফাতেমা আক্তার বলেন, ‘আমি আদালতে একটি যৌতুক মামলা করেছি, সেই জেরে আমার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়েছে। শ্বশুরবাড়ির লোকজন আমার মাথায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করেছে। আমি ন্যায়বিচার চাই। কিন্তু থানা পুলিশ এখনো মামলা নিচ্ছে না। আমি আবারও হামলার ভয়ে আছি।’ এ বিষয়ে মাদারীপুর সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি রাজধানী ঢাকায় মিটিংয়ে আছেন বলে জানান এবং পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ মহসিনের সঙ্গে কথা বলতে বলেন। তবে মোহাম্মদ মহসিনকে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি। মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) ফারিহা রফিক ভাবনা জানান, ‘হামলার খবর পেয়ে মেয়েটিকে হাসপাতালে দেখতে যায় সদর মডেল থানা পুলিশ। পরে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মেয়েটির পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। দেরিতে অভিযোগ পাওয়ায় বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’