আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ডেনমার্কের সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে বৈঠক করবেন। গ্রিনল্যান্ড দখল বা কেনা নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা বিশ্বজুড়ে বিতর্কের ঝড় তুলেছে। এই উত্তেজনা নিরসনে রুবিও ডেনমার্কের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন বলে জানিয়েছেন। শনিবার (৩ জানুয়ারি) ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি নজিরবিহীন অভিযান চালিয়ে দেশটির প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে স্ত্রীসহ বন্দি করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যায়। এই ঘটনার পরই ডেনমার্ক ও ইউরোপীয় মিত্রদের মধ্যে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, স্বায়ত্তশাসিত ড্যানিশ অঞ্চল গ্রিনল্যান্ডও একই ধরনের সামরিক হুমকির সম্মুখীন হতে পারে। ওয়াশিংটনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মার্কো রুবিও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসন ন্যাটোকে ঝুঁকিতে ফেলে সামরিক পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত কি না, সে বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা করা হবে। তিনি আরও জানান, প্রতিটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রয়েছে, তবে কূটনৈতিক সমাধানই প্রথম পছন্দ। গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরাই জরুরি বৈঠকের জন্য আবেদন করেছিলেন। বুধবার (৭ জানুয়ারি) সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে রুবিও বলেন, আমি আগামী সপ্তাহে ড্যানিশ প্রতিনিধিদের সঙ্গে দেখা করব। আমরা সেই বৈঠকেই বিস্তারিত আলোচনা করব। গ্রিনল্যান্ড কেনার পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে রুবিও নিশ্চিত করেন যে, এটি শুরু থেকেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য ছিল। তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট যদি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য কোনো হুমকি চিহ্নিত করেন, তবে যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো তিনিও সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার অধিকার রাখেন। তবে একজন কূটনীতিক হিসেবে আমরা সবসময় আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা করি, যেমনটা ভেনেজুয়েলার ক্ষেত্রে করা হয়েছিল। এর আগে মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) হোয়াইট হাউজ জানিয়েছিল, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই আর্কটিক দ্বীপটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার জন্য ট্রাম্প বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছেন। প্রয়োজনে সামরিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া হয়নি। তবে ইউরোপীয় দেশগুলো এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করে আসছে। ২০১৯ সাল থেকে ডোনাল্ড ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কৌশলের জন্য অপরিহার্য বলে দাবি করছেন। তার মতে, ডেনমার্ক যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না। উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক উভয়ই ন্যাটোর সদস্য। তাই গ্রিনল্যান্ড নিয়ে যে কোনো জবরদস্তি বা সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী মিত্রতার ভিত্তিতে বড় ধরনের ফাটল সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। তবে হতে যাওয়া বৈঠকটি কূটনৈতিক সমাধান ও সম্ভাব্য নিরাপত্তা কৌশল উভয়কেই কেন্দ্র করে এগোবে বলে আশাবাদী মার্কো রুবিও। সূত্র: বিবিসি, রয়টার্স এসএএইচ