গত কয়েক মাস ধরে আমদানি কমে যাওয়ায় ডিসেম্বরে আমদানি ঋণপত্র (এলসি) নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪ সালের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ১৪ শতাংশ কম। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বেসরকারি শিল্পখাতের স্থবিরতার কারণে ব্যাংকে এলসি কার্যক্রমে এই শূন্যতা তৈরি হয়েছে, যা কর্মসংস্থান বাজারের জন্যও উদ্বেগজনক।২০২৫ সালের ডিসেম্বরে আমদানির জন্য ঋণপত্র খোলা হয়েছে ৬ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। আর নিষ্পত্তি হয়েছে ৫ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার। মূলত অক্টোবর ও নভেম্বরে রমজান সামনে রেখে বেশি পরিমাণ এলসি নিষ্পত্তি হয়েছে। এই সময়ে ছোলা, ভোজ্যতেল ও খেজুরের মতো পণ্যের এলসি বেশি ছিল। ভোগ্যপণ্যের বাইরে শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে অংশগ্রহণ ধারাবাহিকভাবে কমছে। একই সঙ্গে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধি টানা ৭ শতাংশের নিচে অবস্থান করছে। শিল্পের কাঁচামাল ও মূলধনী যন্ত্রপাতির এলসি কমে যাওয়ায় কর্মসংস্থানের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আরও পড়ুন: রাজনৈতিক অস্থিরতা ও মার্কিন ট্যারিফের প্রভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে দেশের পোশাকখাত অর্থনীতি বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরনের স্থবিরতা সামগ্রিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অর্থনীতিবিদ ড. মাহফুজ কবির বলেন, আসন্ন মুদ্রানীতিকে নমনীয় হতে হবে। তা না হলে বিনিয়োগের চাহিদা বাড়বে না, অর্থনীতি সংকটে পড়বে ও ব্যাংকগুলোও অনেকটা মুখ থুবড়ে পড়বে।। বাংলাদেশ বর্তমানে একটি অত্যন্ত সংকটময় মুহূর্ত অতিক্রম করছে। এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, আগামী মৌসুমে বেসরকারি ও বিদেশি বিনিয়োগ অনেকটাই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর নির্ভর করবে। তবে মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় না নামা পর্যন্ত নীতি সুদের হার শিথিল না করার সিদ্ধান্তে অনড় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, মূল্যস্ফীতি ধীরে ধীরে কমলেও সেই গতি এখনও সন্তোষজনক নয়। গভর্নরের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী মূল্যস্ফীতি যদি ৭ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসে, তখনই সুদের হার কমানোর বিষয়ে চিন্তা করা হবে। এরই মধ্যে এলসি খোলা কমে যাওয়ায় ডলারের তারল্য ব্যবস্থাপনায় চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে তিন বিলিয়ন ডলারের বেশি কিনেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।