প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় শনিবার (১০ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো।কর্মী থেকে চেয়ারম্যান- দৈনিক মানবজমিনের প্রধান খবর এটি।রাজপথে আন্দোলনের মধ্যদিয়েই রাজনীতির হাতেখড়ি। মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে রাজপথে হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলন করেছেন। পরে বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে একজন সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন তিনি। দীর্ঘ ৭ বছর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় নির্যাতন, নিপীড়ন, গুম এবং হত্যার মধ্যেও দলকে তৃণমূল থেকে আরও বেশি সংগঠিত, শক্তিশালী, সুশৃঙ্খলভাবে গড়ে তুলেছেন। পরে নির্যাতনের শিকার হয়ে দীর্ঘ ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়েছেন। নেতৃত্ব দিয়েছেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনে। সামান্য কর্মী থেকে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক, সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন। গতকাল বিএনপি’র চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান তারেক রহমান। শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী তাকে এই পদে আসীন করার সিদ্ধান্ত হয়। এরমধ্যে দিয়ে চার দশকের বেশি সময় পর নতুন নেতা পেল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি। প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রতিষ্ঠিত এ দলের হাল ধরলেন তারই বড় ছেলে তারেক রহমান। যিনি লন্ডনে ১৭ বছরের নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে কিছুদিন আগেই দেশে ফিরেছেন।হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরশাসনবিরোধী আন্দোলনের সময় তারেক রহমান তার মা বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে রাজপথে আন্দোলনে যোগ দেন। ১৯৮৮ সালে দলের বগুড়া জেলার গাবতলী উপজেলা ইউনিটে সাধারণ সদস্য হিসেবে বিএনপিতে যোগদান করেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের সময় মায়ের সঙ্গে জেলায় জেলায় প্রচারে যোগদান করেন। ২০০১ সালের নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ২০০২ সালে তিনি বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক পদে মনোনীত হন। ২০০৯ সালের বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তিনি দলের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে তারেক রহমান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হন।গত ৪২ বছর বিএনপির নেতৃত্ব দিয়ে এসেছেন জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মৃত্যুতে তাদের বড় ছেলে তারেক রহমানের শীর্ষ পদে আসা দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী অবধারিতই ছিল। খালেদা জিয়া ২০১৮ সালে কারাগারে যাওয়ার পর প্রায় ৭ বছর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পদবী নিয়ে তারেক রহমান মূলত দল চালিয়ে আসছিলেন। মায়ের মৃত্যুর দুই সপ্তাহের মাথায় তাকে দলের শীর্ষ পদে বসানোর আনুষ্ঠানিকতা সারা হল।দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ খালেদা জিয়া রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩০ ডিসেম্বর ভোরে মারা যান। এরপর তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করতে বাকি ছিল কেবল দলের সর্বোচ্চ ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সিদ্ধান্ত। রাত ১০টা ৪০ মিনিটে স্থায়ী কমিটির বৈঠক থেকে বেরিয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম এ ঘোষণা দেন। তিনি বলেন, রাত ৯টায় দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় স্থায়ী কমিটির সভায় দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় সন্তোষ প্রকাশ করেছে এবং চেয়ারম্যান দল পরিচালনার ক্ষেত্রে যেন সফল হতে পারেন, সেজন্য স্থায়ী কমিটি দোয়া করেছে। ‘স্বৈরশাসক নিপাত যাক’ স্লোগানে উত্তাল ইরান- দৈনিক ইত্তেফাকের খবর এটি।ইরানে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট, লাগামহীন মূল্যস্ফীতি ও ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ আরও সহিংস রূপ নিয়েছে। দেশজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যকার সংঘর্ষে এ পর্যন্ত অন্তত ৪৮ জন নিহত হয়েছেন বলে মানবাধিকার সংস্থাগুলোর বরাতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে। রাজধানী তেহরানসহ বিভিন্ন শহরে হাজার হাজার মানুষ রাস্তায় নেমে 'স্বৈরশাসক নিপাত যাক' ও 'ইসলামি প্রজাতন্ত্রের পতন হোক'সহ নানা স্লোগান দিয়েসরকারবিরোধী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। বৃহস্পতি ও শুক্রবার ইরানের নির্বাসিত সাবেক যুবরাজ রেজা পাহলভির আহ্বানে তেহরানের একাধিক এলাকায় একযোগে বিক্ষোভ শুরু হয়। পরে এই আন্দোলন রাজধানী ছাড়িয়ে কোম, ইসফাহান, বন্দর আব্বাস, বোজনুর্দসহ বিভিন্ন বড় শহর ও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে। অনেক জায়গায় বিক্ষোভের সমর্থনে দোকানপাট ও বাজার বন্ধ হয়ে যায়। কোথাও কোথাও সাবেক শাহের পক্ষে স্লোগান শোনা যায় এবং আন্দোলনকারীরা একে ইসলামি শাসনের বিরুদ্ধে 'চূড়ান্ত লড়াই'এদিকে, বিক্ষোভ তীব্র আকার ধারণ করলে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের নেতৃত্বাধীন সরকার দেশজুড়ে ইন্টারনেট ও আন্তর্জাতিক টেলিফোন যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। একই সঙ্গে বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বহু মানুষ আহত হয়েছেন এবং দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাকটিভিস্টস নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, নিহতের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৪৮ ছাড়িয়েছে।সহিংসতা: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তেহরান ও ইসফাহানে পুলিশের মোটরসাইকেল, রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং (আইআরআইবি)- এর ভবন, গভর্নর অফিস, ব্যাংক ও বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় অগ্নিসংযোগের দৃশ্য দেখা গেছে। বিক্ষোভকারীরা বেশিরভাগ স্থানেই কোনো পুলিশি প্রতিরোধ ছাড়াই আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছে। বিনা বাধায় বিভিন্ন সরকারি স্থাপনায় ঢুকে তছনছ করছে। কোথাও আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও নিহত জেনারেল কাসেম সোলাইমানির ছবি সম্বলিত বিলবোর্ডেও আগুন দেওয়া হয়েছে। তবে ইন্টারনেট ও সংবাদমাধ্যমের ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ থাকায় এসব তথ্য স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি: এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ইরান সরকার যদি শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র 'খুব কঠোর' জবাব দিতে প্রস্তুত থাকবে। তাঁর এই মন্তব্যের পর মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান তার সামরিক বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রেখেছে এবং তেহরান জানিয়েছে, দেশের নিরাপত্তা বা ভূখন্ডে কোনো আঘাতকে তারা 'রেড লাইন' হিসেবে বিবেচনা করবে।বণিক বার্তা পত্রিকার আজকের শীর্ষ খবর- এলপিজি ভোগান্তির মধ্যেই ঢাকায় তীব্র গ্যাস সংকট।দেশে গ্যাস ও এলপিজি সংকটের মধ্যেই এবার তুরাগ নদের তলদেশে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পাইপলাইন। মালবাহী ট্রলারের আঘাতে গত বুধবার এটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে তীব্র গ্যাস সংকট। পরে এটি মেরামতকালে সঞ্চালন লাইনে পানি প্রবেশ করে। এতে নতুন করে সংকট তৈরি হয়।রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে গ্যাসের চাপ। কোথাও কোথাও একেবারেই গ্যাস নেই। বিশেষ করে আবাসিক এলাকা, ছোট শিল্পপ্রতিষ্ঠান, হোটেল-রেস্তোরাঁ ও বাণিজ্যিক গ্রাহকরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন।তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (টিজিটিডিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ৫০ পিএসআই চাপের পাইপলাইনটি দিয়ে রাজধানীর উত্তর ও পশ্চিমাংশের একটি বড় অংশে গ্যাস সরবরাহ হয়।এর আওতায় রয়েছে উত্তরা, টঙ্গী, মিরপুর, পল্লবী, ধানমন্ডি, মোহাম্মদপুর, আদাবর, সাভার ও আশুলিয়ার বিস্তীর্ণ এলাকা। এসব অঞ্চলের বহু আবাসিক ভবন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ছোট কারখানা ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান হঠাৎ করেই গ্যাসহীন হয়ে পড়েছে।কালের কণ্ঠ পত্রিকার শীর্ষ খবর- ভোট ঘিরে অর্থনীতিতে আশা।জাতীয় নির্বাচনের এক মাস আগে দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। কয়েক বছর ধরে চলা স্থবিরতা, বিনিয়োগ সংকট ও বেকারত্ব কমার প্রত্যাশা পূরণ না হলেও নির্বাচনকে ঘিরে বেসরকারি খাতে আস্থা কিছুটা ফিরছে।ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা মনে করছেন, নতুন রাজনৈতিক সরকার এলে নীতিগত স্থিরতা আসবে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়বে এবং অর্থনীতিতে গতি ফিরবে।সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, রেমিট্যান্সপ্রবাহ ভালো থাকায় বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে কিছুটা স্বস্তি এসেছে এবং ডলারের বাজারেও অস্থিরতা কমেছে। তবে মূল্যস্ফীতি আবার বাড়ছে, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে না, রাজস্ব আদায়ও কম।অর্থনীতিবিদদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার বড় ধরনের সংকট ঠেকাতে পেরেছে, কিন্তু টেকসই উন্নয়নের জন্য নির্বাচনের পর নতুন সরকারকে দ্রুত ও কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে হবে—এই প্রত্যাশাতেই এখন সবাই তাকিয়ে আছে ভোটের দিকে।সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার উদ্যোগ নিয়েছিল, তবে সেগুলোর বাস্তবায়ন ছিল ধীরগতির। এর মধ্যে ব্যাংক খাতের সংস্কার ছিল অন্যতম বড় পদক্ষেপ।এই উদ্যোগের ফলে রেমিট্যান্স ও রপ্তানি প্রবাহে উন্নতি হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্ত অবস্থানে গেছে এবং সম্ভাব্য বড় ধরনের অর্থনৈতিক বিপর্যয় এড়ানো সম্ভব হয়েছে, যা একটি উল্লেখযোগ্য অর্জন।প্রথম আলো পত্রিকার আজকের প্রথম পাতার খবর- বিএনপির চেয়ারম্যান হলেন তারেক রহমান।বিএনপির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পেলেন তারেক রহমান। গতকাল শুক্রবার রাতে দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ কথা জানানো হয়।বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে বৈঠক শেষে রাত সাড়ে ১০টার পর দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।তিনি বলেন, দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সভাপতিত্বে জাতীয় স্থায়ী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী ইতিমধ্যে তারেক রহমান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করায় স্থায়ী কমিটি সন্তোষ প্রকাশ করেছে।চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি যেন সফল হতে পারেন, সে জন্য সবাই দোয়া করেছেন।গত ৩০শে ডিসেম্বর বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মৃত্যু হয়। এর ১০ দিনের মাথায় বিএনপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে তারেক রহমানকে দলের সর্বোচ্চ পদে দায়িত্ব দেওয়া হলো। দ্য ডেইলি স্টার পত্রিকার আজকের খবর- Young voters poised to shape next election অর্থাৎ নির্বাচনে বড় ভূমিকা রাখতে প্রস্তুত তরুণ ভোটাররাভোটাধিকার যে নাগরিকের মৌলিক অধিকার—এ কথা শুনে বড় হলেও অনেক তরুণই দেখেছেন, বিতর্কিত ও প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনে সেই অধিকার কত সহজেই হারিয়ে যেতে পারে। তবে আগের তিনটি নির্বাচনের তুলনায় এবার পরিস্থিতি ভিন্ন। অভ্যুত্থান, সংস্কার আর ভোটের মূল্য ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশার মধ্যে দিয়ে একটি নির্বাচনের মুখোমুখি হচ্ছে দেশের তরুণ ভোটাররা।বাংলাদেশে বর্তমানে মোট ভোটারের প্রায় অর্ধেকই তরুণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরে এই তরুণ ভোটাররাই হতে পারেন সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তি।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী আয়শা তোফাইল বলেন, আসন্ন নির্বাচন তাকে নাগরিক হিসেবে নিজের ভূমিকা নতুন করে ভাবতে বাধ্য করছে। তার ভাষায়, ভোট শুধু দায়িত্ব নয়, তরুণদের জন্য এটি আশা ও বাস্তবতার সঙ্গে জড়িত একটি সিদ্ধান্ত।তিনি বলেন, ভোট দিলে দেশের ভবিষ্যৎ গঠনে অংশ নেওয়া যায় বলে তার বিশ্বাস। কর্মসংস্থান, শিক্ষার মান ও জীবনযাত্রার ব্যয়—এসব বিষয় তরুণদের ভাবনায় আছে। ভোট দেওয়ার মাধ্যমে তারা জানাতে চান, শাসনব্যবস্থা ও জবাবদিহিতা তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ।নির্বাচন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অনুভূতি শুধু ক্যাম্পাসে সীমাবদ্ধ নয়। কোটি কোটি তরুণ ভোটার এবার ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি জুলাই অভ্যুত্থানের পর প্রণীত চার্টার অনুযায়ী সম্ভাব্য সাংবিধানিক গণভোটেও তাদের সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।পরিসংখ্যান বলছে, তরুণ ভোটারদের প্রভাব কতটা বড়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার ছিলেন প্রায় ৮ কোটি ১১ লাখ। আর ২০২৫ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ভোটার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১২ কোটি ৭৭ লাখে, যার মধ্যে নারীর সংখ্যা ৬ কোটির বেশি। ১৭ বছরে ভোটার বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪ কোটি—যা নির্বাচনে তরুণদের শক্ত অবস্থানই তুলে ধরে।আজকের পত্রিকার শিরোনাম- জাতীয় সংসদ নির্বাচন: ৭৬% প্রার্থী উচ্চশিক্ষিত।জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে যাওয়া প্রার্থীদের অধিকাংশই উচ্চ শিক্ষিত। এর মধ্যে শতাংশের হারে সবচেয়ে এগিয়ে রয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির ৯৪ শতাংশ প্রার্থী স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী। বিএনপিতে এই হার ৮১ শতাংশের মতো। প্রার্থীদের মধ্যে মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরোয়নি বা 'স্বশিক্ষিত' ৮ শতাংশের ওপরে।তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সংসদ সদস্যরা উচ্চশিক্ষিত হলেই যে ভালো করবেন- বিষয়টি এমন নয়। বরং তাঁদের মধ্যে দেশ ও মানুষের ভালো করার মানসিকতা এবং সততা থাকা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জোবাইদা নাসরীন আজকের পত্রিকাকে বলেন, 'উচ্চশিক্ষিত হলেই সংসদ সদস্যরা ইতিবাচক পরিবর্তন আনবেন, এমনটি ধরে নেওয়া যায় না। অতীতে যারা দুর্নীতি ও ক্ষমতার চর্চা করেছেন, তাঁদেরও বড় অংশ উচ্চশিক্ষিত ছিলেন। একাডেমিক শিক্ষার চেয়ে ভালো মানুষ হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। তাই একাডেমিক সার্টিফিকেট দেখেই কারও যোগ্যতা বিচার করা ঠিক নয়।'