ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরিকদের জন্য ছেড়ে দেয়া ১৪টি আসনের অনেকগুলোতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন বিএনপির নেতারা। ফলে শরিক দলের প্রার্থীরা এক ধরনের বিব্রত এবং বিচলিত। তবে বিষয়টিকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন না তারা। আর বিদ্রোহী প্রার্থীদের দমিয়ে রাখতে তৎপর রয়েছে বলে দাবি বিএনপির।আসন সমঝোতায় বিএনপির সঙ্গে টানাপোড়েন দেখা দিয়েছিল যুগপৎ আন্দোলনের শরিকদের। এক পর্যায়ে ১৪টি আসনে ছাড় পায় সমমনা দলগুলো। তাদের চাহিদা অনুযায়ী প্রার্থী সরিয়ে নেয় সরকার বিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া বিএনপি। ১৪ আসনের মধ্যে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একাংশকে চারটি, গণতন্ত্র মঞ্চকে তিনটি, জাতীয় সমমনা জোটকে একটি ও গণ অধিকার পরিষদকে একটি আসন ছেড়েছে বিএনপি। এদিকে কৌশলগত কারণে দল বিলুপ্ত করে ও সংগঠন ছেড়ে বিএনপির নির্বাচনী মার্কা ধানের শীষ প্রতীকে লড়বেন আরও চারজন। তারা হলেন- লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা ড. রেদোয়ান আহমেদ, এনপিপির চেয়ারম্যান ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের (এনডিএম) চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের আরেকাংশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মুফতি রশীদ বিন ওয়াক্কাস। তবে কেন্দ্র থেকে ছাড় দিলেও নির্দেশনা অমান্য করে শরিকদের আসন থেকে মনোনয়নের অপেক্ষায় থাকা স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অনেকে হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। এদের মধ্যে কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থীও রয়েছেন। তবে এসব ঘটনায় দল থেকে এখন পর্যন্ত বহিষ্কার হয়েছেন ৯ জন। তারা হলেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক রুমিন ফারহানা, ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক সাইফুল আলম (নীরব), কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন, কমিটির সদস্য মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন, কমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহ আলম, কমিটির সদস্য আবদুল খালেক, কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ও বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের মহাসচিব তরুণ দে, সিলেট জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মামুনুর রশিদ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্চারামপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান। কেন্দ্র নির্দেশনা দেয়ার পরও শরিক দলের প্রার্থীদের অসহযোগিতার অভিযোগ উঠেছে বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। এরপরও নির্বাচন করায় কোনো চ্যালেঞ্জ দেখছেন না শরিক দলের নেতারা। আরও পড়ুন: নুরের আসনে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী, সুবিধাজনক অবস্থানে জামায়াত বিএনপির ঢাকা-১২ আসনে ছাড় পাওয়া প্রার্থী বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেন, ‘আমার আসনে যিনি আগে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ছিলেন, তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তিনি এরইমধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। এটা নিশ্চই কিছুটা অস্বস্তিকর, খানিকটা বিব্রতকর। সমঝোতা বিনষ্ট হলে ফলাফল যদি কোনো কারণে নেতিবাচক হয়, এটা বিএনপির জন্যই খুব বিব্রতকর হবে। পরবর্তীতে নির্বাচন, পার্লামেন্ট, সরকার গঠন কমবেশি সব জায়গায় ঝুঁকির মধ্যে পড়ে যেতে পারে।’ বিএনপির ছাড় পাওয়া আসন পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) এর প্রার্থী ও গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নুরুল হক নুর বলেন, ‘জোটের মিত্ররা তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছি। তিনি আমাদের আশ্বস্ত করেছেন। বলেছেন, বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন। তারেক রহমান যদি কোনে আসনের বিদ্রোহী প্রার্থীকে ডেকে কথা বলেন, তাহলে ওই প্রার্থী সরে যাবেন। আমার আসনে যিনি স্বতন্ত্রী প্রার্থী রয়েছেন, তিনি থেকে গেলেও আমি সেটাকে খুব চ্যালেঞ্জ মনে করি না। কারণ ওইটা বিএনপির আসন না। বিগত ৫০ বছরেও বিএনপি এই আসনে জয় পায়নি।’ এদিকে সমঝোতার আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে জানিয়ে গণতন্ত্রের স্বার্থে ধৈর্য ও সহনশীল হতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা। আরও পড়ুন: দয়া নয়, একটি সম্মানজনক আসন সমঝোতা হবে: সাইফুল হক বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘শরিক দলের আসনে বিএনপির যারা বিদ্রোহী হয়েছিল, এরই মধ্যে তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে। এইখানে বিদ্রোহী প্রার্থীর তো সুযোগ নেই। গণতান্ত্রিক অর্ডার ফিরিয়ে আনতে হলে আমাদের সবাইকে ধৈর্য ধরতে হবে। একটু সহনশীল হতে হবে। প্রয়োজনে অনেক জায়গায় স্যাক্রিফাইসও করা লাগবে।’