খুলনায় সম্পদে শীর্ষে আলী আসগর লবি

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রার্থীদের জমা দেয়া হলফনামা এখন সাধারণ মানুষের কৌতূহলের কেন্দ্রে। কে কত সম্পদের মালিক, আয়ের উৎস কী, কার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে— এসব তথ্য ঘিরে ভোটারদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। খুলনার ছয়টি সংসদীয় আসনের বিএনপি ও জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে উঠে এসেছে বিপুল সম্পদের মালিক যেমন রয়েছেন, তেমনি আবার সীমিত আয়ের প্রার্থীর ছবিও স্পষ্ট হয়েছে।সম্পদের হিসাব অনুযায়ী তালিকার শীর্ষে রয়েছেন খুলনা-৫ আসনের বিএনপির প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য আলী আসগর লবি। হলফনামা অনুযায়ী তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট পরিমাণ ৫৬ কোটি ৬৪ লাখ ৫৮ হাজার ২৫০ টাকা, যা খুলনার সব প্রার্থীর মধ্যেই সর্বোচ্চ। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৪৫ লাখ ১৫ হাজার ৬১০ টাকা।ব্যবসায়ী পরিচয় দেয়া এই প্রার্থীর বর্তমান মূল্যে অস্থাবর সম্পদ প্রায় ৫২ কোটি টাকা। এর মধ্যে রয়েছে কোটি টাকার বেশি নগদ অর্থ, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা অর্থ, সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে প্রায় ৪১ কোটি টাকার বিনিয়োগ, বিলাসবহুল গাড়ি, ইলেকট্রনিক সামগ্রী, আসবাবপত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র। পাশাপাশি তার নামে রয়েছে কয়েক কোটি টাকার বাড়ি ও জমি। স্ত্রীর নামেও উল্লেখযোগ্য সম্পদের তথ্য দিয়েছেন তিনি। যদিও নিজের ও স্ত্রীর নামে মিলিয়ে প্রায় ১৪ কোটি টাকার দায় দেখানো হয়েছে। তার বিরুদ্ধে থাকা ছয়টি মামলায় খালাস, প্রত্যাহার কিংবা কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে বলে হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন খুলনা-১ আসনের জামায়াত ইসলামীর প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী। হলফনামা অনুযায়ী তার মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২০ কোটি ৬৬ লাখ ২৯ হাজার ৯২৪ টাকা। পেশায় ব্যবসায়ী এই প্রার্থী নগদ অর্থ হিসেবেই দেখিয়েছেন ১৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া তার নামে রয়েছে একাধিক গাড়ি, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী ও আসবাবপত্র। স্থাবর সম্পদের মধ্যে কৃষি ও অকৃষি জমি এবং ডুমুরিয়ায় অবস্থিত তিনতলা পাকা বাড়ির তথ্য রয়েছে। ব্যবসা ও কৃষিখাত থেকে তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৬ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি ৩০ হাজার ৮০০ টাকা আয়কর দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য নেই।আরও পড়ুন: খুলনা-৩: বিএনপি প্রার্থীর চেয়ে তার স্ত্রীর সম্পদ বহুগুণ বেশিতৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন খুলনার সাবেক সংসদ সদস্য খুলনা-২ আসনের বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু। তার জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী, অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৭০ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৪০ লাখ টাকার। সব মিলিয়ে তার নিজ নামে সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১ কোটি ১০ লাখ টাকা। নগদ ও ব্যাংকে জমা মিলিয়ে তার অর্থ রয়েছে প্রায় ১৭ লাখ টাকা। তবে তার স্ত্রীর নামে অস্থাবর ও স্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় ৩ কোটির বেশি। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে মাত্র ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং সর্বশেষ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৫ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে থাকা ১১টি মামলায় খালাস ও অব্যাহতির তথ্য রয়েছে হলফনামায়।সবচেয়ে কম সম্পদের তালিকায় রয়েছেন খুলনা-৩ আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান। এমএসসি পাস এই শিক্ষক প্রার্থীর মোট স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ মাত্র ৯ লাখ ৭৩ হাজার ৪৩৯ টাকা। এর মধ্যে সঞ্চয়পত্র ও স্থায়ী আমানতে রয়েছে ৮ লাখ টাকার বেশি, একটি মোটরযান এবং অল্প পরিমাণ অকৃষি জমির তথ্য দিয়েছেন তিনি। তার বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ৮ লাখ ২৬ হাজার ৯০১ টাকা। সবশেষ অর্থবছরে তিনি আয়কর দিয়েছেন ৪ হাজার টাকা। তার বিরুদ্ধে থাকা ১০টি মামলায় খালাস ও অব্যাহতির কথা হলফনামায় উল্লেখ রয়েছে।সব মিলিয়ে খুলনার ছয়টি আসনের প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, অর্ধশত কোটি টাকার মালিক প্রার্থী যেমন রয়েছেন, তেমনি আবার লাখ টাকার সম্পদের প্রার্থীও একই নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।