তালপাতায় হাতেখড়ি ২০০ শিশুর

শীতের সকালে মিষ্টিরোদ গায়ে মেখে দাদী ও মায়ের সঙ্গে হাতেখড়ি উৎসবে এসেছিল শিশু আদিয়াত ফাইয়াজ। তালপাতায় ‘অ, আ, ক, খ’ লেখার আনন্দে মেতে ওঠে সে। আদুরে গলায় ফাইয়াজের অভিব্যক্তি ‘পাতায় অ-আ লিখেছি, আমার খুব আনন্দ লাগছে, আমি খুব খুশি।’ শুধু ফাইয়াজ নয়, প্রায় ২০০ শিশুকে নিয়ে এই ‘হাতেখড়ি উৎসব’ উদযাপন করেছে যশোর উদীচী পরিচালিত অক্ষর শিশু শিক্ষালয়। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে যশোরের ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠে এই হাতেখড়ি উৎসবের আয়োজন করা হয়। হাতেখড়ি উৎসবে আলোকিত মানুষ শিশুদের হাত ধরে তালপাতার ওপর লিখে তাদের বিদ্যা অর্জনের শুভসূচনা করেন। হাতেখড়ি উপলক্ষে শনিবার সকাল থেকেই ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ মাঠে বসেছিল শিশুমেলা। শিশুমেলায় স্বপ্রণোদিত হয়ে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক ও সমাজের বিভিন্ন শ্রেণিপেশার আলোকিত মানুষেরা। এ আলোকিত মানুষের হাত ধরেই আলোকিত জীবন গড়ার প্রত্যয় নিয়ে শিক্ষা জীবনের শুরুতে দেওয়া হলো হাতেখড়ি। ফারজানা বৃষ্টি নামে এক অভিভাবক বলেন, ‘আমার যমজ সন্তানকে নিয়ে এসেছি তালপাতার হাতে খড়ি দিতে। এটি প্রশংসিত ও ভিন্নধর্মী আয়োজন। এ ধরনের আয়োজন যশোরে কেউ করে না। ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এমন পরিবেশে পেয়ে খুব ভালো লাগছে। এমন আয়োজনের ধারাবাহিকতা থাকবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। যশোরের বৃহৎ পরিসরে এ আয়োজনে অভিভূত হয়েছেন অন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরাও। অতিথিদের জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় এ উৎসব। এরপর একে একে উদীচী শিশু শিল্পীদের সংগীত ও দলীয় নৃত্য পরিবেশন করা হয়। এরপর অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন গুণিজনেরা। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিক্ষাবিদ পাভেল চৌধুরী। তিনি বলেন, স্কুল জীবনে জ্ঞানার্জনের শুরুতে সার্বজনীন এমন আয়োজন উপস্থিত কোমলমতি শিশুদের অনুপ্রাণিত করবে। শিক্ষার শুরুতে শিশুদের নিয়ে এমন আয়োজন করায় উদীচীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। একই সঙ্গে এই ধরণের আয়োজনে ব্যক্তি উদ্যোগ ছাড়াও সরকারের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। অতিথিদের নিয়ে তালপাতায় লিখে শিশুদের হাতেখড়ি দেন, মুক্তিযোদ্ধা রবিউল আলম, যশোর কলেজের প্রাক্তন অধ্যক্ষ মুস্তাক হোসেন শিম্বা, ডা. আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জেএম ইকবাল হোসেন, যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, অক্ষর শিশু শিক্ষালয়ের অধ্যক্ষ শৈলেশ কুমার রায়, সাংবাদিক ও ইতিহাস গবেষক সাজেদ বকুল প্রমুখ। উদীচী যশোরের সভাপতি অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হিরু বলেন, গত ১৯ বছর ধরে এই হাতে খড়ি উৎসবের আয়োজন করা হচ্ছে। অতীতে আমাদের শিক্ষাগুরুরা নতুন শিক্ষার্থীদের হাতে খড়ির মধ্যে দিয়ে তার মঙ্গল কামনা করতো। উদীচী এই আদি সংস্কৃতি ধারণ করে, নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অতীতের সংস্কৃতিটা পৌঁছে দেওয়ার প্রয়াসের মাধ্যমে মঙ্গল কামনা করে। সর্বসাধারণের মধ্যে বিকশিত করতে এ উৎসব আয়োজনের প্রয়াস অব্যাহত থাকবে। মিলন রহমান/এমএন/এএসএম