প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেছেন, আমাদের দেশে বিজ্ঞান দীর্ঘদিন ধরে কেবল সাজসজ্জার উপকরণ হিসেবেই ব্যবহৃত হয়েছে; বাস্তব প্রয়োগের ক্ষেত্রে তা যথাযথ গুরুত্ব পায়নি। ঔপনিবেশিক আমল থেকেই বিজ্ঞান আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে মিশে যেতে পারেনি। অথচ দেশকে এগিয়ে নিতে হলে মানসম্মত ও বাস্তবমুখী গবেষণার কোনো বিকল্প নেই।শনিবার (১০ জানুয়ারি) সকালে ময়মনসিংহে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ)-এ আয়োজিত নেপ অনুষদ ও মাঠ পর্যায়ের গবেষকদের জন্য গবেষণা পদ্ধতির ওপর কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। কর্মশালায় প্রাথমিক শিক্ষা বিভাগের মাঠ পর্যায়ে গবেষণা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত কর্মকর্তা ও নেপ অনুষদ সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন। আরও পড়ুন: প্রাথমিকের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের জন্য সুখবর উপদেষ্টা আরও বলেন, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের শিক্ষিত করে তোলা। সে লক্ষ্য অর্জনে গবেষণা হতে হবে শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নমুখী ও সমস্যা সমাধানভিত্তিক। গবেষণার বিষয় নির্বাচন করতে হবে বাস্তব সমস্যার নিরিখে এবং তা কতটুকু কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারবে—সে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিতে হবে। ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার বলেন, দেশে প্রাথমিক শিক্ষা নিয়ে তেমন গবেষণা হয় না। যতটুক হয় তা জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মাধ্যমেই হয়। গবেষণা খাতে বাজেটও পর্যাপ্ত নেই। এখাতে বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি করতে হবে পাশাপাশি গবেষণালব্ধ ফলাফল বাস্তবে প্রয়োগ করতে হবে। জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভবনগুলো মেরামত ও নতুন ভবন নির্মাণ প্রকল্প চলমান রয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের কাজ চলছে। আরও পড়ুন: শিক্ষার্থীদের বৃত্তি নিয়ে কেইজার বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা এডুকেশনের চুক্তি সই জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির মহাপরিচালক ফরিদ আহমদের সভাপতিত্বে এ অনুষ্ঠানে অনলাইনে যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। এ সময় প্রশিক্ষণার্থী ও একাডেমির কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।