ইরানে বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে এবং চিকিৎসকরা জানিয়েছেন বেশ কয়েকটি হাসপাতালে জরুরি পরিষেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না এবং রোগীর চাপ সামলাতে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। শনিবার (১০ জানুয়ারি) বিবিসির খবরে এসব তথ্য জানানো হয়।একজন ডাক্তার বলেছেন যে, তেহরানের একটি চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিয়ে সংকট চলছে। অন্যদিকে বিবিসি অন্য একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে বার্তা পেয়েছেন যে, রোগীদের ভিড় সামলাতে তাদের পর্যাপ্ত সার্জন নেই। এদিকে, শুক্রবার, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরান ‘বড় সমস্যায়’ পড়েছে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানো উচিত হবে না, কারণ তোমরা না থামলে আমরাও আক্রমণ শুরু করব।’ আরও পড়ুন:ইরানে ‘সরকার পরিবর্তনে’ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে যুক্তরাষ্ট্র চরম আঘাত হানবে: ট্রাম্প অন্যদিকে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে লেখা এক চিঠিতে ইরান, বিক্ষোভকে ‘সহিংস নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড এবং ব্যাপক ভাঙচুর’-এ রূপান্তরিত করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।ইতিমধ্যে, আন্তর্জাতিক নেতারা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানিয়েছেন। শুক্রবারও কয়েক ডজন শহরে অব্যাহত থাকা সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে, দুটি মানবাধিকার গোষ্ঠী জানিয়েছে যে কমপক্ষে ৫০ জন বিক্ষোভকারী নিহত হয়েছেন। বিবিসি এবং অন্যান্য বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাকে ইরানের অভ্যন্তরে রিপোর্ট করতে নিষেধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে দেশটিতে প্রায় সম্পূর্ণ ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রয়েছে, যার ফলে তথ্য পাওয়া এবং যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়েছে।শুক্রবার রাতে স্টারলিংক স্যাটেলাইট ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিবিসির সাথে যোগাযোগ করা ইরানের একজন চিকিৎসক বলেন, তেহরানের প্রধান চক্ষু বিশেষজ্ঞ কেন্দ্র ফারাবি হাসপাতাল সংকটের মুখে পড়েছে, জরুরি পরিষেবাগুলো ব্যাপকভাবে বিপর্যস্ত।জরুরি নয় এমন ভর্তি এবং অস্ত্রোপচার স্থগিত করা হয়েছে বলে জানা গেছে এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় কর্মীদের ডাকা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর শিরাজের একটি হাসপাতালের একজন চিকিৎসকের কাছ থেকে বিবিসি একটি ভিডিও এবং অডিও বার্তাও পেয়েছে। চিকিৎসক জানান, বিপুল সংখ্যক আহত ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হচ্ছে এবং হাসপাতালে ভিড় সামলাতে পর্যাপ্ত সার্জন নেই। তিনি দাবি করেন যে আহতদের অনেকের মাথা এবং চোখে গুলি লেগেছে।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার কর্মী সংবাদ সংস্থা (এইচআরএএনএ) অনুসারে, ২৮ ডিসেম্বর থেকে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে কমপক্ষে ৫০ জন বিক্ষোভকারী এবং ১৫ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। ২,৩১১ জনেরও বেশি ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলেও জানিয়েছে সংগঠনটি। আরও পড়ুন:ইরানে বিক্ষোভে সহিংসতা: যুক্তরাজ্য, জার্মানি ও ফ্রান্সের উদ্বেগ এদিকে, শুক্রবার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি অটল থেকে বলেন, কয়েক লক্ষ সম্মানিত মানুষের রক্তের বিনিময়ে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ক্ষমতায় এসেছে এবং যারা এটি অস্বীকার করে তাদের সামনে তারা পিছু হটবে না।’