দেশের মানুষের জন্য নিজের কর্মপরিকল্পনা সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি— মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করি। শনিবার (১০ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনের গ্র্যান্ড বলরুমে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে এ পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন তিনি। তারেক রহমান বলেন, ‘‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে। ২৫ ডিসেম্বর দেশে এসে আমি বলেছিলাম, যেমন ৬২ বছর আগে মার্টিন লুথার কিং বলেছিলেন ‘আই হ্যাভ এ ড্রিম’, আমি বলেছিলাম ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’।’’ ‘সেই পরিকল্পনার একটি অংশ হলো দেশের নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড। প্রতিটি নারী— যেমন গৃহিণী—একটি করে কার্ড পাবেন। কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয়, বরং ৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেওয়া হবে এবং এ সময়ে তাদের সহায়তা দেওয়া হবে। প্রতিটি পরিবার এক কার্ড পাবেন। ফ্যামিলি কার্ডের লক্ষ্য হলো নারী সমাজকে সুসংগঠিত ও সশক্ত করা। আমাদের হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ৪ কোটি পরিবার আছে এবং পরিবারে গড়ে ৫ জন সদস্য ধরা হয়েছে।’ চেয়ারম্যান হিসেবে গত রাতে দায়িত্ব গ্রহণের পর তারেক রহমানের দিনের প্রথম কর্মসূচি শুরু করেন সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে। দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ প্রধানসহ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকরা এই অনুষ্ঠানে যোগ দেন। চেয়ারম্যান হিসেবে শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাতে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান আজ দিনের প্রথম কর্মসূচি হিসেবে সাংবাদিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। অনুষ্ঠানে দেশের জাতীয় দৈনিকের সম্পাদক, ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার শীর্ষ সাংবাদিকসহ সিনিয়র সাংবাদিকরা অংশ নেন। ‘সামনে চ্যালেঞ্জ অনেক’বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, “একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার কাছে মনে হয়, সামনে আমাদের অনেক কঠিন চ্যালেঞ্জ রয়েছে। আমাদের মধ্যে বিভিন্ন মতপার্থক্য আছে। আজ আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে সব রাজনৈতিক দলের সদস্য ও সমাজের সব মানুষের কাছে বিনীত আহ্বান জানাতে চাই, যাতে আমরা আমাদের পার্থক্যগুলো আলোচনা ও আলাপের মাধ্যমে সমাধান করতে পারি। আমাদের যে কোনো মূল্যে ডেমোক্রেটিক প্রসেস চালু রাখতে হবে এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে— জাতীয় পর্যায়ে হোক বা স্থানীয় পর্যায়ে, যেমন ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা কোনো ট্রেড বডির নির্বাচন। আমার বিশ্বাস, যদি আমরা গণতান্ত্রিক প্রসেস অব্যাহত রাখি, শুরুতে যতই কঠিন আসুক না কেন, এক সময় আমরা অবস্থার পরিবর্তন ঘটাতে সক্ষম হবো।’ ‘আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি’তারেক রহমান বলেন, “কাউকে আঘাত না করে আমি বলতে চাই, কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-সদস্যকে লক্ষ্য করে নয়, বরং আমি আমার চিন্তাভাবনা সবার সামনে তুলে ধরছি। আসুন দেশের মানুষের জন্য কাজ করি— মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারীর অধিকার ও ক্ষমতায়ন, কর্মসংস্থান ও নিরাপদ জীবনযাপন নিশ্চিত করি। আমরা দীর্ঘদিন ধরে রিফর্ম বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেছি। সেই রিফর্মের মধ্যে রয়েছে তিনটি অংশ—সাংবিধানিক বিষয়, আইনগত বিষয় এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা। সাংবিধানিক ও আইনগত বিষয় নিয়ে আমরা যথেষ্ট আলোচনা করেছি, কিন্তু মানুষের দৈনন্দিন চাহিদা ও প্রয়োজন—যেমন চিকিৎসা, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, নিরাপদ জীবন—নিয়ে আলোচনা তুলনামূলকভাবে কম হয়েছে। আমার মনে হয়, এসব বিষয় নিয়ে প্রত্যেক রাজনৈতিক দলের আরও আলাপ-আলোচনা হওয়া উচিত। শুধু রাজনৈতিক বিষয় নিয়ে সেমিনার, সিম্পোজিয়াম বা বিতর্ক যথেষ্ট নয়। মানুষের দৈনন্দিন জীবন, নিরাপত্তা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থান নিয়ে আরও পরিকল্পনা ও চিন্তাভাবনা প্রয়োজন।” ‘নির্বাচনি প্রচারণায় মাঠে নামবেন ২২ জানুয়ারি’তারেক রহমান বলেন, ‘সামনে নির্বাচন আসছে, এবং আমি একজন রাজনৈতিক দলের সদস্য হিসেবে ২২ জানুয়ারি থেকে আমাদের সব পরিকল্পনা নিয়ে জনগণের কাছে যাবো।’ ‘আলোচনা-সমালোচনা দুইটাই চাই’‘আলোচনা ও সমালোচনা— দুটোই চাই। ইনশাল্লাহ, দেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে সরকার গঠনে সক্ষম হলে আপনারা যে ধরনের আলোচনা ও সমালোচনা করবেন, তা আমাদের দেশকে সামনে এগিয়ে নিতে সাহায্য করবে।’ ‘শুধু সমালোচনা সমালোচনা করার জন্য নয়। আপনাদের কাছ থেকে এমন সমালোচনা আমরা পাই যাতে আমরা দেশের মানুষের যে সমস্যাগুলো আছে সেই সমস্যাগুলো যাতে আমরা সমাধান করতে সক্ষম হই। আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে সেই প্রত্যাশা আপনাদের কাছে রাখছি।” ‘আমরা ৫ আগস্টে ফিরে যেতে চাই না’তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের সমস্যা ছিল, আমাদের সমস্যা আছে। অবশ্যই আমরা ৫ই আগস্টের আগে ফিরে যেতে চাই না। আমি আমার অবস্থান থেকে যদি চিন্তা করি, আমার এক পাশে ১৯৮১ সালের একটি জানাজা। একই সঙ্গে আমার এক পাশে ২০২৫ সালের ৩১শে ডিসেম্বরের একটি জানাজা আর আমার আরেক পাশে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের একটি ঘটনা। কাজেই আমার মনে হয় এটি শুধু বোধহয় আমার একার জন্য নয়।” ‘যারা আমার দলের নেতাকর্মী সদস্য এবং সামগ্রিকভাবে পুরা দেশের মানুষের সামনে বোধহয় এই দুটি উদাহরণ বাদ বিবেচনা করার জন্য সবচাইতে ভালো উদাহরণ যে, আসলে ৫ই আগস্টে ফিরে যাওয়ার কোনই কারণ নেই আমাদের।” ‘মতপার্থক্য যেন মতবিভেদে না যায়’তারেক রহমান বলেন, ‘হিংসা, প্রতিশোধ, প্রতিহিংসা, একটি মানুষ, একটি দল বা যেভাবে আমরা বিবেচনা করি তার পরিণতি কী হতে পারে আমরা দেখেছি ৫ আগস্ট। আমি সেজন্যই সকলকে অনুরোধ করব দলমত নির্বিশেষে আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকবে কিন্তু আমরা যদি চেষ্টা করি তাহলে সেই মতপার্থক্যটাকে মতপার্থক্যের মধ্যে রেখে আলোচনার মাধ্যমে সেটির অনেক সমস্যার সমাধান হয়ত আমরা বের করে আনতে সক্ষম হব।” ‘‘কিন্তু কোনোভাবেই সেটি যাতে মতবিভেদের পর্যায়ে চলে না যায়। মতবিভেদ হলে বিভেদ হলে জাতিকে বিভক্ত করে ফেললে কী হতে পারে আমরা দেখেছি। আজকে সেজন্যই অনেকের মুখে অনেক কথা শুনি, হতাশার কথা আমরা শুনি কিন্তু তারপরও আশার কথা হচ্ছে যে, তাদের কাছে ভবিষ্যতের চিন্তাও আছে, ভবিষ্যতের পরিকল্পনা আছে।’ ‘দেশে কী হয়েছে আমি জানি’তারেক বলেন, ‘আমি দেশে অনেক দিন থাকতে পারিনি কী কারণে সে প্রসঙ্গে আপনাদের কম বেশি ধারণা আছে। তবে সারাক্ষণই দেশের সঙ্গে আমার যোগাযোগ ছিল। দেশের মানুষের সঙ্গে কী হয়েছে? এখানে মাহমুদুর রহমান (আমার দেশ সম্পাদক) সাহেব বলেছেন একটি উদাহরণ দিয়ে, উনার প্রতি পূর্ণ সম্মান রেখেই আমি বলতে চাইছি, উনার সঙ্গে উনার রক্ত মাখা ছবি এখনো আমার চোখের সামনে ভাসে। কাজেই উনার সঙ্গে কী হয়েছে আমি যেমন জানি, রুহুল আমিন গাজী (ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রয়াত সভাপতি) সাহেবের সঙ্গে কী হয়েছে যেভাবে উনি মৃত্যুবরণ করেছেন জেলের মধ্যে সেটি আমি জানি। সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে আমার ৬০ লক্ষ নেতাকর্মী এবং তার থেকে আরেকটি হৃদয় বিদারক আমার জন্য হচ্ছে সেটি হচ্ছে, আমার মায়ের সঙ্গে কী হয়েছে।” ‘নতুন প্রজন্ম দিকনির্দেশনা চায়’তারেক বলেন, ‘আমার দেশে ফিরে আসার পরে আমি যে কয়বার আমার বাইরে যাওয়ার একটু বেশি সুযোগ হয়েছে… আমি সাভারে গিয়েছিলাম আরও কয়েকটি জায়গায় গিয়েছিলাম আমার কাছে মনে হয়েছে নতুন প্রজন্ম একটি গাইডেন্স চাইছে, নতুন প্রজন্ম একটি আশা দেখতে চাইছে। শুধু নতুন প্রজন্ম না আমার কাছে মনে হয়েছে প্রত্যেকটি প্রজন্মই মনে হয় কিছু একটি গাইডেন্স চাইছে।” ‘আমরা যারা রাজনীতিবিদ করি আমাদের কাছে হয়ত অনেক প্রত্যাশা। সব প্রত্যাশা হয়তবা পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু আমরা রাজনীতিবিদরা যদি ১৯৭১ সাল, ১৯৯০ সাল, ২০০৪ এর ২৪ সালের ৫ আগস্ট এই সবগুলোকে আমাদের সামনে রেখে আমরা যদি দেশের স্বাধীনতা দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য কাজ করি তাহলে নিশ্চয়ই আমার কাছে মনে হয় একজন রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা জাতিকে একটি সঠিক ডাইরেকশনে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।” যুক্তরাজ্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘একটি ছোট ঘটনা আপনাদের সামনে আমি তুলে ধরতে চাই। আমাকে চিকিৎসার জন্য এ দেশ থেকে ২০০৮ সালে চলে যেতে হয়েছিল যুক্তরাজ্যে। ২০০৮ সালে যাবার পরে ২০১০ সালে সেখানে প্রথম একটি নির্বাচন আমি দেখেছিলাম। যেহেতু সেটি নির্বাচন ছিল স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমার একটি ইন্টারেস্ট ছিল…. টিভির সামনে বসে আমি ডিবেট দেখছিলাম। সেখানে দুটি মেইন দলের নেতার মধ্যে লেবার এবং কনজারভেটিভ দলের মধ্যে এই ডিভেট। অনেকদিন ধরে লেবার ছিল. ২০১০ সালের নির্বাচনে কনজারভেটিভ আসে তো দুই দলের দুই নেতার মধ্যে একটি আলোচনা হচ্ছিল।” ‘খুব দুঃখজনক হলো বাংলাদেশ বাদই দিলাম শুধু ঢাকা শহরের মধ্যেই কোনো অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নেই। গত ৫৪/৫৫ বছরে আমরা মানুষের চিকিৎসা সেবার জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস গড়ে তুলতে সক্ষম হইনি, এটি খুব দুঃখজনক ব্যাপার। এই অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস নিয়ে ওই দুই নেতার মধ্যে তখন কথা হচ্ছিল। যতটুকু আমার মনে আছে তখন ইমার্জেন্সির জন্য অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস কল করলে ২০ মিনিটের মতো সময় লাগত অ্যাম্বুলেন্স আসতে। একজন বলছে, ২০ মিনিট লাগে এটাকে আমরা ১৯ মিনিটে নিয়ে আসবো। আরেকজন বলছিল ২০ মিনিট লাগে এটাকে আমরা ১৫ মিনিটে নিয়ে আসবো। অর্থাৎ একজন এক মিনিট কমাচ্ছে একজন ৫ মিনিট কমাচ্ছে। এ কাজটি তারা তাদের জনগণের জন্যই করতে চাইছে।’ কৃষকদের অবস্থা তুলে ধরে তারেক বলেন, ‘কৃষকদের বিভিন্ন অসহায়ত্বের নিউজ আপনাদের সংবাদপত্রে প্রকাশ হয় বিভিন্ন সময়ে আপনাদের খবরে প্রকাশিত হচ্ছে বিভিন্ন সময়ে সেটি ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হোক সেটি মেইন মিডিয়া প্রিন্টেড মিডিয়াতেই হোক প্রকাশিত হয়েছে। আমার বিগত সরকারের কথা বলব, আমার দলের বিগত সরকারের কথা বলব সেই সরকার বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’ ‘এত বিপুলসংখ্যক কৃষক যারা ২০ কোটি মানুষের খাওয়ার ব্যবস্থা করছে, অন্নের সংস্থান করছে সেই এত বড় সমাজটাকে কীভাবে সাপোর্ট দেওয়া যায়? তাদের হয়ত সেভাবে বলার সুযোগ নেই। এখানে আপনারা সংবাদপত্রের যারা কর্মী আছেন আপনাদের কিছু সমস্যার কথা বলেছেন, আপনাদের সমস্যাটা আমাদের জন্য শুনতে জানতে সহজ হয় কারণ আমাদের জন্য একটা ভেন্যু আছে যেখানে আমরা আলাপ করতে পারি। কিন্তু ওই কৃষকগুলো যাদের কোনো ভেন্যু নেই যারা এরকম একটা প্রোগ্রাম অর্গানাইজ করতে পারছে না তারা কীভাবে বলবে কথাগুলো? কাজেই তাদের কথা তো আমাদের জানতে হবে।’ নারীদের শিক্ষার প্রসার এবং শিক্ষিত নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ফ্যামিলি কার্ড চালুর কথা তুলে ধরেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে ইনশাল্লাহ জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আমরা সরকার গঠনে সক্ষম হলে আমাদের একটি পরিকল্পনা রয়েছে এই নারীরাই শিক্ষিত হয়েছে এদেরকে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা। আমি যে ফ্যামিলি কার্ডটি বলেছিলাম সেটি লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য হচ্ছে সেটাই এই নারী সমাজকে গড়ে তোলা। আমাদের হিসাব মতে বাংলাদেশে ৪ কোটি ফ্যামিলি আছে। আমরা যদি পরিবার হিসেবে ভাগ করি অ্যাভারেজে একটি পরিবারে ৫ জন করে সদস্য ধরা হয়েছে। ” ‘‘আমরা এই ফ্যামিলি কার্ডটি আপনাদের সামনে একটু তুলে ধরতে চাইছি আমাদের পরিকল্পনাগুলো। কারণ এখানে একজন সাংবাদিক উল্লেখ করেছেন যে ২৫ তারিখে যখন আমি দেশে এসে একটি কথা বলেছিলাম, মার্টিন লুথার কিং এর যেমন ৬২ বছর আগে বলেছিলেন আই হ্যাভ এ ড্রিম। আমি বলেছিলাম আই হ্যাভ এ প্ল্যান সেই প্ল্যানের মধ্যে একটি অংশ আছে বাংলাদেশের যে হাফ পপুলেশন নারী তাদেরকে ঘিরে। সেটি হচ্ছে ফ্যামিলি কার্ড। ফ্যামিলি কার্ড যে নারী পাবে সেটি সে সারাজীবন পাবে একজন গৃহিণী বা একজন হাউস ওয়াইফ যে পাবেন কার্ডটি সারাজীবনের জন্য নয়…৫ থেকে ৭ বছরের জন্য দেব, এই ৫ থেকে ৭ বছর তাকে আমরা একটা সাপোর্ট দেওয়ার চেষ্টা করব। সবাই এক কার্ড পাবেন।” ‘দুর্নীতি কমানো’তারেক রহমান বলেন, ‘করাপশনটাকে যাতে একটা স্প্রেড না করে, করাপশনটা যাতে স্বাভাবিক একটা পর্যায়ে থাকে।” ‘কিছু তো এনোমেলিজ হতে পারে সেটি আমরা গ্রাজুয়ালি ঠিক করবো। ‘জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ’তারেক রহমান বলেন, ‘আরেকটি ভয়াবহ পরিস্থিতি হচ্ছে যে, আমাদের জনসংখ্যা যেভাবে বাড়ছে। আমরা যদি সৌদি আরব বা কুয়েতের সবগুলো তেল খনিও এখানে নিয়ে আসি তাহলে হয়তো আমরা এই এত রিসোর্স দিয়ে আমরা এত মানুষের সমস্যা সমাধান করতে পারব না।” ‘সেজন্য আমাদের অবশ্যই পপুলেশন কন্ট্রোলে যেতে হবে। আমাদের দেশের জনসংখ্যাকে সীমাবদ্ধতার মধ্যে আনতে হবে এবং সেজন্য এই হেলথ কেয়ার যে নিয়োগ হবে এই হেলথ কেয়ারের শতকরা ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ। এক লাখের মতো আমাদের টার্গেট নিয়োগ করা। এই হেলথ কেয়ারের ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আমরা নারী কর্মীকে নিয়োগ করতে চাই যাতে নারী কর্মীরা গিয়ে ঘরে ঘরে বোঝাতে সক্ষম হন যে, কী জন্য প্রয়োজন হাইজিন মেইনটেইন করা এবং পরিবারকে সুস্থ রাখা, একই সঙ্গে পরিবারকে এক একটি রিজনেবল সাইজের মধ্যে রাখা পরিবারের সদস্য সংখ্যা।’ কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ড, সবার জন্য চিকিৎসা সুবিধা, তরুণ সমাজের কর্মসংস্থানের জন্য ভোকেশনাল টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউশন আধুনিকায়ন এবং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলা, আইটি সেক্টর, উদ্যোক্তা তৈরি করা; আইটি পার্কগুলোকে নতুনভাবে সুবিধা দিয়ে গড়ে তোলা; কন্টেন্ট তৈরির কাজে বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা দূর করে আরও সহজ করা, এ অনুষ্ঠানে সম্পাদকদের মধ্যে যায় যায় দিনের শফিক রেহমান, ডেইলি স্টারের মাহফুজ আনাম, মানবজমিনের মতিউর রহমান চৌধুরী, দৈনিক ইনকিলাবের এএমএম বাহাউদ্দিন, আমার দেশের মাহমুদুর রহমান, নিউএজের নূরুল কবির, যুগান্তরের আবদুল হাই শিকদার, সংবাদের আলতামাশ কবির, ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের শামসুল হক জাহিদ, দৈনিক সমকালের শাহেদ মোহাম্মদ আলী, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের ইনাম আহমেদ, কালের কণ্ঠের হাসান হাফিজ, বাংলাদেশ প্রতিদিনের আবু তাহের, প্রতিদিনের বাংলাদেশ এর মারুফ কামাল খান সোহেল, দেশ রূপান্তরের কামাল উদ্দিন সবুজ, নয়াদিগন্তের সালাহ উদ্দিন বাবর, বনিক বার্তার হানিফ মাহমুদ, ডেইলি সানের মো. রেজাউল করিম, সুরমা‘র (লন্ডন) শামসুল আলম লিটন, কালবেলার সন্তোষ শর্মা, আজকের পত্রিকার কামরুল হাসান, খবরের কাগজের মোস্তফা কামাল, মানবকণ্ঠের শহীদুল ইসলাম, দেশ বার্তার সালেহ বিপ্লব, নিউ নেশনের মোকাররম হোসেন প্রমুখ ছিলেন। নয়াদিগন্তের মাসুমুর রহমান খলিলী, প্রথম আলোর সাজ্জাদ শরীফ, সময়ের আলো‘র সৈয়দ শাহনাজ করিম, জনকণ্ঠের খুরশীদ আলম, বাংলাবাজার পত্রিকার রাশেদুল হক, যুগান্তরের এনাম আবেদীন, টাইম অব বাংলাদেশ-এর ইলিয়াস খান, আমাদের সময়ের নজরুল ইসলাম, দৈনিক নাগরিক সংবাদের সুমন প্রামানিক, দিকপালের সম্পাদক শাহীন রাজা, নাগরিক প্রতিদিন হাসনাইন খরশীদ প্রমুখ ছিলেন। ছিলেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী, বাসসের চেয়ারম্যান আনোয়ার আল দীন, প্রধান সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ, ইউএনবির প্রধান সম্পাদক এনায়েত উল্লাহ খান, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, জাগো নিউজের সম্পাদক জিয়াউল হক, বাংলা নিউজের সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম মিন্টু, ঢাকা স্টিমের সম্পাদক ইফতেখার মাহমুদ, ঢাকা মেইলের সম্পাদক হারুন জামিল, ঢাকা ট্রিবিউনের সম্পাদক জাফর সুবহান, ঢাকা পোস্টের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক কামরুল ইসলাম। বিবিসির সম্পাদক সাব্বির মোস্তফা, বিশেষ প্রতিনিধি কাদির কল্লোল, আল জাজিরার তানভীর চৌধুরী, রয়টার্সের রুমা পাল, এএফপির শেখ সাবিহা আলম প্রমুখ ছিলেন। বাংলাদেশ টেলিভিশনের মহাপরিচালক মাহবুব আলম, জেনারেল ম্যানেজার নুরুল আজম পবন, বাংলাদেশ বেতারের মহাপরিচালক জেডএম জাহেদুর রহমান, বেসরকারি টেলিভিশনের মধ্যে রয়েছেন সময় টিভির জুবায়ের আহমেদ, চ্যানেল আইয়ের শাইখ সিরাজ, বাংলা ভিশনের আবদুল হাই সিদ্দিকী, এনটিভির ফখরুল আলম কাঞ্চন, মোস্তফা খন্দকার, ইটিভির আবদুস সালাম, যমুনা টিভির ফাহিম আহমেদ, ডিবিসির লোটন একরাম, একাত্তর টিভির শফিক আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের মহাসচিব কাদের গণি চৌধুরী, সিনিয়র সাংবাদিক মোস্তফা কামাল মজুমদার, আবদুল আউয়াল ঠাকুর, এম এ আজিজ, নুরু উদ্দিন নুরু, একেএম মহসিন, শাহেদুল ইসলাম চৌধুরী, খাজা মাইন উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম রনি, হাফিজুর রহমান, গিয়াস উদ্দিন রিপন, হাফিজুর রহমান সরকারসহ বিভিন্ন পত্রিকার সিনিয়র সাংবাদিকরা। অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সালাহউদ্দিন আহমদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপন, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আবদুস সালাম, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমীন, মিড়িয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমার রুমন, শাম্মী আখতার, শায়রুল কবির খান, আবু সায়েম, বিএনপির সাইমুম পারভেজ, শামসুদ্দিন দিদার, চেয়ারম্যানের একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার এবং চেয়ারম্যানের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামসুল ইসলাম ছিলেন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল ও চেয়ারম্যানের প্রেস সচিব সালেহ শিবলী। অনুষ্ঠানে সম্পাদক ও সিনিয়র সাংবাদিকরা বক্তব্য দেন। কেএইচ/এমএএইচ/এএসএম