আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ সামনে রেখে ব্রাজিল জাতীয় দলে ফিরতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন নেইমার। জানিয়েছেন তার বাবা নেইমার দ্য সিলভা সান্তোস। হাঁটুর অস্ত্রোপচার শেষে নেইমার এখন পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে আছেন বলেও জানান তিনি।বিশ্বকাপ নিয়ে জোর প্রস্তুতি চলছে ব্রাজিলের। আসর শুরুর ঠিক দুই মাস আগে হট ফেবারিট ফ্রান্স আর ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে খেলে নিজেদের সক্ষমতার পরীক্ষাও দেবে সেলেসাওরা। গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ ঘিরে যখন এত পরিকল্পনা বিশ্বের সবচেয়ে সফল দলটির, তখন কোথায় আছেন তাদের পোস্টার বয় নেইমার?কদিন আগে কার্লো অ্যানচেলত্তি বেশ স্পষ্টভাষায় বলে দিয়েছেন তার দলে নেইমারেরর অবস্থান কোথায়! অবশ্য বিষয়টা শুধু নেইমারের বেলায় না, ফিটনেসের বাইরে থাকা সবাইকে সতর্ক করেছেন ইতালিয়ান কোচ। তার দলে আনফিট কারো জায়গা নেই, সে যতবড় তারকাই হোক না কেন!বিষয়টা বেশ সিরিয়াসলি নিয়েছেন নেইমার জুনিয়র। ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে সর্বোচ্চ ফিট হতে চলছে তার জোরেশোরে প্রস্তুতি। গেল ২২ ডিসেম্বর ব্রাজিল জাতীয় দলের চিকিৎসক রদ্রিগো লাসমারের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন হয় তার অস্ত্রোপচার। পূনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্যে থাকা এই তারকা ফুটবলার কঠোর পরিশ্রম করছেন ব্রাজিল স্কোয়াডে জায়গা পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে।আরও পড়ুন: নেইমারের চোখে ‘বিশ্বসেরা’ মিডফিল্ডার আর্দা গুলারহাঁটুর মিনিসকাসের সমস্যা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরেই ভুগছিলেন নেইমার। এ জন্য বেশ কিছুদিন আগেই ছুরিকাঁচির নিচে যাওয়ার কথা ছিল তার। তবে সান্তোসকে রেলিগেশন থেকে বাঁচাতে অস্ত্রোপচার পিছিয়ে দিয়ে মৌসুমের শেষ ম্যাচগুলোয় মাঠে নামেন তিনি। শেষ চার ম্যাচে ৫টি গোলসহ করেছেন অ্যাসিস্ট। তার এই ডেডিকেশনে নেইমারের সঙ্গে চুক্তি বাড়ায় সান্তোস।নেইমার এখন জাতীয় দলে ফেরার আশায়। তার বাবা বলেছেন, ‘সাম্প্রতিক ইনজুরির ধাক্কায় নেইমার ফুটবল থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল। তবে সেই মানসিকতা কাটিয়ে এখন বিশ্বকাপের দিকেই পূর্ণ মনোযোগ। চলতি সপ্তাহের শুরুতে সান্তোসের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ আরও এক মৌসুম পর্যন্ত বাড়িয়েছে।’এদিকে মাত্র দুই সপ্তাহ হলো নেইমারের পায়ে অস্ত্রোপচার করা হলেও এরইমাঝে জিম শুরু করে দিয়েছেন। বা-হাঁটুর শক্তি বাড়ানোর জন্য বিশেষ কিছু ব্যায়াম করছেন। সব কিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারির মাসের শেষের দিকে ব্রাজিলিয়ান সেরি এ’তে সান্তোসের হয়ে মাঠে দেখা যেতে পারে তাকে।দুই বছরের বেশি সময় ধরে জাতীয় দলের বাইরে নেইমার। ২০২৩ সালের অক্টোবরে বিশ্বকাপ বাছাই চলার সময় এসিএল এবং মিনিসকাস ছিঁড়ে যাওয়ায় আর মাঠে নামা হয়নি তার। দেশের হয়ে ১২৮টি ম্যাচ খেলে ৭৯ গোল নিয়ে বর্তমানে তিনি ব্রাজিলের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা।