প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানায় করা প্রতারণার মামলায় গ্রেফতার পাঁচ আসামির তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। শনিবার (১০ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ফাহমিনা খন্দকার আন্নার আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। রিমান্ডে যাওয়া আসামিরা হলেন বেল্লাল হোসেন, জয়নাল আবেদীন, শ্রী অপূর্ব ব্যানার্জী, মো. আনোয়ার হোসেন ও মো. আল আমিন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শেরেবাংলানগর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. সাইফুল ইসলাম আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, গত ৯ জানুয়ারি দেশব্যাপী অনুষ্ঠিত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা–২০২৫-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মাহাবুব আলমকে গত ৮ জানুয়ারি রাত ৮টার দিকে যৌথ বাহিনীর সদস্যরা আটক করেন। এ সময় তার থেকে সংশ্লিষ্ট আলামত উদ্ধার করা হয়। আটক মাহাবুব আলমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী জানা গেছে, তিনি ও অজ্ঞাতপরিচয় আরও কয়েকজন আসামি পরস্পর যোগসাজশে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রার্থীদের কাছে প্রশ্নপত্র সরবরাহের কথা বলে বিশ্বাসভঙ্গের মাধ্যমে প্রতারণা করে অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এ ঘটনায় বাদীর এজাহারের পরিপ্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করা হয়। পরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযানে গত ৯ জানুয়ারি ভোর ৪টার পর আসামিদের নিজ নিজ ঠিকানা থেকে আটক করা হয়। অভিযানে প্রশ্নফাঁস ও প্রতারণার ঘটনায় জড়িত থাকার প্রমাণ হিসেবে বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয় বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে আসামিদের পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন উল্লেখ করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানিতে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষ জামিনের বিরোধিতা করে রিমান্ড মঞ্জুরের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করে। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আদালত পাঁচ আসামির প্রত্যেকের তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত ৯ জানুয়ারি প্রতারণার অভিযোগে মোহাম্মদপুর থানার প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নাইয়ার সুলতানা বাদী হয়ে শেরেবাংলানগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। এমডিএএ/এনএইচআর