প্রতিদিন পাঠকের কাছে দেশের আলোচিত ঘটনা, রাজনৈতিক উত্তাপ, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সমাজের পরিবর্তন এবং বিশ্বমঞ্চের নতুন বার্তা তুলে ধরে সংবাদপত্রগুলো। তথ্যপিপাসুদের তথ্যের চাহিদা মেটাতে সময় সংবাদ দেশের প্রধান প্রধান সংবাদপত্রের গুরুত্বপূর্ণ শিরোনাম পাঠকের সামনে তুলে ধরছে। এক নজরে জেনে নিন দেশের প্রধান সংবাদপত্রগুলোর প্রতিবেদন।দেশের শীর্ষস্থানীয় জাতীয় পত্রিকায় রোববার (১১ জানুয়ারি) প্রকাশিত কিছু খবর নিচে তুলে ধরা হলো। ভোটযুদ্ধের প্রস্তুতি, নানা সমীকরণ - দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মহাপ্রয়াণের শোক কাটিয়ে নির্বাচনী মাঠে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন দেশের বৃহত্তম দল বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। অন্যদিকে মাঠে আছে ১১ দলীয় জামায়াত জোট। যদিও এখনো আসন সমঝোতা চূড়ান্ত করতে পারেনি জোটটি। তবে বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান নিজেই বিদ্রোহী প্রার্থীদের থামাতে কাজ করছেন। স্থায়ী কমিটির সদস্য ছাড়াও নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যরাও বিদ্রোহীদের সঙ্গে কথা বলছেন। দল ক্ষমতায় এলে তাঁদের মূল্যায়নের নিশ্চয়তাও দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া শিগগিরই বিদ্রোহী বা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সঙ্গে তারেক রহমান নিজেই বৈঠক করে সমস্যার সমাধান করবেন বলে জানা গেছে। নির্বাচনে ‘ডিপফেক’, ’চিপফেক’ আতঙ্ক - দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোন দল সবচেয়ে বেশি আসন পাবে, তা নিশ্চিত ছিল। নির্বাচনটি পরিচিত 'ডামি ভোট' নামে। সেই নির্বাচনে ভোট গ্রহণের দিন সকালের দিকে গাইবান্ধা-১ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল্লাহ নাহিল নিগারের একটি ভুয়া বা ‘ডিপফেক’ ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে তাকে বলতে দেখা যায়, তিনি নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন, যা অনেক ভোটারকে বিভ্রান্ত করে। নির্বাচনে ডিপফেক ভিডিও ব্যবহারের এটি বাংলাদেশে একটি উদাহরণ। জার্মান সংস্থা কনরাড অ্যাডেনয়ার ফাউন্ডেশনের (কেএএস) ‘নির্বাচনে ডিপফেকের প্রভাব’ শিরোনামের একটি প্রতিবেদনে (২০২৪) বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়ে সাম্প্রতিক নির্বাচনগুলোতে এমন ঘটনা বহু ঘটেছে। যুক্তরাষ্ট্র, তুরস্ক, স্লোভাকিয়া, আর্জেন্টিনা, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, পোল্যান্ড, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জাম্বিয়া, ফ্রান্স-উদাহরণ অনেক। এখনো আস্থা অর্জনের পরীক্ষায় ইসি - দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দায়িত্ব নেয়ার ১৩ মাস পার হলেও এখনো আস্থা অর্জনের পরীক্ষায় রয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ১২ ফেব্রুয়ারি একই দিনে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ ও গণভোট সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার ওপর নির্ভর করছে ইসির গ্রহণযোগ্যতা। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে আয়োজনে ইসির ওপর পুরোপুরি ভরসা রাখতে পারছে না কয়েকটি রাজনৈতিক দল। নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার বিষয়ে ইতোমধ্যে প্রশ্ন তুলেছে জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ও ইসলামী আন্দোলন। তারা নির্বাচন কমিশনকে উদ্যোগী ও কঠোর হওয়ার জন্য বারবার পরামর্শ দিয়ে আসছে। তবে ইসির বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ আনেনি বিএনপি।গভীর জ্বালানি সংকটের দিকে এগোচ্ছে দেশ - দৈনিক বণিক বার্তার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সার, শিল্প-কারখানায় গ্যাসের সরবরাহ স্বল্পতা শুরু হয় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। দেশে জ্বালানি অনুসন্ধানে বিনিয়োগ না করে আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ ঠিক রাখার নীতি অনুসরণ করা হয় সে সময়ে। কিন্তু অর্থ সংকট এবং আমদানির মাধ্যমে সরবরাহ নিশ্চিত করতে গিয়ে দফায় দফায় জ্বালানি পণ্যের দাম বাড়ানো হয়। কিন্তু এসব উদ্যোগ ক্রমেই ভয়াবহ উদ্বেগে রূপ নিচ্ছে, এমনকি আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ঢেউ এসে চাপ বাড়াচ্ছে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তায়।একদিকে যেমন জ্বালানি সংগ্রহে রাজস্ব আয় থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান করতে হচ্ছে, অন্যদিকে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ঘটনা সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। এরই মধ্যে দেশে এলপিজি সংকট তৈরি হয়েছে। এলএনজি সরবরাহ চেইনে যদি কোনো কারণে বিঘ্ন হয়, তা বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক তৎপরতাকে বড় রকমের বিপদে ফেলতে পারে।সংকট কাটছে না শিগগির - দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে এলপি গ্যাসের তীব্র সংকট শিগগির অবসানের কোনো আভাস নেই। জ্বালানি মন্ত্রণালয় পর্যাপ্ত মজুতের কথা বললেও এলপি গ্যাস আমদানিকারকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। তাঁরা বলছেন, সরবরাহ সংকটই এই অবস্থার কারণ। এলপিজি সংকটের মধ্যে পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহ কমে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে। সুযোগ বুঝে বেড়েছে বৈদ্যুতিক চুলা ও রাইস কুকারের দাম। এলপিজি সরবরাহে সংকটের চাপ পড়েছে পরিবহন খাতেও।জুয়ার নেশায় সর্বস্বান্ত শিক্ষার্থী নিম্নআয়ের মানুষ - দৈনিক মানবজমিনের খবর এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজধানীর একটি স্বনামধন্য বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম। নিয়মিত অধ্যয়ন করলে ২০২১ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল অনার্স। প্রথম কয়েকটি সেমিস্টারে ভালো ফলও করেছিলেন আরিফুল। এরপর ধীরে ধীরে জড়িয়ে পড়েন জুয়ার নেশায়। বর্তমানে নিজ জেলায় থাকেন। বেকার অবস্থায় চাকরির সন্ধান করে বেড়াচ্ছেন। মানবজমিনকে তিনি বলেন, আমরা মেসে আটজন ছিলাম। নতুন ঢাকায় এসে নিয়মিত ভার্সিটি যেতাম। কিন্তু মেসের সবার সঙ্গে থাকতে থাকতে বাজিতে জড়িয়ে পড়ি। যখন টাকা পাই এসব টাকা চলে যায়। কিন্তু যখন কোনো ম্যাচে হারতাম জিদ কাজ করতো টাকা উঠানোর। এভাবে করে অনেক টাকা হেরেছি। প্রথমে ভার্সিটির সেমিস্টারের টাকা দিয়ে বাজি খেলতাম। টাকা যে পেতাম না তা নয়। কিন্তু পাওয়া টাকা থাকতো না। বাবা-মায়ের কাছে নানা মিথ্যা কথা বলে টাকা নিতাম।১০২ হতদরিদ্রের নামে ৯৬৩ কোটি টাকা ঋণ - দৈনিক সমকালের প্রধান সংবাদ এটি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার হাজীর পাড়ার বাসিন্দা রাসেল আহমেদ। জরাজীর্ণ মাটির ঘর তার। রক্তশূন্যতায় ভুগছেন। অন্যের সাহায্য ছাড়া দাঁড়াতে পারেন না। অসহায় রাসেলকে সাহায্য দেয়ার কথা বলে চার বছর আগে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নেন এক ব্যক্তি। আজ অবধি কোনো সাহায্য পাননি তিনি। তবে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের (ইউসিবি) চট্টগ্রামের পাহাড়তলী শাখায় তাঁর নামে ৯ কোটি ২৭ লাখ টাকার ঋণ সৃষ্টি হয়েছে। রাসেল আহমেদকে রাসেল এন্টারপ্রাইজের মালিক সাজিয়ে ২০২২ ও ২০২৩ সালে তার নামে এ ঋণ নেয়া হয়। শয্যাশায়ী রাসেল সমকালকে বলেন, ঋণের আবেদন তো দূরে থাক, কখনও এই ব্যাংকে যাননি তিনি। কোনো ব্যাংক হিসাবও খোলেননি।