ইশতেহারে সিন্ডিকেটমুক্ত বাজারের প্রতিশ্রুতির দাবি, কী বলছে রাজনৈতিক দলগুলো?

নির্বাচন সামনে রেখে সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার ব্যবস্থাপনার দাবি উঠছে নানা মহলে। বিশেষ করে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনী ইশতেহারে সিন্ডিকেটমুক্ত বাজারের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি দেখতে চায়। নতুন বাস্তবতায় বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোও।শক্তিশালী বাজার সিন্ডিকেটের কাছে সরকারি কর্তা ব্যক্তিদের অসহায়ত্ব নতুন কিছু নয়। বছরের পর বছর ধরে এসব সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে সাধারণ মানুষের গলার কাঁটা হয়ে আছে চড়া দ্রব্যমূল্য। পেঁয়াজ, ডিম, তেল থেকে শুরু করে গ্যাস-সব ক্ষেত্রেই সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করে মুনাফা করছে এই চক্র। তবে পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে জোরালোভাবে উঠে আসছে সিন্ডিকেটমুক্ত বাজার ব্যবস্থা নিশ্চিতের দাবি। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ইশতেহারে সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো। আরও পড়ুন: ৩০ টাকার সবজি কেন ঢাকায় এসে সেঞ্চুরি ছাড়ায়? কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান বলেন, বর্তমানে গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা বাড়িয়ে দেয়া হয়েছে, যা সিন্ডিকেটের কারসাজির ফল। দ্রব্যমূল্য নিয়ে সক্রিয় ব্যবসায়িক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলো কী ব্যবস্থা নেবে-তা নির্বাচনের আগে স্পষ্টভাবে জানতে হবে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, মাঝারি পর্যায়ের ব্যবসায়ীদের সুবিধা নিশ্চিত করার দিকে নজর দেবে দলটি। তাদের ইশতেহারেও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকবে। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, বড় ব্যবসায়ীরা অনেক সময় বাজার নিয়ন্ত্রণ ও কারসাজির চেষ্টা করেন। এ অবস্থায় মাঝারি ও অন্যান্য ব্যবসায়ীদের জন্য সিন্ডিকেটমুক্তভাবে স্বাধীন ব্যবসার পরিবেশ তৈরি করা জরুরি, যা এনসিপি বিবেচনায় নেবে। অন্যদিকে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতির ঘোষণা দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির মেয়াদভিত্তিক কার্যক্রমের পরিকল্পনাও রয়েছে। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানই আমাদের মূল বক্তব্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসহ জনগণের স্বস্তিদায়ক জীবনযাপনের জন্য প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্তগুলো নীতিগতভাবে ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় নানা উদ্যোগ নেয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে বিএনপিও। রাষ্ট্র মেরামতের সব দিক বিবেচনায় নিয়েই ইশতেহার প্রণয়নের কথা বলছে দলটি। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ইশতেহারে আসার আগেই জনগণের কাছে কয়েকটি বিষয় তুলে ধরছি, যার মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড ও হেড কার্ড। এসব পরিবর্তন করা গেলে রাষ্ট্র মেরামতের পথে এক ধাপ এগোনো সম্ভব হবে। আরও পড়ুন: অযৌক্তিকভাবে চিনি-এলপিজির দাম বৃদ্ধি, তীব্র নিন্দা ক্যাবের তবে শুধু প্রতিশ্রুতি দিলেই হবে না, বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে মনে করেন ক্যাব সভাপতি। তিনি বলেন, যে দল সরকার গঠন করবে, তারা যদি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয় এবং আগের মতো আবার ব্যবসায়ীদের কাছে জিম্মি হয়ে পড়ে, তাহলে তারা জনসমর্থন হারাবে। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই শুরু হবে পবিত্র রমজান। নতুন সরকার দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের স্বস্তি নিশ্চিত করবে-এমন প্রত্যাশাই এখন সবার।