মন ভালো রাখার ছোট ছোট অভ্যাস

অনেক মানুষের মনেই সারাক্ষণ নানা দুশ্চিন্তা ঘুরপাক খায়। এসব নেতিবাচক ভাবনা ধীরে ধীরে জীবনের স্বাভাবিক গতি ও মানসিক বিকাশকে ব্যাহত করে। তবে ইতিবাচক মানসিকতা চর্চা করলে জীবন অনেক সহজ ও ভারসাম্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ইতিবাচক চিন্তাভাবনা মানে সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়া নয়; বরং সেগুলোকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখে সুস্থ দৃষ্টিভঙ্গিতে মোকাবিলা করা। ইতিবাচক মনোভাব আপনাকে বুঝতে শেখায় যে, প্রতিটি পরিস্থিতির মধ্যেই ভালো কিছু লুকিয়ে থাকতে পারে। আপনি যদি নিজের নেতিবাচক চিন্তাগুলো শনাক্ত করতে পারেন এবং সচেতনভাবে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনেন, তবে ধীরে ধীরে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটবে। এর ফলে আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং মানসিকভাবে আরও দৃঢ় অনুভব করবেন। ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্যে থাকুন নিজেকে এমন মানুষদের সঙ্গে রাখার চেষ্টা করুন, যারা আশাবাদী ও অনুপ্রেরণাদায়ী। ইতিবাচক মানসিকতার মানুষের সঙ্গে সময় কাটালে আপনার চিন্তাভাবনাতেও তার প্রভাব পড়বে। তাদের জীবনদৃষ্টিই আপনাকে মানসিকভাবে শক্তিশালী করে তুলতে পারে। ইতিবাচক বিষয় দেখুন ও শুনুন আপনি প্রতিদিন যা পড়েন, দেখেন বা শোনেন সবকিছুই আপনার চিন্তাজগৎকে প্রভাবিত করে। অতিরিক্ত নেতিবাচক সংবাদ কিংবা মানসিক চাপ বাড়ায় এমন কনটেন্ট এড়িয়ে চলা উপকারী। এর পরিবর্তে অনুপ্রেরণামূলক গল্প, আশাবাদী গান কিংবা ইতিবাচক বার্তা বহন করে এমন ভিডিও ও লেখা বেছে নিতে পারেন। আরও পড়ুন:  টক্সিক সহকর্মী সামলাবেন যেভাবে ২০২৬ সালে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ এই শীতে বিয়ে করছেন? ঝামেলা এড়ানোর জন্য যা জানা জরুরি ‘বিষাক্ত ইতিবাচকতা’ থেকে দূরে থাকুন সবসময় নিজেকে জোর করে সুখী দেখানোর প্রবণতাকেই বিষাক্ত ইতিবাচকতা বলা হয়। যখন ভেতরে কষ্ট কাজ করছে, তখন তা অস্বীকার করা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। নেতিবাচক অনুভূতিগুলোকে স্বীকার করা এবং সেগুলোকে বোঝার চেষ্টা করাই সুস্থ মানসিকতার লক্ষণ। মনে রাখবেন, দুঃখ বা হতাশাও মানুষের স্বাভাবিক আবেগের অংশ। দৃষ্টিভঙ্গিতে পরিবর্তন আনুন নেতিবাচক চিন্তা যখনই মাথায় আসে, তখনই সেটিকে অন্যভাবে দেখার চেষ্টা করুন। একই পরিস্থিতির ভিন্ন ব্যাখ্যা হতে পারে এই ধারণা অভ্যাসে পরিণত হলে ধীরে ধীরে নেতিবাচক চিন্তার প্রভাব কমে আসবে। শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিন মানসিক সুস্থতার সঙ্গে শারীরিক স্বাস্থ্যের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম ও পুষ্টিকর খাবার শরীর ভালো রাখতে সাহায্য করে। একটি সুস্থ শরীর মানসিক চাপ কমায় এবং ইতিবাচক চিন্তাভাবনা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। তথ্যসূত্র: মায়ো ক্লিনিক জেএস/