২০২৬ বিশ্বকাপের পর্দা উঠতে আর মাত্র কয়েক মাসের অপেক্ষা। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনাকে এবারের আসরেও হট ফেবারিটদের কাতারে রাখা হচ্ছে। কাতারে গতবার টাইব্রেকারে ফ্রান্সকে হারিয়ে ৩৬ বছরের শিরোপাখরা ঘুচিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। এবারের মিশন শিরোপা ধরে রাখার। গত আসরে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অ্যানহেল দি মারিয়া অবসর নিয়ে ফেললেও শিরোপা জেতা দলের বেশিরভাগ তারকাকেই এবারের বিশ্বকাপেও পাচ্ছে আলবিসেলেস্তেরা। এর মধ্যেই আর্জেন্টিনার পরবর্তী স্কোয়াড কেমন হতে পারে—তা কিছুটা পরিষ্কার হয়ে গেছে।আর্জেন্টিনার অতিপরিচিত ক্রীড়া সাংবাদিক গাস্তুন এদুল পারফরম্যান্স ও কোচ লিওনেল স্ক্যালোনির কৌশল বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য বিশ্বকাপ স্কোয়াড সাজিয়েছেন। ইনজুরি, ফর্মের ওঠানামা, কিংবা নতুন তরুণদের উত্থানে এই তালিকায় বদল আসতেই পারে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী সম্ভাব্য ২৬ জনের একটি প্রাথমিক খসড়া তালিকা তৈরি করেছেন তিনি।বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা পড়েছে গ্রুপ জে-তে। ১৬ জুন কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আসরে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে তারা। এরপর ২২ জুন ডালাস স্টেডিয়ামে অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে এবং ২৭ জুন ডালাসেই জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচ খেলবে আর্জেন্টিনা।বিশ্বকাপের পাঁচ মাস আগে করা এই তালিকাটিকে তিনি বর্তমান সময়ের একটি ছবি হিসেবে অবিহিত করেছেন। বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বোঝাতে কোচিং স্টাফের কাছে খেলোয়াড়দের অবস্থান ও সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে তাদের চারটি বিভাগে ভাগ করা হয়েছে।নিশ্চিত (২০ জন):গাস্তুন এদুলের মতে, অপ্রত্যাশিত কিছু না ঘটলে এই খেলোয়াড়রা ২০২৬ বিশ্বকাপে থাকবেনই। তারা ইতিমধ্যেই দলের অংশ, অভিজ্ঞ, কিংবা অবস্থান খুবই শক্ত।গোলরক্ষক–এমি মার্টিনেজ: গোলপোস্টের নিচে অপ্রতিদ্বন্দ্বী। গতবার টাইব্রেকারে শিরোপা জয়ের নায়ক। ব্যক্তিত্ব ও মানের দিক থেকে সবার শীর্ষে।জেরোনিমো রুল্লি: নিয়মিত তালিকায় থাকেন, কোচিং স্টাফের পূর্ণ আস্থা আছে।ডিফেন্ডার–নাহুয়েল মলিনা: ডান প্রান্তে অপ্রতিদ্বন্দ্বী প্রথম পছন্দ, কাতারে রেখেছিলেন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।গনসালো মোন্তিয়েল: মলিনার নিয়মিত বিকল্প, স্কালোনি যুগে সবসময় উপস্থিত।ক্রিস্টিয়ান রোমেরো: বিশ্বের সেরা সেন্টার-ব্যাকদের একজন।নিকোলাস ওতামেন্দি: এখনও প্রাসঙ্গিক, নেতা, দল তাকে চায়।লিসান্দ্রো মার্টিনেজ: বাঁ-পায়ের ডিফেন্ডার, লড়াকু, সুস্থ থাকলে প্রথম একাদশে।নিকোলাস তালিয়াফিকো: নির্ভরযোগ্য, ধারাবাহিক পারফরমার।মিডফিল্ডার–রদ্রিগো ডি পল: মিডফিল্ডের ইঞ্জিন, খেলা ও ব্যক্তিত্ব দু'ক্ষেত্রেই স্কোয়াডে অপরিহার্য।লেয়ান্দ্রো পারেদেস: কোর গ্রুপের অংশ, বোকা জুনিয়র্সের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।এনজো ফার্নান্দেস: গতি, টেকনিক ও তারুণ্যের মিশেল; স্ক্যালোনির একাদশের নিয়মিত স্টার্টার।আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার: বহুমুখী, ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের এলিট মিডফিল্ডার।জিওভানি লো সেলসো: ফিট থাকলে সরাসরি প্রথম একাদশের বিকল্প।গুইলিয়ানো সিমিওনে: কোচের পছন্দের খেলোয়াড়; ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের নিয়মিত পারফর্মার, শারীরিকভাবে শক্তিশালী।নিকোলাস পাজ: জাতীয় দলে বড় প্রভাব রাখার সব গুণ আছে; তাকে দলে আনতে চায় স্টাফ। এই মৌসুমে তর্কসাপেক্ষে সিরি আ'র সেরা খেলোয়াড়।ফরোয়ার্ড–লিওনেল মেসি: তিনি যদি খেলতে চান, তিনি থাকবেনই।লাউতারো মার্টিনেজ: সিরি আ'র মৌসুমের সেরা গোলদাতা, বিশ্বকাপে খেলা নিশ্চিত।হুলিয়ান আলভারেজ: দলের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ খেলোয়াড়দের একজন।নিকোলাস গনসালেস: বাঁ প্রান্তে খুবই কার্যকর, শারীরিক শক্তিমত্তা ও বক্স-টু-বক্স সক্ষমতা তার প্লাস পয়েন্ট।থিয়াগো আলমাদা: কাতার বিশ্বকাপে ছিলেন, দারুণ সম্ভাবনা, সাম্প্রতিক ডাকগুলোতে নিয়মিত।বিশ্বকাপের পথে আছেন (২১ থেকে ২৬ নম্বর)–এরা এখন ভালো অবস্থানে আছে বা শেষ কয়েকটি জায়গার জন্য লড়াই করছে। শতভাগ নিশ্চিত নয়, তবে সম্ভাবনা জোরালো।ওয়াল্টার বেনিতেস: তৃতীয় গোলরক্ষক হিসেবে (২১ নম্বর) সম্ভাবনা জোরাল। ধারাবাহিকতা ও ভালো পারফরম্যান্স।হুয়ান ফয়থ: ফিট থাকলে বহুমুখিতার জন্য পছন্দের খেলোয়াড়।লিওনার্দো বালের্দি: বাঁ-পায়ের সেন্টার-ব্যাক, ইউরোপে ভালো ফর্মে (২২ নম্বর)।ফাকুন্দো মেদিনা: ২৩ নম্বর জায়গার জন্য সেনেসির সঙ্গে লড়াই করবে।মার্কোস সেনেসি: বাঁ-পায়ের সেন্টার-ব্যাক হিসেবে শক্ত বিকল্প।মার্কোস আকুনিয়া: বর্তমানে ২৪ নম্বর সদস্য হিসেবে এগিয়ে; ফিট থাকলে অভিজ্ঞতা যোগ করবে।ভ্যালেন্তিন বার্কো: তারুণ্য ও বহুমুখিতা; ধীরে ধীরে এগোচ্ছে, তবে প্রতিদ্বন্দ্বীদের থেকে পিছিয়ে।এজেকিয়েল পালাসিওস: তাকে ভালোভাবে চেনে স্টাফরা; ধারাবাহিকতা ও সুস্থতার ওপর নির্ভর করবে অনেককিছু।ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুয়নো: অসাধারণ সম্ভাবনাময় তরুণ; ভবিষ্যতের কথা ভেবে রাখা হতে পারে (২৫ নম্বর)।হোসে মানুয়েল লোপেস: দারুণ স্ট্রাইকার, ২৬ নম্বর হিসেবে সবচেয়ে এগিয়ে।আপাতত রাডারের বাইরে–কিছু খেলোয়াড় আছেন, যাদের প্রতিভা থাকলেও এখন জাতীয় দলের মূল ভাবনায় নেই। এই তালিকার শীর্ষে পাওলো দিবালা। তার প্রতিভা অস্বীকার করার উপায় নেই, কিন্তু ইনজুরি ও অনিয়মিত খেলার কারণে পিছিয়ে পড়েছেন। একই কথা প্রযোজ্য মাতিয়াস সুলে ও হোয়াকিন পানিচেল্লির ক্ষেত্রেও, এলিট পর্যায়ে আরও অভিজ্ঞতা দরকার তাদের। আলান ভারেলাও ইউরোপে ভালো খেললেও তার পজিশনে প্রতিযোগিতা খুব বেশি। আর ফাকুন্দো কামবেসেস এখনো শীর্ষ তিন গোলরক্ষকের দলে ঢুকতে পারেননি। তবে অবিস্মরণীয় কিছু করলে তাদের কেউ সুযোগ পেতেও পারেন।প্রায় বাদ পড়া–ভ্যালেন্তিন গোমেস, একুই ফের্নান্দেস, ক্লাউদিও এচেভের্রি, ভ্যালেন্তিন কার্বোনি—সম্ভাবনা তরুণ, কিন্তু এবারের বিশ্বকাপে তাদের সুযোগ নেই বলা যায়। শীর্ষ পর্যায়ের ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।আলেহান্দ্রো গারনাচোর বিষয়টি আবার আলাদা। চেলসির মতো বড় দলে খেললেও ধারাবাহিকতা এখনো আসেনি। আঞ্জেল কোরেয়া সবসময় সবসময় রাডারে ছিলেন, কিন্তু নিয়মিত জায়গা পাকা করতে পারেননি। এছাড়া লাউতারো রিভেরো, হুলিও সোলের, হুয়ান নার্দোনি, এমিলিয়ানো বুয়েন্দিয়া, আগুস্তিন রোসি এবং আরোন আনসেলমিনো বর্তমানে স্কালোনি বা কোচিং স্টাফের নজর থেকে অনেক দূরেই আছেন।