জুলাইতে যারা প্রাণ দিয়েছেন তারা আমাদের দায়বদ্ধ করে গিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক আলী রিয়াজ।রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুর সাড়ে ১২টায় গণভোটের প্রচার ও ভোটার উদ্বুদ্ধকরণের উদ্দেশ্যে বরিশাল বিভাগীয় ইমাম সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য আলী রিয়াজ এ মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, ‘আপনাদের ভোটে যাদের নির্বাচিত করবেন তারা পাঁচ বছরের জন্য ক্ষমতায় থাকবে। কিন্তু দেশ পাঁচ বছরের জন্য না। আমরা সবাই দেশের মালিক, সবাই গণভোটের মাধ্যমে নির্দেশনা দেবো দেশ কীভাবে চলবে? আর যাতে কোনো মায়ের বুক খালি না হয় তার জন্যই গণভোট।’প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী বলেন, ‘জাতীয় সনদ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়। দীর্ঘ ৯ মাস ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মতামত নিয়ে জুলাই সনদ তৈরি হয়েছে। আর সেটারই বাস্তবায়ন করতে হবে ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে।’আরও পড়ুন: পথরেখা চূড়ান্ত করতে আজই নিষ্পত্তিতে আসতে চায় কমিশন: আলী রিয়াজঅধ্যাপক আলী রিয়াজ বলেন, ‘দেশে ভিন্নমত, দল থাকবে, কিন্তু ভবিষ্যতে দেশ ক্যামন হবে সেটা নির্ধারণ করবে জনগণ। জাতীয় সনদের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন ও স্বাধীন পিএসসি বোর্ড গঠিত হবে যাতে অযোগ্য ব্যক্তিরা ক্ষমতাসীনদের নাম ভাঙিয়ে কোনো চেয়ারে না বসতে পারে।’তিনি বলেন, ‘৭১ সালে আমরা তো পিছিয়ে পড়ার জন্য যুদ্ধ করিনি। তাহলে কেন আমরা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকবো। সেই জায়গা থেকে আমরা দেখেছি, জুলাইয়ে আন্দোলনের মধ্যে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়; মন্ত্রীপরিষদ থেকে সবাই পালিয়েছে।’গণভোট সম্পর্কে আলী রিয়াজ বলেন, ‘এর আগেও দেশে তিনবার গণভোট হয়েছিলো। কিন্তু এবারের গণভোট ভিন্ন। অতীতে আমরা দেখেছি সংসদে যা ঠিক করা হয় আমরা তাতে সম্মতি দেই। এবারে গণভোট বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার নিয়ে সংসদে যেতে হবে জনপ্রতিনিধিদের।’আরও পড়ুন: ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকলে পরিবর্তনের ধারা সূচনা সম্ভব: আলী রিয়াজবাংলাদেশের সংবিধান নিয়ে এতদিন ছেলে খেলা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক আলী রিয়াজ আরও বলেন ‘১৭ মিনিটে এ দেশে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পক্ষে দেশের সব মানুষের সমর্থন ছিলো; যা বাতিল করা হয়েছে দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থনে। এরপর থেকে সংবিধান সংশোধন করতে হলে জাতীয় উচ্চকক্ষের অনুমতি লাগবে মানে ৫১টি ভোট লাগবে।’রাষ্ট্রপতির ক্ষমার নামে এতদিন যে তামাশা করা হয়েছে জাতীয় সনদে তা হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির আসলে নিজে ক্ষমা করেন না। রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলে তার নামে ক্ষমার চিঠি ইস্যু হয়। জাতীয় সনদে- সংসদে এমন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, যাতে নিজ দলের বেইনসাফি কথার বিরুদ্ধে দলের নেতারা কথা বলতে পারবে। যা সব রাজনৈতিক দল একমত হয়েছে।’অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (ঐকমত্য গঠন) মনির হায়দার ইমামদের উদ্দেশে বলেন, ‘সমাজে মানুষ আপনাদের কথা বিশ্বাস করে এবং শোনে, তাই আপনাদের উচিত মানুষকে গণভোট সম্পর্কে সচেতন করা।’আরও পড়ুন: যত দ্রুত সম্ভব আমরা ঐকমত্যে পৌঁছাতে চাই: আলী রীয়াজতিনি বলেন, ‘গত এক বছর ধরে আমরা যে সংস্কারের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তা যদি বাস্তবায়ন না হয় তাহলে আবার দেশ খুনি মাফিয়াদের কাছে চলে যাবে।’বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার মো. মাহফুজুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন: ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামাল উদ্দিন, বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা।