রাগ ছাড়াই সমালোচনা মোকাবিলা করার সহজ ৫টি উপায়

কেউ যখন বলে, “তুমি আরও ভালো করতে পারো,” শুনে কি খারাপ লাগেনি কখনো? সত্যি কথা হলো, সমালোচনা শুনতে সবাই পছন্দ করে না। তা আবার যদি একটু কটূ হয়, তবে তো কথাই নেই।কিন্তু রাগ হয়ে বা আঘাত নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখালে শুধু সম্পর্কই নষ্ট হয়ে যায় না, নিজেকে উন্নত করার সুযোগও হারিয়ে যায়। ভারতীয় গণমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ায় প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুসারে চলুন দেখে নিই কীভাবে সমালোচনাকে ব্যক্তি আক্রমণ না ভেবে নিজের বৃদ্ধির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যায়- ১. সমালোচনা ধ্বংসাত্মক, না গঠনমূলক- বোঝার চেষ্টা করুনসমালোচনা শুনতে একটু বিরতি নিন। যদি কেউ আপনার চরিত্র বা ব্যক্তিত্ব নিয়ে কটূ কথা বলছে, তাকে নজর না দিয়ে শান্ত থাকাই ভালো। কিন্তু যদি কেউ আপনার কাজ বা আচরণ নিয়ে পরামর্শ দিচ্ছে, তাহলে মন দিয়ে শুনুন। সমালোচনা লিখে রাখুন, কোন অংশ বাস্তবায়নযোগ্য তা আলাদা করুন। ব্যক্তিগত আক্রমণকে উপেক্ষা করে গঠনমূলক পরামর্শ কাজে লাগালে আপনি নিজেকে আরও উন্নত করতে পারবেন। আরও পড়ুন: স্কুলে পাঠানোর আগে শিশুকে এই ১০টি কথা বলছেন না তো? ২. উদ্দেশ্য বোঝার চেষ্টা করুনসবসময় সমালোচকের প্রতি বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখানো ঠিক নয়। কখনো কখনো খিটখিটে বসও এমন পরামর্শ দিতে পারেন যা কাজে লাগবে। তাই ব্যক্তিকে বাদ দিয়ে কথাগুলোর মানে বোঝার চেষ্টা করুন। পরবর্তী বার যদি আপনার প্রতিদ্বন্দ্বী বা সহকর্মী সমালোচনা করে, দ্বিগুণ মন দিয়ে শুনুন- পরবর্তীতে নিজেই কৃতজ্ঞ হবেন। ৩. প্রশ্ন করুন, আক্রমণ নয়রাগ বা প্রতিরক্ষা শুধু কথোপকথন বন্ধ করে দেয়, কিন্তু উৎসুক মনোভাব নতুন দরজা খুলে দেয়। সমালোচনা শুনে রেগে যাওয়া বা প্রতিরক্ষা দেখানো থেকে বিরত থাকুন। পরিবর্তে জিজ্ঞাসা করুন- “একটি উদাহরণ দিতে পারবেন?” বা “এটা একটু ব্যাখ্যা করবেন?” এইভাবে আপনি কথোপকথনকে অভিযোগের খেলা থেকে সমস্যা সমাধানের দিকে নিয়ে যেতে পারবেন। আরও পড়ুন:  শীতে ১ উপাদানেই ত্বক হয়ে উঠবে উজ্জ্বল ৪. সমালোচনা থেকে নিজেকে আলাদা করুনএকটি সমালোচনা আপনার পুরো ব্যক্তিত্বকে সংজ্ঞায়িত করতে পারে না। কাজ বা পারফরম্যান্সে ভুল ঠিক করা যায়; যদি আপনার আসল যোগ্যতা থাকে। তাই সমালোচনাকে ব্যক্তিগত আঘাত মনে না করে, সেটিকে শেখার সুযোগ হিসেবে নিন। ৫. ব্যক্তিগতভাবে নেবেন নাযে সমালোচনা কটূ বা ধ্বংসাত্মক, তা আসলে সমালোচকের চরিত্রকেই দেখায়। তাদের রাগ, বিদ্রূপ বা কটূ মন্তব্য- সবই তাদের নিজের মনমতো হয়। তাই নিজের মূল্যবোধ ও আত্মসম্মান রক্ষা করুন। সত্যিকারের আত্মবিশ্বাস হলো- এমন শব্দ উপেক্ষা করা, দরকারি পরামর্শ গ্রহণ করা, এবং অবিচল এগিয়ে চলা। সমালোচনা সবসময় খারাপ নয়। একটু মন দিয়ে শোনা, ধৈর্য রাখা এবং খোলামেলা মনোভাব দেখালে, এটি আপনার শেখার এবং নিজের উন্নতির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হয়ে দাঁড়াতে পারে। পরেরবার কেউ সমালোচনা করলে রাগ বা আঘাত না নিয়ে, এটিকে নিজের জন্য শেখার সুযোগ হিসেবে দেখুন।