ইরানে চলমান বিক্ষোভে শতাধিক নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে তেহরান। রোববার (১১ জানুয়ারি) আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ খবর জানানো হয়।রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে, ইসফাহান প্রদেশে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর ৩০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে আইন প্রয়োগকারী কমান্ড স্পেশাল ইউনিটের কমান্ডার জানান, বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বিভিন্ন শহরে দাঙ্গা দমনের অভিযানে আটজন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য নিহত হন। অন্যদিকে, আধা-সরকারি তাসনিম সংবাদ সংস্থা রোববার জানিয়েছে, সারা দেশে বিক্ষোভে ১০৯ জন নিরাপত্তা কর্মী নিহত হয়েছেন। আরও পড়ুন:ইরানে চলমান বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতায় নিহত কমপক্ষে ১১৬ জনএদিকে, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট জানায়, গোলেস্তান প্রদেশের রাজধানী গোরগানে তাদের একটি ত্রাণ ভবনে হামলার সময় একজন কর্মী নিহত হন। ইরানের কর্তৃপক্ষ দেশটির বছরের পর বছর ধরে চলা বৃহত্তম বিক্ষোভ দমনের প্রচেষ্টা জোরদার করার মধ্যে হতাহতের এই পরিসংখ্যান প্রকাশিত হয়েছে। এই বিক্ষোভে হাজার হাজার মানুষ জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে রাস্তায় নেমেছে। এদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে ‘দাঙ্গা’ ধীরে ধীরে কমে আসছে, অন্যদিকে অ্যাটর্নি জেনারেল সতর্ক করে দিয়েছেন, অস্থিরতার সাথে জড়িতদের ‘মৃত্যুদণ্ড’ হতে পারে। এর আগে ইরানি কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভকারীদের হত্যা করলে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে হস্তক্ষেপ করবে বলে হুঁশিয়ারি দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের সামরিক হামলার হুমকির পর রোববার পার্লামেন্টে ভাষণ দিতে গিয়ে স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবার্তা দেন। মার্কিন হামলা হলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল তাদের ‘বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে’ পরিণত হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন স্পিকার। তিনি বলেন, ‘আরও স্পষ্ট করে বলা যাক, ইরানের উপর আক্রমণের ক্ষেত্রে, অধিকৃত অঞ্চল (ইসরাইল) এবং সমস্ত মার্কিন ঘাঁটি এবং জাহাজ আমাদের বৈধ লক্ষ্যবস্তু হবে।’ ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের সাবেক কমান্ডার কালিবাফ বলেন। এদিকে, শনিবার ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে বিক্ষোভকারীদের উপর তীব্র দমন-পীড়নের মুখে যুক্তরাষ্ট্র ‘সহায়তা করতে প্রস্তুত।’ আরও পড়ুন:ইরানে সম্ভাব্য মার্কিন হস্তক্ষেপের আশঙ্কায় ইসরাইলে ‘হাই অ্যালার্ট’ তিনি বলেন, ‘ইরানের মানুষ স্বাধীনতা খুঁজছে। সম্ভবত আগে এমনটা কখনও দেখা যায়নি। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করতে প্রস্তুত।’ ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে একটি পোস্টে বিস্তারিত কিছু না বলেই এ কথা বলেছেন।