বাণিজ্য মেলার মিনি পার্কে শিশুদের উচ্ছ্বাস

পূর্বাচলে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা শিশুদের বিনোদনের জন্য রয়েছে দুটি মিনি পার্কসহ বিভিন্ন বিনোদন আয়োজন। মেলায় এসে উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছে শিশুরা। রোববার (১১ জানুয়ারি) বিকেলে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় মিনিপার্কে এ দৃশ্য চোখে পড়ে। মেলা প্রাঙ্গণ ঘুরে দেখা যায়, শিশুদের প্রাণচাঞ্চল্য, আনন্দ উচ্ছ্বাস আর হৈ-হুল্লোড়। তাদের এ হৈ-হুল্লোড়ে মুখরিত হয়ে উঠে মেলা প্রাঙ্গণ। মেলায় আগত শিশুদের আকৃষ্ট করতে দোকানিরাও নানা রকম খেলনার পসরা সাজিয়ে বসেছেন। বাহারি খেলনা দেখে শিশুরা সেটি কেনার বায়না ধরছে। মেলায় শিশুদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে কেউ ছোট্ট পাত্রে রাখা তরলে খেলনার একটি অংশ ডুবিয়ে মুখের কাছে নিয়ে ফু দিচ্ছেন। কোথাও রয়েছে রং-বেরঙের বেলুনের পসরা। এতে শিশুরা খুবই মজা পাচ্ছে। কোনো কোনো শিশু বিভিন্ন প্যাভিলিয়নে ঢুকে সেখানে সাউন্ড বক্সে বাজতে থাকা গানের সঙ্গে সঙ্গে শুরু করে দিচ্ছে নাচ। কু ঝিকঝিক ট্রেন চলছে আর চরকি খাচ্ছে নাগরদোলা। হানি সুইং, দোলনার পাশাপাশি হেলিকপ্টারে উঠে আকাশে উড়ছে শিশুরা। হই-হুল্লোড় আর উচ্ছ্বাসে একটু বেশি প্রাণবন্ত বাণিজ্য মেলার ছোট্ট এ শিশুপার্ক। বড়দের সঙ্গে আসা শিশুরা মেলায় এসে এ সুযোগ একেবারে হাতছাড়া করতে রাজি নন। তাদের এ আনন্দে দোলা চিত্র দেখে আনন্দ পাচ্ছেন অভিভাবকরাও। বাচ্চাকে রাইডে চড়িয়ে পাশে দাঁড়িয়ে দেখছিলেন সাথী আক্তার। তিনি বলেন, টাকায় শিশুদের খেলার জন্য খুব বেশি জায়গা নেই। মেলায় এসে বিভিন্ন রাইডে চড়ে তারা খুব মজা পাচ্ছে। শিশুপুত্র ও ভাগিনাকে নিয়ে রাজধানীর বাড্ডা থেকে মেলায় এসেছেন সায়েম হোসাইন। কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বলেন, ওদের নিয়ে দুপুরের পরে মেলায় প্রবেশ করি। মেলায় খানিক ঘোরাঘুরির পরই মিনি পার্কে চলে আসি। এখানকার রাইডে চড়ে ওরা তো বেজায় খুশি। তাদের আনন্দ দেখে আমারও খুব ভালো লাগছে। শিশু পার্ক মেসার্স মাসুম এন্টারপ্রাইজের কর্মী দিলীপ বিশ্বাস জানান, ক্রেতা দর্শনার্থীদের চিত্র-বিনোদনের জন্য মেলায় মিনিপার্ক শিশু-কিশোর দেব আনন্দ উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। এবারের মিনিপার্কে বিভিন্ন রাইডের চড়ে শিশু কিশোরা খুবই উচ্ছ্বাসিত। তাদের অভিভাবকরাও শিশুদের আনন্দ দিতে পেরে খুশি হচ্ছে। ড্রিমল্যান্ড চিলড্রেন পার্কের রাইডের মালিক ফেরদৌস হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, মেলায় মিনি পার্কে এবার তার দশটি রাইট রয়েছে। ৫০ টাকা থেকে দেড়শ টাকায় টিকিট কেটে শিশুরা এ সকল রাইট ব্যবহার করতে পারছে। মেলায় মিনি পার্কে বিভিন্ন রাইডে চড়ে শিশুরা উচ্ছ্বাসে মেতে উঠছে। বেশ সাড়া পাচ্ছি। মিনি পার্কে এবার ১০টি রাইডস রয়েছে। এক একটি রাইডসে ৫ থেকে ১০ মিনিট উপভোগ করতে পারবে শিশুরা। মেলায় জাম্পিং রাইডসে শিশুরা ১০ মিনিট খেলতে পারছে ১০০ টাকায়। সাম্পানের টিকিট মূল্য ৫০ টাকা। হেলিকপ্টার টিকিট মূল্য ১০০ টাকা। জাম্পিং, সুপার বক্স, টিকিট মূল্য ১০০ টাকা। ইলেকট্রনিক বোট, ড্রাগন, হর্স রাইডিং, মিনি ট্রেনের টিকিট মূল্য ১০০ থেকে দেড়শ টাকা। শিশু-কিশোরদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের লোকজন শিশুদের বিভিন্ন রাইডে উঠিয়ে খুবই আনন্দ পাচ্ছেন। প্রথম দিকে মেলা তেমন না জমলেও তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ায় ও ছুটির দিন থেকে এবারের মেলা জমে উঠতে শুরু করেছে। মেলায় বিভিন্ন ক্যাটাগরির ৩২৭টি প্যাভিলিয়ন/স্টল/রেস্তোরাঁ, দেশীয় উৎপাদক-রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানসহ সাধারণ ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে স্টল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সাধারণ দর্শনার্থীদের যাতায়াতের সুবিধার্থে কুড়িল বিশ্বরোড, ফার্মগেট (খেজুরবাগান/খামারবাড়ি), নারায়ণগঞ্জ ও নরসিংদী থেকে প্রতিদিন সকাল ৮টা থেকে বাণিজ্যমেলার উদ্দেশ্যে বিআরটিসির ২০০টির বেশি ডেডিকেটেড শাটল বাস চলছে। নাজমুল হুদা/আরএইচ/এমএস