মাদারীপুরে প্রবাসীর বাড়িতে বোমা মেরে ডাকাতির চেষ্টা, এলাকায় আতঙ্ক

মাদারীপুর সদর উপজেলার পেয়ারপুর এলাকায় এক মালয়েশিয়া প্রবাসীর বাড়িতে গভীর রাতে একদল মুখোশধারী ডাকাত হানা দিয়েছে। গৃহকর্তার সাহসী প্রতিরোধ ও পরিবারের সদস্যদের চিৎকারে ডাকাতদল পিছু হটলেও যাওয়ার সময় একাধিক হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক সোয়া তিনটা। পেয়ারপুর গ্রামের মালয়েশিয়া প্রবাসী মনিরুজ্জামান রাজা মিয়া খালাসির বাড়ির সবাই তখন গভীর ঘুমে। ভুক্তভোগী জানান, প্রথমে ৮ থেকে ১০ জনের একটি মুখোশধারী দল বাড়ির পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করে। তাতে ব্যর্থ হয়ে তারা সামনের দরজা ভাঙতে শুরু করলে রাজার ঘুম ভেঙে যায়।বিপদ টের পেয়ে রাজা মিয়া সাহসের সঙ্গে ডাকাতদের প্রতিরোধ করেন। একই সময় পরিবারের অন্য সদস্যরা চিৎকার শুরু করলে আশপাশের মানুষ জেগে ওঠে। প্রবাসীর শক্ত প্রতিরোধের মুখে ডাকাতদল পিছু হটতে বাধ্য হয়। তবে পালিয়ে যাওয়ার সময় তারা বেশ কয়েকটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। বোমার বিকট শব্দে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে ওঠে এবং প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।ভুক্তভোগী প্রবাসী মনিরুজ্জামান রাজা মিয়া খালাসি বলেন, 'দরজা ভাঙার শব্দ পেয়ে আমি প্রস্তুতি নিয়ে তাদের বাধা দিই। আমার প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়, কিন্তু যাওয়ার সময় বোমা ফাটিয়ে আতঙ্ক ছড়ায়। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।'আরও পড়ুন: খুলনায় ডাকাতিসহ ৬ মামলার আসামি বুলু গ্রেফতারস্থানীয় বাসিন্দা নুরজামাল মোল্লা ও প্রতিবেশী খাইরুল বাশার খালাসি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এভাবে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনায় তারা স্তম্ভিত। তারা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার এবং এই মুখোশধারী চক্রটিকে দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদারীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, 'খবর পাওয়ার পর থেকেই পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে। অপরাধীদের ধরতে থানা পুলিশ ও ডিবিসহ একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে দ্রুতই তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।'প্রসঙ্গত, এর আগে গত বছরের পহেলা জানুয়ারি শিবচর পৌরসভাধীন থানা রোড় এলাকার বিআরবি ক্যাবলের শোরুমের ডাকাতির ঘটনা ঘটে। এ সময় ডাকাতদল ৬০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। এরপর ওই বছরের ২৯ এপ্রিল রাজৈরের সুতারকান্দি গ্রামের ধান ব্যবসায়ী আব্দুল আলিম ফকিরের বাড়িতেও ঘটে ডাকাতির ঘটনা। লুট হয় নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার।