স্প্যানিশ সুপারকোপার ফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী বার্সেলোনা ও রিয়াল মাদ্রিদ। রোববার (আজ রাত ১টায়) সৌদি আরবের জেদ্দায় কিং আবদুল্লাহ স্পোর্টস সিটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচে মৌসুমের প্রথম ঘরোয়া ট্রফি জয়ের লড়াইয়ে নামবে দুই জায়ান্ট। চলতি মৌসুমে এটি দুই দলের দ্বিতীয় ‘এল ক্লাসিকো’। সেমিফাইনালে বার্সেলোনা যেখানে অ্যাথলেটিক বিলবাওকে ৫-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে ফাইনালে উঠেছে, সেখানে রিয়াল মাদ্রিদকে অপেক্ষাকৃত কঠিন পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জয় তুলে নেয় তারা। টানা চতুর্থবারের মতো সুপারকোপা ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বার্সা-রিয়াল। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এই ট্রফিটি শুধু একটি শিরোপা নয়, বরং মৌসুমের দ্বিতীয় ভাগে কী হতে যাচ্ছে তার একটি ইঙ্গিত হিসেবেও কাজ করেছে। লক্ষণীয় বিষয় হলো— শেষ চার সুপারকোপা জয়ী দলই পরে লা লিগা জিতেছে। ফর্মে এগিয়ে বার্সেলোনা মৌসুমের শুরুতে অক্টোবরের ক্লাসিকোতে রিয়াল মাদ্রিদ জয় পেলেও পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি পাল্টে গেছে। হান্সি ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনা সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা নয় ম্যাচে জয় পেয়েছে এবং লা লিগার টেবিলের শীর্ষে চার পয়েন্টের ব্যবধানে এগিয়ে আছে। রাফিনহা, পেদ্রি ও গোলরক্ষক হুয়ান গার্সিয়ার প্রত্যাবর্তন দলকে নতুন করে প্রাণবন্ত করেছে। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ, আক্রমণে গতি এবং রক্ষণে দৃঢ়তা— সব মিলিয়ে বার্সা এই মৌসুমের সবচেয়ে পরিপূর্ণ দল হিসেবেই ফাইনালে নামছে। চাপে রিয়াল কোচ জাবি আলোনসো রিয়াল মাদ্রিদের কোচ জাবি আলোনসোর জন্য ম্যাচটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিসেম্বরে সেল্টা ভিগোর বিপক্ষে হারের পর তার চাকরি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সাম্প্রতিক কয়েকটি জয় পরিস্থিতি কিছুটা সামাল দিলেও দলের পারফরম্যান্স এখনো খুব একটা আশ্বস্ত করতে পারেনি। গত মৌসুমে সুপারকোপা ফাইনালে বার্সেলোনার কাছে ৫-২ ব্যবধানে হারই ছিল কার্লো আনচেলত্তির বিদায়ের সূচনা। একই ধরনের বড় হার হলে আলোনসোর ভবিষ্যৎ নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠতে পারে। এমবাপের প্রত্যাবর্তন রিয়ালের জন্য স্বস্তি চোট কাটিয়ে দলে ফিরেছেন কিলিয়ান এমবাপে। চলতি মৌসুমে রিয়ালের হয়ে ২৯ গোল করা ফরাসি তারকার উপস্থিতি নিঃসন্দেহে আক্রমণে বড় শক্তি যোগাবে। ক্লাসিকোতে তার গোলের রেকর্ডও বেশ ভালো— পাঁচ ম্যাচে ছয় গোল। তবে, বার্সেলোনা কোচ হান্সি ফ্লিকের সামনে এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ একাদশ নির্বাচন। রাফিনহা, ইয়ামাল, লেওয়ানডস্কি, ফেরান তোরেস, দানি ওলমো ও মার্কাস রাশফোর্ড— এত আক্রমণভাগের অপশন থাকায় বেঞ্চ থেকেও ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার ক্ষমতা আছে বার্সার। রিয়াল মাদ্রিদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা রক্ষণভাগ। রুডিগার, মিলিতাও চোটের কারণে বাইরে। প্রয়োজনে মিডফিল্ডারদের দিয়ে ডিফেন্স সাজাতে হচ্ছে আলোনসোকে। ফলে বার্সেলোনার গতিময় আক্রমণের সামনে টিকে থাকাই বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ফর্ম ও স্কোয়াডের গভীরতায় বার্সেলোনা কিছুটা এগিয়ে। গোলবন্যার ম্যাচ হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। আইএইচএস/