হাওড়ে বোরো চাষের ধুম, পানি সংকটে উৎপাদন নিয়ে শঙ্কা

দেশের বৃহত্তম হাকালুকি হাওড়সহ মৌলভীবাজারের সবকটি হাওড়ে বোরো চাষের ধুম পড়েছে। শীতের কনকনে ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে বোরো চাষে নেমেছেন কৃষকরা।এ দিকে প্রণোদনার সার বীজ বিতরণের কারণে এ বছর বেশি পরিমাণে বোরো চাষের কথা বলছে কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ। তবে চারা রোপণ পরবর্তী পানি সংকট নিয়ে কৃষকরা আগে থেকেই শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন।সরেজমিনে হাওড়ে গিয়ে দেখো যায়, পানি নেমে যাওয়ার পর বিস্তীর্ণ হাওড়জুড়ে চাষিরা ব্যস্ত বোরো চাষের কর্মযজ্ঞে। পৌষের কনকনে ঠান্ডা উপেক্ষা করে ভোর থেকেই দেশের বৃহত্তম হাওড় হাকালুকি, হাইল ও কাউয়াদিঘিসহ জেলার সবকটি হাওড়ে জমি প্রস্তুত ও হালি চারা রোপণ কাজ করছেন কৃষক।জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানিয়েছে, চলতি বছর বোরো ফসলের উৎপাদন বাড়াতে হাওড় ও এর বহিভূত এলাকায় প্রায় ৭ হাজারের বেশি কৃষকের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে উফশী ও হাইব্রিড জাতের বীজ ও সার। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে মৌসুমে হেক্টর প্রতি ফলন হবে সাড়ে ৪ মেট্রিক টনের বেশি ধান। তবে বোরো রোপণ পরবর্তী হাওড়ে পানি সংকটের বিষয়টি নিয়ে আগে থেকেই  শঙ্কিত হয়ে পড়ছেন কৃষক।আরও পড়ুন: ধানক্ষেত ফেটে চৌচির, ৫০০ বিঘা জমির আবাদ নিয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষককথা হয় হাওড় কাউয়া দিঘি পাড়ের কৃষক রসূলপুর, রায়পুর, বানেশ্রী, পাড়া শিমুল, কালাইপুড়াসহ একাধিক গ্রামের কৃষকের সঙ্গে।এ বিষয়ে কৃষক আব্দুল মজিদ, আব্দুস সালাম জানান, প্রত্যেকেই হাওড়ের নালা-ডুবার পানি নিয়ে চাষাবাদ শুরু করেছেন। এরইমধ্যে অনেকে রোপণ কাজ সম্পন্ন করেছেন। কেউ আবার জমি প্রস্তুত করছেন চারা রোপণের জন্যে। তবে সবার একই কথা চারা রোপণ পরবর্তী তাদের এলাকায় পানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এতে ভালো ফসল উৎপাদন নিয়ে শঙ্কিত রয়েছেন এখানকার কৃষক।কৃষক আব্দুল মজিদ জানান, এবারে তিনি হিরা জাতের বোরোর বীজতলায় তৈরি করছেন। চারায় কোনো রকমের সমস্যা দেখা দেয়নি। এ চারায় ভালো ফলন আসে বলেও জানান তিনি।মৌলভীবাজার সদর  হাওড় রক্ষা আন্দোলন কমিটির সভাপতি মো. আলমগীরের দাবি, এ অঞ্চলে বোরোর উৎপাদন বাড়াতে হলে পানি সংকটের সমাধান করতে হবে।আরও পড়ুন: ২০ হাজার হেক্টর জমিতে কচুরিপানা, দিশেহারা হালতি-চলনবিলের কৃষকএ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. জালাল উদ্দিন বোরো চারা রোপণ পরবর্তী কিছু স্থানে পানি সংকটের কথা স্বীকার করে বলেন, ‘এটি বড় কোনো সমস্যা নয়। এ বছর আবহাওয়া বোরো চাষের অনুকূলে রয়েছে। কৃষি বিভাগের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে অতিরিক্ত ৪০০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হবে।’কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর জেলায় ৬২ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে বোরো চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর উৎপাদন ধরা হয়েছে, ২ লাখ ৮১ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন।