ইসলামের পথে সাহাবিদের নির্মম নির্যাতন সহ্যের ঘটনা

নবুয়তের চতুর্থ বছরে প্রথমবার যখন সর্বসাধারণের কাছে ইসলামের দাওয়াত পেশ করা হলো, তখন মুশরিকরা তা প্রতিহত করার কৌশল হিসেবে মুসলমানদের শাস্তি প্রদান ও তাদেরকে ইসলাম থেকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রত্যেক গোত্রপতি তার গোত্রের ইসলাম গ্রহণকারীদের শাস্তি প্রদান করা শুরু করে।আবু জাহল যখন কোনো সম্ভ্রান্ত বা শক্তিধর ব্যক্তির মুসলিম হওয়ার কথা শুনত তখন সে তাকে ন্যায় বলেয়-অন্যা গালি-গালাজ করত, অপমান-অপদস্থ করত এবং ধন-সম্পদের ক্ষয়-ক্ষতি করবে বলে ভয় দেখাত। জ্ঞাতি গোষ্ঠীর যদি কোনো দুর্বল ব্যক্তি মুসলিম হতো তাহলে তাকে সে অত্যন্ত নির্দয়ভাবে মারধর করত এবং মারধর করার জন্য অন্যদের প্ররোচিত করত। (ইবনু হিশাম: ১/৩২০) উসমান বিন আফফান রা.-এর চাচা তাকে খেজুর পাতার চাটাইয়ের মধ্যে জড়িয়ে রেখে নিচ থেকে আগুন লাগিয়ে ধোঁয়া দিত। (রাহমাতুল্লিল আলামিন: ১/৭৫)  মুসআব বিন উমায়ের রা.-এর মা যখন তার ইসলাম গ্রহণের খবর পায় তখন সে তার খাবার বন্ধ করে দেয় এবং তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। প্রথম জীবনে তিনি আরাম-আয়েশ ও সুখ-স্বাচ্ছন্দ্যের মধ্যে লালিত-পালিত হয়েছিলেন। কিন্তু ইসলাম গ্রহণের পর তিনি এতই কঠিন সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন যে, সাপের গর্ত থেকে খুলে পড়া খোলসের মতো তার শরীরের চামড়া খুলে খুলে পড়ত। (রাহমাতুল্লিল আলামিন: ১/৫৮) আম্মার বিন ইয়াসির বনু মাখযুমের ক্রীতদাস ছিলেন। তার বাবার নাম ইয়াসির এবং মায়ের নাম সুমাইয়া। তিনি এবং তার মা-বাবা সবাই একই সঙ্গে ইসলাম গ্রহণ করেন। দুপুরবেলা প্রখর রোদের তাপে মরুভূমির বালুকণারাশি এবং কঙ্কররাশি যখন আগুনের মতো উত্তপ্ত থাকত তখন আবু জাহলের নেতৃত্বে মুশরিকরা তাদেরকে নিয়ে গিয়ে সেই উত্তপ্ত বালি এবং কঙ্করের উপর শুইয়ে দিয়ে শাস্তি দিত। একদিন তাদেরকে যখন সেভাবে শাস্তি দেয়া হচ্ছিল এমন সময় রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তাদেরকে লক্ষ্য করে তিনি বললেন,  হে ইয়াসিরের বংশধর! ধৈর্যধারণ করো, তোমাদের স্থান জান্নাতে।’ অতঃপর শাস্তি চলা অবস্থায় ইয়াসির মৃত্যুবরণ করেন। আরও পড়ুন: এক বছরে ২ হজ, ৩ ঈদ, কীভাবে সম্ভব? জানুন ব্যাখ্যাপাষণ্ড আবু জাহল আম্মারের মা সুমাইয়ার নারী-অঙ্গে বর্শা বিদ্ধ করে। অতঃপর তিনি মারা যান। মুসলিম নারীদের মধ্যে তিনি ছিলেন প্রথম শহিদ। সুমাইয়া বিনতে খাইয়াত ছিলেন আবু হুজাইফাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমর বিন মাখযুমার ক্রীতদাসী। সুমাইয়া ছিলেন অতি বৃদ্ধা এবং দুর্বল।