সুনামগঞ্জে এলপিজি গ্যাস সংকটের অজুহাতে বাড়তি দামে বিক্রি

সুনামগঞ্জে এলপিজি গ্যাসের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সরকারি নির্ধারিত মূল্য উপেক্ষা করে খুচরা বিক্রেতা, ডিলার ও আমদানিকারক পর্যায়ে সমন্বিতভাবে অতিরিক্ত দাম আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। জানা যায়, সুনামগঞ্জ শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জের বাজারেও এলপিজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। পাশাপাশি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে যে এলপিজি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে সেগুলো নির্ধারিত দামের চেয়ে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়া হচ্ছে। শহরের বাসস্ট্যান্ড, ওয়েজখালী, হাসননগর ও তাহিরপুরসহ বিভিন্ন এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা যায়, একই কোম্পানির গ্যাস একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। কোনো দোকানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৪৭০, আবার কোথাও ১৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন ডিলারদের ওপর, আর ডিলাররা বলছেন আমদানিকারকদের কাছ থেকেই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। শহরের ওয়েজখালী এলাকার খুচরা গ্যাস বিক্রেতা মোশারফ বলেন, গত ১৫ দিন ধরে সিলিন্ডার গ্যাস বিক্রির জন্য বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। সব কোম্পানি বলছে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার নেই। গত ১৫ দিন আগে ফ্রেশ কোম্পানির ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডার ১৩৬০ এবং অমেরার সিলিন্ডার ১৪৬০ টাকায় বিক্রি করেছি। খুচরা গ্যাস বিক্রেতা মো. এজাদনুর বলেন, বর্তমানে ১২ কেজির সিলিন্ডার ১৪৭০ থেকে ১৫০০ টাকায় বিক্রি করছি। যা ডিলার থেকে ১৪০০ থেকে ১৪৭০ টাকায় কিনতে হয়েছে। এরপর পরিবহন খরচ ও দোকান ভাড়া যোগ করলে খুব বেশি লাভ থাকে না। সরকার নির্ধারিত দাম থেকে বেশি দামে গ্যাস বিক্রি করছেন এমন প্রশ্নে ভাউচার দেখিয়ে ক্রয়মূল্য ১৩৭০ টাকার কথা জানান। তবে রুজেল আহমদ নামে এক ক্রেতা বলেন, নির্ধারিত দামে বিক্রির জন্য স্থানীয় প্রশাসনের নজর দেওয়া উচিত। জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অফিসের সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলাম মাসুদ বলেন, অনেক ব্যবসায়ী দাম বাড়িয়ে সিলিন্ডার বিক্রি করছে এমন অনেক অভিযোগ আসছে। আমরা অভিযান পরিচালনা করছি। জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটরাও অভিযান পরিচালনা করছেন। ভোক্তার কাছ থেকে কোনো অভিযোগ পেলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিচ্ছি। লিপসন আহমেদ/এএইচ/এমএস