বিপিএলের সিলেট পর্ব চলছে গত ১৬ দিন ধরে। শুরুর দিকে দর্শকদের কিছুটা উন্মাদনা লক্ষ্য করা গেলেও এখন সেটা অনেক কমে গিয়েছে। তার ওপর আজ (১১ জানুয়ারি) ছিল না ঘরের দল সিলেটের কোনো ম্যাচ। সব মিলিয়ে পুরো স্টেডিয়াম জুড়ে ৩-৪ হাজার দর্শক উপস্থিতি ছিল। তাই মাঠের ম্যাচ নিয়ে খুব একটা উন্মাদনা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল না। তবে এমন ম্যাড়মেড়ে পরিস্থিতিতে আকর্ষণ হিসেবে আসে একসঙ্গে উইকেটে মোহাম্মদ নবি এবং হাসান ইসাখিলের ব্যাটিং।৪১ বছর বয়সী মোহাম্মদ নবির ছেলে ইসাখিল। টুর্নামেন্টের আগেই বাবা-ছেলেকে দলে ভিড়িয়েছল দলটি। তবে প্রথম ৭ ম্যাচের বেশিরভাগ খেলায়ই নবিকে দেখা গেলেও সুযোগ পাননি ইসাখিল। অবশেষে ইসাখিল সুযোগ পেলেন আজ(১১ জানুয়ারি) ঢাকার বিপক্ষে। আর সু্যোগ পেয়েই কাজে লাগালেন তিনি।ব্যাট হাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ইসাখিল। শুরুতে ৪৮ রান করে তাকে সঙ্গ দেন সৌম্য সরকার। সৌম্যর বিদায়ের পর শাহাদাত হোসেন দিপু এবং হাবিবুর রহমান সোহান আসেন ক্রিজে। তবে তারা কেউই ইসাখিলকে সঙ্গ দিতে পারেননি। আউট হয়েছেন দুই অঙ্কে পৌঁছার আগেই।পঞ্চম উইকেটে ব্যাটিংয়ে আসেন নবি। তখন উইকেটের অন্য প্রান্তে ইসাখিল। ডাগআউট থেকে ক্রিজে আসার পরই বাবা-ছেলে আলিঙ্গন করেন একে অপরকে। স্টেডিয়ামে তখন হুট করেই তুমুল উল্লাস লক্ষ্য করা যায়। হঠাৎ করেই যেন জেগে ওঠেন দর্শকরা। আফগান আরেক তারকা রহমানউল্লাহ গুরবাজও খানিকটা খুনসুটি করে বাবা-ছেলের হাতে হাত মিলিয়ে দেন।আরও পড়ুন: আকুর কার্যক্রমে সন্দেহজনক ইঙ্গিত ৮০ শতাংশ কমেছে, কোনো নিয়ম ভাঙা হয়নি: বিসিবিব্যাটিংয়েও বাবা-ছেলে ছিলেন অনবদ্য। চতুর্থ উইকেট জুটিতে কেবল ৩০ বলে ৫৩ রান যোগ করেন তারা। বাবার আউটের আগে বিপিএলের অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি থেকে কেবল ৮ রান দূরে ছিলেন হাসান ইসাখিল। স্টেডিয়ামের সমর্থকদের চাওয়া ছিল, ছেলের বিশেষ এই অর্জন উইকেটের অন্য প্রান্তে থেকেই দেখুক নবি। তবে সেটা পারলেন না তিনি। ১৮তম ওভারের শেষ বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নবি। ১৩ বলে ১৭ রান করেন তিনি।ছেলে ইসাখিলও বিশেষ মাইলফলক ছুঁতে পারেননি। পরের ওভারের প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তবে ৬০ বলে ৯২ রানের ইনিংসে ততক্ষণে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি।নবি-ইসাখিলের বিদায়ের পর ১৮৪ রানেই গুটিয়ে যায় নোয়াখালী। শেষ ১৪ বলে আসে কেবল ১৩ রান