তীব্র শীত ও ঘন কুয়াশায় জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় রাজশাহীর সীমান্তবর্তী এলাকার অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মানবিক দায়িত্ববোধ থেকে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি) শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেছে।রাজশাহী সেক্টর, সীমান্ত ব্যাংক এবং রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর উদ্যোগে গত ৬ ও ৯ জানুয়ারি ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ চরমাজারদিয়া, খানপুর ও সাহেবনগর বিওপির দায়িত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী এলাকায় বসবাসরত শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে কম্বল ও অন্যান্য শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়। এছাড়া ১০ জানুয়ারি সীমান্ত পরিবার কল্যাণ সমিতি (সীপকস)-এর নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শহীদ কর্নেল কাজী এমদাদুল হক পাবলিক স্কুল মাঠে শালবাগান এলাকার শীতার্ত ও প্রতিবন্ধী জনগণের মাঝে কম্বল বিতরণ করা হয়। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে ১১ জানুয়ারি আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কর্নেল সৈয়দ কামাল হোসেন। আরও পড়ুন: রাজশাহীতে আটক নাটোর পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র কারাগারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ দেশের সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চোরাচালান ও মাদক, মানব এবং অস্ত্র পাচার প্রতিরোধে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনমান উন্নয়নে বিজিবি নিয়মিত সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তিনি আরও জানান, বিজিবির মহাপরিচালকের নির্দেশনায় সারা দেশের সীমান্তবর্তী এলাকায় প্রতিটি ব্যাটালিয়নের মাধ্যমে শীতার্ত ও অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হচ্ছে। এরই অংশ হিসেবে রাজশাহী সেক্টরের অধীনস্থ পাঁচটি ব্যাটালিয়ন তাদের দায়িত্বপূর্ণ এলাকায় সহস্রাধিক মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেছে। আরও পড়ুন: ‘আয়ের উৎস’ না থাকলেও রাজশাহীর প্রার্থীদের স্ত্রীরা কোটিপতি তিনি বলেন, বিজিবি হবে সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক—এই মূলনীতি বাস্তবায়নে বিজিবির প্রতিটি সদস্য অঙ্গীকারবদ্ধ। অনুষ্ঠানে রাজশাহী ব্যাটালিয়ন (১ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াজ শাহরিয়ার, পিএসসি, জি, সীমান্ত ব্যাংক রাজশাহীর ম্যানেজার, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং বিজিবির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বিজিবির এই মানবিক উদ্যোগে সীমান্তবর্তী এলাকার শীতার্ত মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে জানান স্থানীয়রা।