আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামি গ্রেফতার

চট্টগ্রামে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ খুনের মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব। এ নিয়ে ওই মামলার ২৩ জন আসামি গ্রেফতার হলো।শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাতে চট্টগ্রাম নগরীর থানার লালদিঘীর পাড় এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার গনেশ নগরের কোতোয়ালি থানা এলাকার সেবক কলোনির শেরীপ প্রকাশ শরিফ দাশের ছেলে। রোববার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে র‌্যাব-৭ সিনিয়র সহকারী পরিচালক এ.আর.এম মোজাফ্ফর হোসেন বলেন, সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও ইসকনের বহিষ্কৃত নেতা চিন্ময় দাসকে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে ঢাকা বিমানবন্দর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরদিন চিন্ময় দাসকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে আদালত জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এসময় চিন্ময় দাসের অনুসারীরা তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করে এবং কারাগারে নিয়ে যেতে বাধা প্রধান করে। পরে আদালত চত্বরে বিক্ষোভকারীরা বেশ কয়েকটি গাড়ি, মোটরসাইকেল ও কোর্ট বিল্ডিং কমপ্লেক্সের নিচতলায় একটি চেম্বার ভাঙচুর করে। বিক্ষোভের একপর্যায়ে আদালতের বিপরীতে দিকে রঙ্গম কনভেনশন সেন্টার এলাকায় থাকা আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে চন্দন, রুমিত দাশ, সুমিত দাশ, গগন দাশ, নয়ন দাশ, বিশাল দাশ, আমান দাশ, সুকান্ত এবং তার অন্য সহযোগীরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। আরও পড়ুন: ইসকনবিরোধী শান্তিপূর্ণ মিছিলকে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড’ বলায় প্রতিবাদ তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা বাদী হয়ে কোতোয়ালী থানায় ৩১ জন এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা ১০/১৫ জনকে আসামি করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ মামলার আসামি গনেশকে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় লালদিঘি পাড়ের জেলা পরিষদ মার্কেট ভবন এলাকায় অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করা হয়। তাকে কোতোয়ালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১ জুলাই চিন্ময়কে প্রধান আসামি করে ৩৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। তবে অভিযোগপত্র গ্রহণের শুনানিতে আদালত মামলা থেকে একজন আসামির অব্যাহতির জন্য তদন্ত কর্মকর্তার সুপারিশ নাকচ করেন। আরও পড়ুন: জামিন পাননি ইসকনের প্রাক্তন নেতা সেই চিন্ময় এর ফলে ওই মামলায় অভিযোগপত্রভুক্ত আসামির সংখ্যা দাঁড়াল ৩৯ জনে। চিন্ময় বাদে বাকি আসামিরা হলেন- চন্দন দাস মেথর, রিপন দাস, রাজীব ভট্টাচার্য্য, শুভ কান্তি দাস, আমান দাস, বুঞ্জা, রনব, বিধান, বিকাশ, রমিত প্রকাশ দাস, রুমিত দাস, নয়ন দাস, ওমকার দাস, বিশাল, লালা দাস, সামীর, সোহেল দাশ রানা, শিব কুমার, বিগলাল, পরাশ, গণেশ, ওম দাস, পপি, অজয়, দেবীচরণ, দেব, জয়, লালা মেথর, দুর্লভ দাস, সুমিত দাস, সনু দাস, সকু দাস, ভাজন, আশিক, শাহিত, শিবা দাস, দ্বীপ দাস ও সুকান্ত দত্ত। মামলার ৩৯ জন আসামির মধ্যে ১৬ জন এখনও পলাতক আছেন।