ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়ায় ব্যাপক হামলা যুক্তরাষ্ট্রের

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনার মধ্যেই সিরিয়ায় ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্র বাহিনী। এই হামলাকে সাম্প্রতিক সময়ে অঞ্চলটিতে সবচেয়ে বিস্তৃত সামরিক অভিযানের একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে। শনিবার (১০ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, একাধিক স্থানে চালানো এই অভিযানে সিরিয়ার বিভিন্ন এলাকায় আইএসের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। তবে হামলার নির্দিষ্ট অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অপারেশন হকআই স্ট্রাইক’ নামে এই অভিযানটি পালমিরায় যুক্তরাষ্ট্র ও সিরীয় বাহিনীর ওপর চালানো প্রাণঘাতী হামলার সরাসরি জবাব হিসেবে পরিচালিত হয়েছে। গত ১৩ ডিসেম্বরের ওই হামলায় দুই মার্কিন সেনা এবং একজন মার্কিন বেসামরিক দোভাষী নিহত হন। ওয়াশিংটনের ভাষ্য অনুযায়ী, হামলাকারী ছিল আইএসের একজন সদস্য। আরও পড়ুন>>ইরানে হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন ট্রাম্পএবার মেক্সিকোতে হামলার ঘোষণা ট্রাম্পেরট্রাম্পের হাত থেকে গ্রিনল্যান্ডকে রক্ষা করতে পারবে ইউরোপ?ভেনেজুয়েলা আক্রমণের পর কিউবাকে হুমকি ট্রাম্পের তবে সিরিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পরে জানায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি নিরাপত্তা বাহিনীরই একজন সদস্য ছিলেন এবং চরমপন্থার অভিযোগে তাকে বরখাস্ত করার প্রক্রিয়ায় রাখা হয়েছিল। শনিবার সেন্টকমের বিবৃতিতে প্রকাশিত ভিডিওতে গ্রামীণ এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা যায়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এক্সে লিখেছেন, ‘আমরা কখনো ভুলবো না এবং কখনো পিছিয়ে যাবো না।’ গত মাসেও পালমিরার হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র ও জর্ডান যৌথভাবে সিরিয়ায় আঘাত হানে। তখন সেন্টকম জানায়, অন্তত ৭০টির বেশি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হয়েছিল। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস পরে জানায়, ওই হামলায় আইএসের একজন সেল লিডারসহ অন্তত পাঁচ সদস্য নিহত হয়। গত ৩ জানুয়ারি যুক্তরাজ্য এবং ফ্রান্সও যৌথভাবে সিরিয়ায় একটি ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় হামলা চালায়, যা আইএস অস্ত্র মজুতের জন্য ব্যবহার করতো বলে দাবি করা হয়। ২০১৪ সালে সিরিয়া ও ইরাকের বড় অংশ দখল করা আইএস পরে আন্তর্জাতিক বিমান হামলা ও স্থানীয় বাহিনীর অভিযানে পরাজিত হলেও সিরিয়ার মরুভূমি অঞ্চলে সংগঠনটির উপস্থিতি এখনো রয়ে গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সন্দিহান। তার প্রথম মেয়াদে সেনা প্রত্যাহারের নির্দেশ দিলেও শেষ পর্যন্ত কিছু মার্কিন বাহিনী সেখানে থেকে যায়। পেন্টাগন গত এপ্রিলে জানায়, আগামী মাসগুলোতে সিরিয়ায় মার্কিন সেনা সংখ্যা অর্ধেকে নামানো হবে। জুনে সিরিয়া বিষয়ক মার্কিন দূত টম ব্যারাক বলেন, ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে মাত্র একটি ঘাঁটি রাখবে। সূত্র: এএফপিকেএএ/