একুশ শতকের সভ্য পৃথিবীতে মধ্যযুগীয় বর্বতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রাতের আধারে ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে একটি স্বাধীন-সার্বভৌম দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে অপহরণ করার নজীর ইতিহাসে বিরল। গত ৩ জানুয়ারি বিরল-এ ঘৃণ্য ইতিহাস রচনা করেছে আধুনিক বিশ্বে গণতন্ত্রের ঝাণ্ডা বহন করা যুক্তরাষ্ট্র। ভেনিজুয়েলা থেকে সদ্য অপহৃত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ও তার স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেস মার্কিন বিচারপ্রক্রিয়ার অপেক্ষায় দিন পার করছেন। তবে তারা যুক্তরাষ্ট্রের জেলে ‘ভালো আছেন’। শনিবার (১১ জানুয়ারি) প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় মাদুরোর ছেলে নিকোলাস মাদুরো গোয়েরা এ তথ্য জানিয়েছেন। ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাসীন দল পিএসইউভি প্রকাশিত ওই ভিডিওতে মাদুরোর ছেলে গোয়েরা জানিয়েছেন, তার বাবা নিকোলাস মাদুরো বলেছেন, ‘আমরা ভালো আছি। আমরা লড়াকু।’ গোয়েরা আরও জানিয়েছেন, আটক অবস্থাতেও তারা মনোবল ধরে রেখেছেন এবং আসন্ন বিচার প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মধ্যরাতে মার্কিন ডেল্টা ফোর্স পরিচালিত সামরিক অভিযানে মাদুরো ও তার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিউইয়র্কে নিয়ে আসা হয়। বর্তমানে তারা ব্রুকলিনের একটি ফেডারেল ডিটেনশন কেন্দ্রে আটক রয়েছেন। শাসরুদ্ধকর ‘অপারেশন অ্যাবসলিউট রিজলভ’ নামের এ অভিযানে ভেনেজুয়েলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় হামলা চালায় মার্কিন বাহিনী। এতে অন্তত ৮০ জনের মৃত্যু হয়েছে যাদের মধ্যে ৩০ জনের বেশি কিউবার সামরিক সদস্য। এরপর ৫ জানুয়ারি অস্ত্র ও মাদকসংক্রান্ত অভিযোগে নিউইয়র্কের আদালতে তোলা হয় মাদুরো এবং সিলিয়া ফ্লোরেসকে। তবে তার বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের আনা এসব অভিযোগে নিজেকে ‘নির্দোষ’ বলে দাবি করেছেন নিকোলাস মাদুরো। আদালতে মাদুরো বলেছেন, আমাকে ভেনেজুয়েলার রাজধানী কারাকাসে আমার বাড়ি থেকে যুক্তরাষ্ট্র আমাকে অপহরণ করেছে। সূত্র: এএফপি কেএম