কাগজে-কলমে বিপিএলের বড় দল রংপুর রাইডার্স। সিলেট, ঢাকা ও চট্টগ্রামকে হারিয়ে রীতিমতো উড়ছিল রংপুর। তবে সবশেষ দুই ম্যাচে নোয়াখালী এক্সপ্রেস ও রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের বিপক্ষে হেরে বসে দলটি। অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান মনে করেন, দলে অনেকগুলো বড় নাম থাকলেও জেতার জন্য সবাইকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে।এবার টুর্নামেন্ট শুরুর আগে সোহান ও মোস্তাফিজুর রহমানের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি করে রংপুর রাইডার্স। এরপর নিলাম থেকে লিটন দাস, তাওহীদ হৃদয়, নাহিদ রানা, মাহমুদউল্লাহর মতো তারকা ক্রিকেটারদের দলে টানে রংপুর। বিদেশি ক্রিকেটারদের মধ্যে পাকিস্তানের ফাহিম আশরাফ, খুশদিল শাহ, ইফতিখার আহমেদ, খাওয়াজা নাফে, সুফিয়ান মুকিমদের মতো তারকাদের দলে নেয় তারা। এছাড়া ইংল্যান্ডের দাউইদ মালান, ওয়েস্ট ইন্ডিজের কাইল মেয়ার্সও আছেন তাদের দলে। এমন তারকা ঠাসা দল নিয়েও বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের তিন নম্বরে অবস্থান করছে রংপুর রাইডার্স। এখন পর্যন্ত ৭ ম্যাচে জয় পেয়েছে ৪টিতে। রাজশাহীর সঙ্গে দুবারের দেখায় দুবারই হেরেছে তারা। টানা ৬ ম্যাচ হারা নোয়াখালীর বিপক্ষেও হেরেছে রংপুর। আরও পড়ুন: আকুর কার্যক্রমে সন্দেহজনক ইঙ্গিত ৮০ শতাংশ কমেছে, কোনো নিয়ম ভাঙা হয়নি: বিসিবি দলের এমন অবস্থায় সবাইকে দায়িত্ব নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন নুরুল হাসান সোহান। ‘আমার কাছে মনে হয় দলে অনেক বড় নাম আছে। কিন্তু আমাদের সবারই আসলে দায়িত্বের জায়গা থেকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। আর যদি বলি গত দুইটা ম্যাচ খুব বাজেভাবে হেরেছি আমরা।’ সোহান বলেন, ‘দেখুন, বোলিং ইউনিট বলি, ব্যাটিং ইউনিট বলি বা ফিল্ডিং—আমাদের দল হিসেবে খেলতে হবে। টুর্নামেন্টে যেহেতু লিগ পর্বে আমাদের আরও তিনটা ম্যাচ আছে, দল হিসেবে আমরা এখনও আমাদের শতভাগ খেলতে পারিনি। যখনই দল হিসেবে আমরা তিনটা জায়গা থেকেই ভালো করবো, তখনই আসলে ভালো ফলাফল সম্ভব।’ আরও পড়ুন: একই দলের হয়ে মাঠে নামলেন বাবা-ছেলে, ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেই প্রথমবার রোববার (১১ জানুয়ারি) সিলেট স্টেডিয়ামে আগে ব্যাট করতে নেমে তাওহীদ হৃদয়ের ৯৭ রানের ইনিংসে ভর করে ১৭৮ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় রংপুর। জবাব দিতে নেমে মুহাম্মদ ওয়াসিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ৭ উইকেটের জয় তুলে নেয় রাজশাহী। এমন হারের পর ফিল্ডারদেরই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছেন সোহান। তবে হৃদয়ের ব্যাটিংয়ের প্রশংসা করেছেন রংপুর অধিনায়ক। ‘দেখুন, হৃদয় অসাধারণ ব্যাটিং করেছে এবং ও ইনিংসটা সুন্দর করে গুছিয়েছে। একই সঙ্গে আমার কাছে মনে হয় মাঝে ৩০ বল আমরা বাউন্ডারি ছাড়া ছিলাম। যেহেতু উইকেট ভালো, অবশ্যই আমার মনে হয় রানটাও ভালো ছিল। কিন্তু আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ ফিল্ডিংটা। মাঝে দুইটা ওভার আমরা যদি ভালো করতে পারতাম তাহলে রান রেটটা ১০ এর উপরে যাওয়া সম্ভব ছিল। যেটা এই উইকেটে কঠিন হতো। কিন্তু আমরা কোনো সময়ই রান রেটটা ১০-এর উপরে নিয়ে যেতে পারিনি।’