অভিষেকেই নোয়াখালীকে জয় এনে দিলেন হাসান ইসাখিল

ঢাকা-নোয়াখালীর ম্যাচে আজ আলাদা করে নজর কেড়েছেন মোহাম্মদ নবি ও তার ছেলে হাসান ইসাখিল। একই সঙ্গে আজ ব্যাট করেছেন দুজনে। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ইতিহাসে যা এবারই প্রথমবার। এদিন ব্যাট হাতে নবি ব্যর্থ হলেও দুর্দান্ত ছিলেন তার ছেলে ইসাখিল। বিপিএলে নিজের অভিষেক ম্যাচেই খেলেছেন ৯২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৮৪ রানের সংগ্রহ দাঁড় করায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস। জবাব দিতে নেমে শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে ঢাকা। ব্যাটিং ব্যর্থতায় শেষ পর্যন্ত ১০ বল বাকি থাকতে ১৪৩ রানে অলআউট হয় ঢাকা ক্যাপিটালস, ৪১ রানের জয় পায় নোয়াখালী।বিপিএলের এবারের আসরে নিজেদের প্রথম ৬ ম্যাচেই হেরেছে নোয়াখালী এক্সপ্রেস। নিজেদের সপ্তম ম্যাচে এসে তারা জয় তুলে নেয় রংপুর রাইডার্সের বিপক্ষে। পরের ম্যাচেই আজ ঢাকা ক্যাপিটালসকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নেয় নোয়াখালী।  আগের ৭ ম্যাচ বেঞ্চে বসে দেখেছেন হাসান ইসাখিল। রোববার (১১ জানুয়ারি) বিপিএলে নিজের প্রথম ম্যাচ খেলতে নামেন এই আফগান। টুর্নামেন্টে নিজের অভিষেক ম্যাচে ওপেনিংয়ে ব্যাট করতে নেমেই খেললেন ৬০ বলে ৯২ রানের হার না মানা ইনিংস। এছাড়া সৌম্য সরকার খেলেন ২৫ বলে ৪৮ রানের ইনিংস।  ১৮৫ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ভালো হয়নি ঢাকা ক্যাপিটালসের। স্কোরবোর্ডে ১৬ রান যোগ হতেই রহমানউল্লাহ গুরবাজের উইকেট হারায় তারা। হাসান মাহমুদের বলে সৌম্য সরকারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ১০ বলে ১১ রান করে।  পরের ওভারে আব্দুল্লাহ আল মামুনকে সাজঘরে ফেরান ইহসানউল্লাহ। মেহেদী হাসান রানার হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে ৯ বলে ২ রান। একই ওভারে সাইফ হাসানকেও সাজঘরে ফেরান এই বোলার। ২ বল খেলে কোনো রান না করেই উইকেটের পেছনে জাকের আলীর হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সাইফ।  আরও পড়ুন: জেতার জন্য সবাইকে আরও বেশি দায়িত্ব নিতে হবে: সোহান স্কোরবোর্ডে আর ২ রান যোগ হতেই পরের ওভারে ফেরেন নাসির হোসেন। মেহেদী হাসান রানার বলে কোনো রান না করেই হাবিবুর রহমান সোহানের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন এই ব্যাটার। ১৯ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস।  এরপর জুটি বাঁধেন মোহাম্মদ মিঠুন ও শামীম হোসেন পাটওয়ারী। দুজনে মিলে স্কোরবোর্ডে যোগ করেন ৩৭ বলে ৫৩ রান। ১১তম ওভারে নবির বলে বাউন্ডারির কাছ থেকে সৌম্য সরকারের দুর্দান্ত এক ক্যাচে আউট হন শামীম। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ১৬ বলে ২৯ রান। এরপর ইনিংস বড় করতে পারেননি মিঠুনও। ৩১ বলে ৩৩ রান করা এই ব্যাটারকে ফেরান নবি।  সাব্বির রহমান ফেরেন ১০ বলে ১৩ রান করে। ইমাদ ওয়াসিম ৩ ও তাইজুল ইসলাম ফেরেন ১ রান করে। শেষ দিকে সাইফউদ্দিনের ২০ বলে ৩৪ রানের ইনিংসটি শুধু হারের ব্যবধানই কমিয়েছে। শেষ পর্যন্ত ১০ বল বাকি থাকতে ১৪৩ রানে থামে ঢাকার ইনিংস। নোয়াখালীর হয়ে হাসান মাহমুদ, ইহসানউল্লাহ, মেহেদী হাসান রানা ও মোহাম্মদ নবি নিয়েছেন ২টি করে উইকেট। এছাড়া ১টি উইকেট নিয়েছেন আবু জায়েদ।  এর আগে ব্যাট করতে নেমে দারুণ শুরু পায় নোয়াখালী এক্সপ্রেস। ব্যাট হাতে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করেন ইসাখিল। শুরুতে ৪৮ রান করে তাকে সঙ্গ দেন সৌম্য সরকার। সৌম্যর বিদায়ের পর শাহাদাত হোসেন দিপু এবং হাবিবুর রহমান সোহান আসেন ক্রিজে। তবে তারা কেউই ইসাখিলকে সঙ্গ দিতে পারেননি। আউট হয়েছেন দুই অঙ্কে পৌঁছার আগেই।  আরও পড়ুন: আকুর কার্যক্রমে সন্দেহজনক ইঙ্গিত ৮০ শতাংশ কমেছে, কোনো নিয়ম ভাঙা হয়নি: বিসিবি পঞ্চম উইকেটে ব্যাটিংয়ে আসেন নবি। তখন উইকেটের অন্য প্রান্তে ইসাখিল। ডাগআউট থেকে ক্রিজে আসার পরই বাবা-ছেলে আলিঙ্গন করেন একে অপরকে। স্টেডিয়ামে তখন হুট করেই তুমুল উল্লাস লক্ষ্য করা যায়। হঠাৎ করেই যেন জেগে ওঠেন দর্শকরা। আফগান আরেক তারকা রহমানউল্লাহ গুরবাজও খানিকটা খুনসুটি করে বাবা-ছেলের হাতে হাত মিলিয়ে দেন।  ব্যাটিংয়েও বাবা-ছেলে ছিলেন অনবদ্য। চতুর্থ উইকেট জুটিতে কেবল ৩০ বলে ৫৩ রান যোগ করেন তারা। বাবার আউটের আগে বিপিএলের অভিষেক ম্যাচে সেঞ্চুরি থেকে কেবল ৮ রান দূরে ছিলেন হাসান ইসাখিল। স্টেডিয়ামের সমর্থকদের চাওয়া ছিল, ছেলের বিশেষ এই অর্জন উইকেটের অন্য প্রান্তে থেকেই দেখুক নবি। তবে সেটা পারলেন না তিনি। ১৮তম ওভারের শেষ বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন নবি। ১৩ বলে ১৭ রান করেন তিনি।  ছেলে ইসাখিলও বিশেষ মাইলফলক ছুঁতে পারেননি। পরের ওভারের প্রথম বলেই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। তবে ফেরার আগে ৬০ বলে ৯২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস উপহার দিয়েছেন হাসান ইসাখিল।  ঢাকা ক্যাপিটালসের হয়ে ২টি করে উইকেট নিয়েছেন মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, তাইজুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ আল মামুন।