ফিফা, এএফসির শর্তপূরণ করে নারী ফুটবল লিগ আয়োজন করতে গিয়ে বেশ কয়েকটি দূর্বল ও মানহীন দলকে নিতে হয়েছে বাফুফেকে। আর তাতেই লিগটা হয়ে পড়েছে প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন। কয়েকটি দল দাপটের সাথে জিতে চলছে, কয়েকটি দলের মধ্যে যেন চলছে হার আর গোল খাওয়ার প্রতিযোগিতা। ২৩-০, ১৮-০, ১৫-০ ব্যবধানের ফলাফল হচ্ছে। ভুটানের লিগগে মানহীন বলে নাক সিঁটকানো নারী জাতীয় দলের প্রধান কোচ পিটার বাটলার এখন স্টেডিয়ামে বসে দেখছেন তার মেয়েদেরই দূর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে গোল উৎসব। এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগ খেলার প্রধান শর্ত একটি দলের কমপক্ষে ম্যাচ হতে হবে ১০টি। তাই বাফুফে ১১ ক্লাবকে লাইসেন্স করিয়ে মাঠে নামিয়ে দিয়েছে। তাতে এএফসির শর্ত পূরণ হবে হয়তো। চ্যাম্পিয়ন হলে এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও সাফ ক্লাব চ্যাম্পিয়নশিও খেলতে পারবে। কিন্তু লিগটা সীমাবদ্ধ হয়ে যাচ্ছে চার-পাঁচটি দলের লড়াইয়ে। সাধারণত সেটা হতেই পারে লিগে। তবে বাকি দলগুলোর অবস্থা যাচ্ছেতাই। এমনকি বর্তমান চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিরও অবস্থা খুব খারাপ। প্রথম চার রাউন্ডে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিসহ কয়েকটি দল প্রতিপক্ষের সামনে দাঁড়াতেই পারেনি। দলগুলোর শক্তির বিশাল পার্থক্যের কারণেই মাঠের ফলাফল এমন হয়ে আসছে। ডাবল হ্যাটট্রিক, হ্যাটট্রিক আর গোলময় হয়ে উঠছে লিগ। প্রথম চার রাউন্ডে ২০টি ম্যাচ হয়েছে। এরই মধ্যে গোল হয়েছে ১৫৭টি। তিনটি ডাবল হ্যাটট্রিক, ১৩টি হ্যাটট্রিক হয়েছে কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে। ডাবল হ্যাটট্রিক করেছেন ফরাশগঞ্জের শামসুন্নাহার জুনিয়র ও মারিয়া মান্দা এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উন্নতি খাতুন কাঁচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে। হ্যাটট্রিকের বন্যা বয়ে গিয়েছিল চতুর্থ রাউন্ডে। ওই রাউন্ডের ৫টি ম্যাচই হয়েছে একদিনে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত। পাঁচ ম্যাচের চারটিতে একটি ডাবল ও ছয়টা হ্যাটট্রিক হয়েছে। কাঁচারিপাড়া একাদশের বিপক্ষে সেনাবাহিনীর ১৮-০ গোলে জয়ের ম্যাচে একটি ডাবল ও দুটি হ্যাটট্রিক হয়েছে। উন্নতি খাতুন ডাবল হ্যাটট্রিক করেছেন। হ্যাটট্রিক করেছেন সুলতানা ও তনিমা। নাসরিনের বিপক্ষে বাংলাদেশ আনসার ও ভিডিপির ৭-১ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে উমেহলা মারমা করেছেন ৫ গোল। ঢাকা রেঞ্জার্সের বিপক্ষে সদ্যপুস্করণীর ৭-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জান্নাতুল করেছেন চার গোল, সিরাজ স্মৃতি সংসদের বিপক্ষে ফরাশগঞ্জের ৯-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে শামসুন্নাহার জুনিয়র চার ও মারিয়া মান্দা ৩ গোল করেছেন। আরআই/আইএইচএস/