জনগণের অধিকার রক্ষায় আজীবন লড়াইয়ের অঙ্গীকার ইশরাকের

অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে জনগণের পাশে থাকার পাশাপাশি ঢাকা-৬ আসনের আওতাভুক্ত এলাকাকে সুন্দর ও বাসযোগ্য করে তুলতে সর্বোচ্চটুকু করার অঙ্গীকার করেছেন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন।রোববার (১১ জানুয়ারি) রাজধানী ৪৪ নম্বর ওয়ার্ডের সর্বস্তরের জনগণের উদ্যোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার মাগফিরাত কামনায় আয়োজিত দোয়া মাহফিলে তিনি এ আশ্বাস দেন। ইশরাক বলেন, নির্বাচনের মধ্য দিয়েই গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথচলা শুরু হয়েছে এবং সেই আন্দোলনে জনগণকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই। আমি আমৃত্যু আপনাদের পাশে থেকে রাজনীতি করতে এসেছি। জনগণের অধিকার, দাবি ও সমস্যা নিয়ে ইনশাআল্লাহ শেষ দিন পর্যন্ত লড়াই করে যাবো। তিনি বলেন, ঢাকা-৬ আসনে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস সংকট ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। মা-বোনেরা রান্না করতে পারছেন না, শিশুদের খাবার প্রস্তুত করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। তিনি ইতোমধ্যে তিতাস গ্যাসের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং তাদের একটি টেকনিক্যাল টিম এলাকায় সার্ভে করে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে দেখা গেছে জাতীয় পর্যায়ে গ্যাসের ঘাটতি, পুরোনো পাইপলাইন, বিপুল পরিমাণ অবৈধ সংযোগ এই তিনটি কারণে বৈধ গ্রাহকরা ঠিকমতো গ্যাস পাচ্ছেন না। ইশরাক বলেন, নির্বাচনী আচরণবিধির কারণে আমি এখন সরাসরি কিছু করতে পারছি না। তবে ফোনে  যতটুকু সম্ভব সমাধান এগিয়ে নিচ্ছি। নির্বাচনের পর প্রতিটি গলি, প্রতিটি পাইপলাইন আমি নিজে দাঁড়িয়ে ইঞ্জিনিয়ার এনে ঠিক করে দেবো ইনশাআল্লাহ। যানজট, বায়ুদূষণ ও জলাবদ্ধতার বিরুদ্ধে সমন্বিত পরিকল্পনার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এই অঞ্চলের যানজট শুধু সময় নষ্ট করে না, বরং বায়ুদূষণ বাড়িয়ে মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ফলে রোগী বাড়ছে, স্বাস্থ্যখাতের ওপর চাপ পড়ছে। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন পুরনো ও অকার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অপরিকল্পিত উঁচু ভবন, অপর্যাপ্ত রাস্তার কারণে একটু বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে যায়।বিএনপির পরিকল্পনায় ঢাকা-৬ এলাকায় নতুন ও আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আরও পড়ুন: যাদের নির্বাচনের সুযোগ নেই, তারা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে: ইশরাক আইনশৃঙ্খলা ও মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের অঙ্গীকার করে ইশরাক হোসেন বলেন, আমরা সরকার গঠন করতে পারলে প্রথম অগ্রাধিকার হবে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা। ধনী-গরিব, নারী-পুরুষ, হিন্দু-মুসলমান—সবাই যেন নিরাপদ বোধ করে। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকার পরিকল্পিতভাবে মাদককে সমাজে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সংসদ সদস্য পর্যন্ত বানানো হয়েছে। বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য বিনামূল্যে প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা হবে। রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে সবচেয়ে দরিদ্র নাগরিক পর্যন্ত সবাই সমান মানের প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা পাবে—এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি। এ সময় শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ বা খেলার জায়গা গড়ে তোলার ঘোষণা দেন তিনি। তিনি বলেন, এই এলাকার মাঠটি আমরা খুব দ্রুত সংস্কার করে দেবো। এটা বড় কোনো বিষয় না—আমি কথা দিচ্ছি। জনগণের জবাবদিহিতায় থাকার অঙ্গীকার করে ইশরাক হোসেন বলেন, বিএনপি একমাত্র দল যারা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পরিবেশ, যানজট ও নাগরিক সেবার জন্য সুনির্দিষ্ট ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা দিয়েছে। আরও পড়ুন: ইসলামি মূল্যবোধেই রাজনীতি করবে বিএনপি: ইশরাক তিনি বলেন, আমি ক্ষমতার জন্য নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য রাজনীতি করি। অতীতেও করেছি, আগামীতেও করবো। আপনারাই আমাকে জবাবদিহিতার মধ্যে রাখবেন। তিনি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক মকবুল হোসেন টিপু, সদস্য মো. আক্তার হোসেন, সুত্রাপুর থানার আহবায়ক আজিজুল ইসলাম আজিজ, সদস্য সচিব দেলোয়ার হোসেন মোল্লা , ৪৪ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি তারেক আহমেদ জন, সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান খান প্রদীপ, পঞ্চায়েত কমিটি সভাপতি মো. তমিজউদ্দিন, নূর মসজিদ কমিটির সভাপতি মো. শুক্কুর, ইমাম জয়নাল আবেদীন, পঞ্চায়েত কমিটি-ক্যাশিয়ার রজ্জব আলী, সেলিনা বেগম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।