সংবাদ সম্মেলনে বাবা নবি বসে আছেন, ছেলে হাসান একটু পরই এলেন। নবি বলে উঠলেন, ‘আসেন ওস্তাদ, আসেন।’ হাসান বললেন ধন্যবাদ, সবাইকে অপেক্ষার জন্য। বাবার সঙ্গে ব্যাটিং, বিপিএলে অভিষেকে ৫ চার ও ৭ ছক্কায় ৯২ রানের দুর্দান্ত ইনিংস। এমন দিনে ছেলেকে তো বাবা ওস্তাদ বলতেই পারেন। ম্যাচ তখন শেষ, টানা ৬ ম্যাচ হারা নোয়াখালি এক্সপ্রেস জিতেছে টানা দুই ম্যাচ। ম্যাচসেরা ছেলে হাসান ইশাখিলকে নিয়ে হেঁটে আসছেন বাবা মোহাম্মদ নবি। ব্রডকাস্টিং চ্যানেলের ম্যাচ পরবর্তী শো’তে বসতে হবে দুজনকে। হাসান হাঁটছেন, পিছে বাবা নবি। তার মুখ থেকে যেন হাসি সরছেই না, বোঝাই যাচ্ছে গর্বিত বাবার আজ খুশির শেষ নেই! এর মধ্যে জানা গেলো দুজনেই আসবেন সংবাদ সম্মেলনে। এতে সাংবাদিকদের মধ্যেও যেন খুশির রেশ ছড়িয়ে পড়লো। সাধারণত একজনই আসেন সংবাদ সম্মেলনে, তবে এদিন তো বিশেষ দিন, ঐতিহাসিক দিন। সংবাদ সম্মেলনে আসার পথে হাসান বলে উঠলেন, ‘কম কম প্রশ্ন করবেন প্লিজ,’ পাশ থেকে নবীর কণ্ঠেও একই সুর, ‘ছোট করে করতে হবে।’ কিন্তু এদিন কি আর ছোট হয়, এদিন তো বাবা-ছেলের কাছে প্রশ্নের তালিকা তো লম্বাই। কিন্তু ছোট করতে বললেও বাবা-ছেলে কেউই মনে হলো না সংবাদ সম্মেলন বড় হলেও অখুশি হতেন! ছেলে হাসান একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দেন, আর পাশ থেকে গর্বিত চোখে ছেলের দিকে তাকিয়ে দেখেন নবি। সংবাদ সম্মেলনে কে আগে প্রশ্ন করবেন এ নিয়েও মিনিট খানেক চললো মজার তর্ক-বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত প্রথম প্রশ্নটা হলো সেঞ্চুরি মিস নিয়ে! এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল বাবাকে নন স্ট্রাইকে রেখে সেঞ্চুরি করবেন তিনি। যদিও সেটা হয়নি শেষ পর্যন্ত। সেঞ্চুরি মিসের প্রশ্নে হাসান বললেন, ‘আমি আসলে ভাবছিলাম, মানে আমি অপেক্ষা করছিলাম একটা ছক্কা মারার জন্য, যাতে প্রতিপক্ষের জন্য একটা বড়, ভালো টোটাল দাঁড় করাতে পারি। আমার সেঞ্চুরি মিস হওয়াটা নিয়ে আমি তেমন বেশি দুঃখিত নই। আমি আসলে একটা ছক্কা মারার জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।’ সংবাদ সম্মেলনে আসার আগে অবশ্য ব্রডকাস্টিং চ্যানেলের শো’তে নবী বলেছেন, ছেলেকে বলেছিলেন নিচে শট খেলার জন্য। যদিও ছেলের সেঞ্চুরি নয়, বরং দলের পুঁজি বড় করাতেই ছিল মনোযোগ। পাশ থেকে গর্বিত চোখে তাকিয়ে ছেলেকে দেখছিলেন নবি। পরের প্রশ্নটা গেলো তার কাছে, ছেলের এমন ব্যাটিং, ম্যাচ সেরা হওয়া এক দলে খেলা কতটা বিশেষ! উত্তরে গর্বের হাসি হেসে নবি বললেন, ‘হ্যাঁ, আমি সত্যিই খুব খুশি আমার ছেলের সঙ্গে একসাথে খেলতে পেরে এবং আমি এটা অনেকদিন ধরেই অপেক্ষা করছিলাম। আমি তাকে একজন পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে তৈরি করেও এনেছি। অভিষেকে সে সত্যিই খুব ভালো পারফর্ম করেছে। আমরা দুজন একই ক্রিজে ছিলাম তখন তাকে পরিস্থিতিটা বলছিলাম—কী চলছে, পরের বলটা কেমন হতে পারে, ফাস্ট নাকি স্লো। আর সে সেটা জানে, সে ওই বলগুলোর জন্য অপেক্ষা করছিল। আর সে খুব ভালো খেলেছে।’ সবমিলিয়ে দুজনই গর্বিত একে অপরকে গর্বিত করে। আর তাতে সংবাদ সম্মেলনটাও হলো মন খোলা। ক্রিকেট আইডল কে প্রশ্ন করতেই হাসতে হাসতে গর্বিত কন্ঠে নিজের বাবার নাম উচ্চারণ করেন হাসান। পর মুহূর্তে নবি শোনালেন কীভাবে ছেলেকে প্রস্তুত করেছেন, এমনকি ম্যাচের আগের দিনও। নবি বলেন, ‘আমরা গতকালই (শনিবার) দেড় ঘণ্টা সময় কাটিয়েছি এবং তাকে (হাসান) ম্যাচের জন্য প্রস্তুত করেছি। তাকে পরিস্থিতি সম্পর্কে বলেছি, বোলারদের সম্পর্কে বলেছি, কী ধরনের বোলার তোমার দিকে বল করবে সেটাও বলেছি। আমরা গতকাল অনুশীলনেও এসব নিয়ে আলোচনা করেছি। বাংলাদেশে এই ট্রিকি পিচে খেলাটা সহজ নয়। গত প্রায় বিশ দিন ধরে সে এই মুহূর্তের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করছিল, আর সে সেই মুহূর্তটা ধরতে পেরেছে, হ্যাঁ, খুব ভালোভাবে।’ এসকেডি/এমএমকে