ভেনেজুয়েলা থেকে আর তেল বা অর্থ যাবে না কিউবায়, ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ভেনেজুয়েলার তেল বা অর্থ আর কিউবায় যাবে না এবং কমিউনিস্ট-শাসিত দ্বীপটির ওয়াশিংটনের সাথে একটি চুক্তি করার পরামর্শ দিয়েছেন। যা দীর্ঘদিনের মার্কিন শত্রুর সাথে বিরোধ বাড়িয়েছে এবং দ্বীপের নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বিদ্বেষপূর্ণ কথাবার্তা উস্কে দিয়েছে।ভেনেজুয়েলা কিউবার বৃহত্তম তেল সরবরাহকারী। কিন্তু শিপিং তথ্য অনুসারে, জানুয়ারির শুরুতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ধরে ফেলার পর থেকে কোনো পণ্যবাহী জাহাজ কারাকাসের বন্দর থেকে ক্যারিবিয়ান দেশে যায়নি। ইতিমধ্যে, কারাকাস এবং ওয়াশিংটন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৫০ মিলিয়ন ব্যারেল পর্যন্ত ভেনেজুয়েলার তেল সরবরাহের জন্য ২ বিলিয়ন ডলারের একটি চুক্তিতে এগিয়েছে। যার অর্থ মার্কিন ট্রেজারি-তত্ত্বাবধানে অ্যাকাউন্টে জমা করা হবে, যা ট্রাম্প এবং ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজের মধ্যে উদীয়মান সম্পর্কের একটি বড় পরীক্ষা। আরও পড়ুন:‘বেশি দেরি হওয়ার আগে চুক্তি করো’, কিউবাকে ট্রাম্পের হুমকি! রোববার (১১ জানুয়ারি) ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে লিখেছেন, ‘কিউবায় আর তেল বা টাকা যাবে না - শূন্য! আমি দৃঢ়ভাবে তাদের একটি চুক্তি করার পরামর্শ দিচ্ছি, খুব দেরি হওয়ার আগেই।’ ‘কিউবা বহু বছর ধরে ভেনেজুয়েলা থেকে আসা বিপুল পরিমাণ তেল এবং অর্থের উপর নির্ভর করে বেঁচে ছিল।’ ট্রাম্প আরও বলেন। এদিকে, কিউবার প্রেসিডেন্ট মিগুয়েল ডিয়াজ-ক্যানেল সোশ্যাল মিডিয়ায় ট্রাম্পের হুমকি প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, কিউবার উপর চুক্তি চাপিয়ে দেয়ার কোনো নৈতিক অধিকার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেই।‘কিউবা একটি স্বাধীন, স্বতন্ত্র এবং সার্বভৌম জাতি। আমরা কী করি তা কেউ নির্দেশ দেয় না।’ ডিয়াজ-ক্যানেল এক্স-এ বলেছেন। ‘কিউবা আক্রমণ করে না। একে ৬৬ বছর ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করে এসেছে। কিউবা হুমকি দেয় না; এটি রক্তের শেষ ফোঁটা পর্যন্ত মাতৃভূমি রক্ষার জন্য প্রস্তুত।’ বলেন ডিয়াজ।  এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার প্রস্তাবিত চুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু বলেননি।কিন্তু কিউবার উপর ট্রাম্পের চাপ আঞ্চলিক শক্তিগুলোর ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বিস্তার করার লক্ষ্যকেই প্রকাশ করে এবং পশ্চিম গোলার্ধে আধিপত্য বিস্তারের প্রশাসনের উচ্চাকাঙ্ক্ষার গুরুত্বকে তুলে ধরে। গত কয়েক দিন আগে ভেনেজুয়েলার ওপর হামলা ও প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই কিউবার ওপর সম্ভাব্য মার্কিন হামলার আশঙ্কা বেড়ে গেছে। আরও পড়ুন:এবার কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে ট্রাম্পের হুমকি, বললেন কিউবাও পতনের মুখে মার্কিন কর্মকর্তারা সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিউবার বিরুদ্ধে তাদের বক্তব্য আরও কঠোর করেছেন, যদিও সাবেক নেতা ফিদেল কাস্ত্রোর ১৯৫৯ সালের বিপ্লবের পর থেকে দুটি দেশের মধ্যে বিরোধ রয়েছে। সূত্র: রয়টার্স