ডিজিটাল যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। ছবি, ভিডিও, ব্যক্তিগত বার্তা থেকে শুরু করে ইমেইল ও ফোন নম্বর সবকিছুই এক জায়গায় জমা থাকে ইনস্টাগ্রামের মতো প্ল্যাটফর্মে। সম্প্রতি ১ কোটি ৭৫ লাখ ইনস্টাগ্রাম ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ডার্ক ওয়েবে ফাঁস হয়েছে বলে জানা গেছে। যখন কোনোভাবে এই তথ্য ফাঁস হয়, তখন তা শুধু অনলাইন নয়, বাস্তব জীবনেও ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই ইনস্টাগ্রামে ডাটা লিক বা সন্দেহজনক কিছু ঘটলে দ্রুত ও সঠিক পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথমে নিশ্চিত হোন আপনার ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছে কি না। যদি হয়ে থাকে তাহলে এই পদক্ষেপগুলো নিন যত দ্রুত সম্ভব- ১. পাসওয়ার্ড ও লগইন সুরক্ষা নিশ্চিত করুনপ্রথমে আপনার ইনস্টাগ্রাম পাসওয়ার্ড বদলান। এমন একটি পাসওয়ার্ড ব্যবহার করুন, যা আগে কোথাও ব্যবহার করা হয়নি এবং যেখানে বড়-ছোট অক্ষর, সংখ্যা ও বিশেষ চিহ্নের সমন্বয় থাকবে। একই সঙ্গে যেসব ডিভাইসে আগে আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করা ছিল, সেগুলো সেটিংস → সিকিউরিটি → লগইন অ্যাক্টিভিটি থেকে রিমুভ করে দিন। এতে অন্য কেউ ঢুকে থাকলে তাৎক্ষণিকভাবে বের হয়ে যাবে। ২. ইনস্টাগ্রামে রিপোর্ট ও সাপোর্টে জানানযদি আপনি নিশ্চিত হন বা প্রবল সন্দেহ থাকে যে আপনার তথ্য ফাঁস হয়েছে, তাহলে ইনস্টাগ্রামের হেল্প সেন্টার থেকে কম্প্রোমাইজড অ্যাকাউন্ট বা ডাটা অ্যান্ড প্রাইভেসি বিভাগে রিপোর্ট করুন। এতে তারা আপনার অ্যাকাউন্টের ওপর অতিরিক্ত নজরদারি করতে পারে এবং প্রয়োজনে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে পারে। ৩. ই-মেইল ও ফোন নম্বর যাচাই করুনহ্যাকাররা প্রায়ই ফাঁস হওয়া তথ্য ব্যবহার করে ই-মেইল বা ফোন নম্বর বদলে দেয়, যাতে আপনি আর অ্যাকাউন্ট ফেরত না পান। তাই সেটিংস → অ্যাকাউন্টস → পার্সনাল ইনফরমেশন অংশে গিয়ে নিশ্চিত করুন আপনার ই-মেইল ও ফোন নম্বর ঠিক আছে। প্রয়োজনে সঙ্গে সঙ্গে আপডেট করুন এবং ই-মেইলের পাসওয়ার্ডও বদলে নিন। ৪. সন্দেহজনক মেসেজ ও লিংক থেকে দূরে থাকুনডাটা ফাঁসের পর ফিশিং আক্রমণ বেড়ে যায়। অনেকেই ভুয়া “ইনস্টাগ্রাম সাপোর্ট” সেজে মেসেজ বা ই-মেইল পাঠায়। কোনো অচেনা লিংকে ক্লিক করবেন না এবং কখনোই আপনার পাসওয়ার্ড বা কোড কাউকে দেবেন না। ইনস্টাগ্রামের অফিসিয়াল মেইল সাধারণত @mail.instagram.com ডোমেইন থেকে আসে এটাও যাচাই করা জরুরি। ৫. থার্ড-পার্টি অ্যাপ ও ওয়েবসাইটের অ্যাক্সেস বাতিল করুনঅনেক সময় আমরা বিভিন্ন ফলোয়ার টুল, অ্যানালিটিক্স বা ফিল্টার অ্যাপে ইনস্টাগ্রাম দিয়ে লগইন করি। এসব অ্যাপের মধ্য দিয়েই তথ্য ঝুঁকিতে পড়ে। সেটিংস → সিকিউরিটি → অ্যাপস অ্যান্ড ওয়েবসাইটস এ গিয়ে যেসব অ্যাপ আর ব্যবহার করছেন না, সেগুলোর অ্যাক্সেস রিমুভ করে দিন। ৬. টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু করা অত্যন্ত জরুরিটু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন চালু থাকলে শুধু পাসওয়ার্ড জানলেই কেউ অ্যাকাউন্টে ঢুকতে পারবে না; অতিরিক্ত একটি কোড লাগবে। এই কোড সাধারণত আপনার ফোন বা অথেন্টিকেটর অ্যাপে আসে। এটি চালু করতে সেটিংস → সিকিউরিটি → টু-ফ্যাক্টর অথেন্টিকেশনে গিয়ে এসএমএস বা অথেন্টিকেটর অ্যাপ বেছে নিন। ৭. নিজের তথ্য কতটা উন্মুক্ত আছে তা কমানপ্রোফাইল পাবলিক থাকলে আপনার অনেক তথ্য সহজেই দেখা যায়। প্রয়োজনে অ্যাকাউন্ট প্রাইভেট করুন। বায়ো, ফোন নম্বর, ই-মেইল বা লোকেশন ট্যাগের মতো সংবেদনশীল তথ্য সরিয়ে ফেলুন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এগুলো অপব্যবহার করতে না পারে। ৮. নিয়মিত মনিটর ও সচেতন থাকুনকিছুদিন নিয়মিত আপনার লগইন অ্যাক্টিভিটি, ই-মেইল নোটিফিকেশন এবং ইনস্টাগ্রামের সিকিউরিটি অ্যালার্ট দেখুন। অস্বাভাবিক কিছু দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিন। পাশাপাশি আপনার অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া বা অনলাইন অ্যাকাউন্টেও একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করলে সেগুলোও বদলে ফেলুন। আরও পড়ুনইনস্টাগ্রামে আসছে নতুন এআই ফিচার, যেসব সুবিধা পাবেনটিকটকের জনপ্রিয় ফিচার পাবেন ইনস্টাগ্রামে সূত্র: ইনস্টাগ্রাম হেল্প, পিজি ম্যাক কেএসকে