বাংলাদেশের তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) এক বিশেষ শোকসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে।সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিকেলে উত্তরার বিজিএমইএ কমপ্লেক্সের নুরুল কাদের অডিটোরিয়ামে এই শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজিএমইএ এর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান। শোকসভায় অন্যদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএ সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খান, সহ-সভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহ-সভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, পরিচালক শাহ রাঈদ চৌধুরী, পরিচালক মো. হাসিব উদ্দিন, পরিচালক মোহাম্মদ আবদুস সালাম, পরিচালক নাফিস- উদ- দৌলা, পরিচালক সুমাইয়া ইসলাম, পরিচালক ফাহিমা আক্তার, পরিচালক মজুমদার আরিফুর রহমান, পরিচালক শেখ হোসেন মোহাম্মদ মোস্তাফিজ, পরিচালক এ.বি.এম. সামছুদ্দিন,পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী, পরিচালক মোহাম্মদ সোহেল,পরিচালক সামিহা আজিম, সাধারণ সদস্যবৃন্দ এবং পোশাক খাতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।শুরুতে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন বিজিএমইএ এর প্রাক্তন সভাপতি কাজী মনিরুজ্জামান এবং বিজিএমইএ এর পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী। তারা দেশের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও দীর্ঘ পথচলায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অসামান্য ও আপসহীন অবদান গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।আরও পড়ুন: রূপগঞ্জে বেগম জিয়ার রুহের মাগফেরাত কামনায় দোয়া, মেডিকেল ক্যাম্পঅনুষ্ঠানে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান তার আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একজন আপসহীন নেত্রী এবং দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক। তিনি ছিলেন আমাদের পোশাক শিল্পের সত্যিকারের বন্ধু। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে যখন এই শিল্প শৈশবকাল পার করছিল, তখন তিনি বড় বড় সুযোগ-সুবিধা ও নগদ প্রণোদনা দিয়ে আমাদের পথচলা সহজ করে দিয়েছিলেন। তার সরকারের সময়কালে পোশাক রফতানি প্রথমবারের মতো ১ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলক স্পর্শ করে।’সেলিম রহমান আরও উল্লেখ করেন, ‘২০০৪ সালে কোটা প্রথা (MFA Phase Out) বিলুপ্তির সংকটময় সময়ে তিনি 'জাতীয় কো-অর্ডিনেশন কমিটি' গঠন করে সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, যার ফলে আমাদের শিল্প আজ বিশ্ববাজারে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। বিজিএমইএ এর ওপর আস্থা রেখে তিনি ইউডি ও ইউপি দেয়ার ক্ষমতা দিয়েছিলেন, যা ব্যবসার গতি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। মুক্তবাজার অর্থনীতি প্রবর্তন, ব্যবসা পরিচালনা ব্যয় কমানো, ব্যবসা সহজীকরণ, এবং নারী শিক্ষায় উপবৃত্তি চালুর মাধ্যমে তিনি এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনেছিলেন।অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন বিজিএমইএ এর পরিচালক ড. রশিদ আহমেদ হোসাইনী। অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ ভিডিও ডকুমেন্টারি প্রদর্শন করা হয়। ভিডিওতে দেশের অর্থনীতি, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বিশেষ করে পোশাক শিল্পের প্রসারে তার গৃহীত যুগান্তকারী পদক্ষেপসমূহ তুলে ধরা হয়।আলোচনা সভা শেষে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফেরাত এবং দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।