ভারতে বিশ্বকাপে নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্ক, বিসিবির ব্যাখ্যায় স্বস্তি

ক\'দিন আগে সাত সকালে হঠাৎ করেই ঘুম হারাম হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের। চাউর হয়ে পড়ে যে, আইসিসি বাংলাদেশের সব ধরনের আবেদন নাকচ করে দিয়েছে। বাংলাদেশকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে— টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে হলে ভারতের মাটিতেই খেলতে হবে, বিকল্প কোনো দেশে খেলা হবে না। আর না খেললে বাংলাদেশকে সোজাসুজি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে ‘ফারফিট’ (বাজেয়াপ্ত বা বাতিল) করে দেওয়া হবে। সে খবরে দেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের বুক প্রায় ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। ভারতে গিয়ে হোক বা না হোক— বাংলাদেশ যেন বিশ্বকাপ খেলতে পারে, এই প্রত্যাশা, আশা ও স্বপ্ন ছিল প্রতিটি টাইগারভক্তের। টাইগারদের নিয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে দেখা স্বপ্ন ভেঙে গেছে ভেবে অনেকেই আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কেঁদে ফেলেছিলেন। পরে জানা যায়, খবরটি মিথ্যা। খোদ বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল জাগো নিউজের মাধ্যমে সারা দেশকে জানিয়ে দেন, আইসিসি এমন কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, কিংবা বিসিবিকে তেমন কিছু জানায়নি। পরবর্তীতে বিসিবির পক্ষ থেকে এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘আইসিসি বাংলাদেশকে না করে দেয়নি। বরং বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে নিরাপত্তা ঝুঁকি ও আশঙ্কার কারণে বিশ্বকাপ খেলতে যেতে চাচ্ছে না—সে বিষয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ বিবরণ চেয়েছে।’ এরপর কেটে গেছে তিন–চার দিন। আজ বিকেলে আবার যেন বিনা মেঘে বজ্রপাত। ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের একটি বক্তব্য মিশ্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দিয়েছে। সোমবার বিকেলে ক্রীড়া উপদেষ্টা মিডিয়াকে জানান, ‘আইসিসির সিকিউরিটি টিম একটি চিঠি দিয়েছে, যেখানে তিনটি বিষয়ে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে— এক, দলে মোস্তাফিজুর রহমানের অন্তর্ভুক্তি; দুই, সমর্থকদের জাতীয় দলের জার্সি পরে চলাফেরা; এবং তিন, নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, নিরাপত্তা ঝুঁকি তত বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা।’ খুব স্বাভাবিকভাবেই আইসিসির সিকিউরিটি কমিটির এই চিঠির ভাষ্য ক্রিকেট অনুরাগীদের মধ্যে তীব্র নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। চিঠির বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে— ভারতের মাটিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলাকে ঘিরে বড় ধরনের ঝুঁকি রয়েছে। বিষয়টি শুধু মোস্তাফিজ কিংবা টাইগারদের জন্য নয়, বাংলাদেশি সমর্থকরাও সেখানে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি যখন এমন চিঠি দেয়, তখন ধরে নেওয়াই যায়—তাদের নিরাপত্তা ইউনিটও বিষয়টি নিয়ে উদ্বিগ্ন ও শঙ্কিত। এখন আইসিসির সিকিউরিটি কমিটিই যদি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা স্বীকার করে নেয়, তাহলে বুঝতে কষ্ট হয় না যে— বাংলাদেশের ক্রিকেটার, টিম বাংলাদেশ এবং টাইগার সমর্থকরা বর্তমানে ভারতের মাটিতে নিরাপদ নন। তাদের নিরাপত্তা প্রকৃত অর্থেই ঝুঁকির মুখে। ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— তাহলে কি ভারতে খেলার সব পথই বন্ধ হয়ে গেল? বাংলাদেশ যে আইসিসির কাছে বিকল্প ভেন্যুর জন্য চিঠি দিয়েছিল, এই চিঠিটি কি সেই আবেদনের জবাব? এরই মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনুসের উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ ঘণ্টাখানেক আগে ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে স্পষ্ট করে দিয়েছেন— ‘না, এটি আইসিসির আনুষ্ঠানিক জবাব নয়।’ আজাদ মজুমদারের বক্তব্য অনুযায়ী, ‘ক্রীড়া উপদেষ্টা আইসিসির সঙ্গে বিসিবির যোগাযোগের যে কথা বলেছেন, সেটি আসলে ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ঘিরে সম্ভাব্য হুমকি পর্যালোচনার বিষয়ে আইসিসির আন্তঃবিভাগীয় একটি নোট।’ সরকারপ্রধানের উপ-প্রেস সচিবের এই সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা বাংলাদেশের ক্রিকেট অনুরাগীদের মনে কিছুটা প্রশান্তি ফিরিয়ে এনেছে। তার কথায় টাইগার সমর্থকরা আবারও আশায় বুক বাঁধছেন। সবার ধারণা—আইসিসির চূড়ান্ত জবাব ও সিদ্ধান্ত এখনো আসেনি। তবে এমন পরিস্থিতিতেও বিসিবি হঠাৎই নীরব। ক্রীড়া উপদেষ্টার বক্তব্য মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার হওয়ার কয়েক ঘণ্টা পর, সোমবার রাত ৮টায় বিসিবি এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে ব্যাখ্যা দেয়। বিসিবির ভাষ্য অনুযায়ী, ক্রীড়া উপদেষ্টা যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটি বিসিবি ও আইসিসির নিরাপত্তা বিভাগের মধ্যে হওয়া আলোচনার একটি নোট মাত্র। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নয়। বিসিবি আরও জানায়, ভারত থেকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ভেন্যু অন্য দেশে স্থানান্তরের অনুরোধ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক জবাব পাওয়া যায়নি। সবশেষে জানানো হয়, বিসিবি এখন আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। এআরবি/আইএইচএস/