পানির চেয়ে কম দামে মিলছে আলু, লোকসানে রংপুরের চাষিরা

রংপুর অঞ্চলে পানির চেয়ে কম দামে মিলছে আলু। হিমাগারে রাখা পুরানো আলু বিক্রি হচ্ছে কেজিতে মাত্র ২ থেকে ৩ টাকায়। আগাম আলুর চাহিদা কম থাকায় সেটিও বিক্রি হচ্ছে ৮ থেকে ১০ টাকায় কেজিতে। এতে কৃষক ও হিমাগার মালিকরা ব্যাপক লোকসানের মুখে পড়েছেন।গত মৌসুমে আলুতে ব্যাপক লোকসানের পর এবার আগাম আলু চাষে আশায় বুক বেঁধেছিল চাষিরা। কিন্তু কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় কৃষকদের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে। চাষিরা জানান, ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকার খরচ হয়েছে জমিতে। কিন্তু এত টাকা উঠবে না। ব্যবসায়ীরা জমিতে আসে না, কৃষকরা নিজেরাই আলু তুলে আনে, কিন্তু পছন্দ মতো দাম পান না। বাজারের মূল্য আগাম জানা যায় না, পাশাপাশি চট্টগ্রাম বা সিলেটের মতো বিভিন্ন জায়গায়ও আলুর চাহিদা নেই। আরও পড়ুন: বেঁধে দেয়া দামের বাস্তবায়ন নেই, আলু নিয়ে বিপাকে চাষি-হিমাগার মালিকরা গত মৌসুমে বিভাগের ১১৬টি হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করা হয়েছিল ১১ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। ডিসেম্বর মাসে হিমাগারে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন আলু অবশিষ্ট ছিল। কৃষকরা হিমাগার থেকে আলু বের না করায় মালিকরা বাধ্য হয়ে ২ থেকে ৩ টাকায় বিক্রি করছেন। রংপুরের গোল্ডেন হিমাগার লিমিটেডের ম্যানেজার বায়েজিদুর রহমান জুয়েল বলেন, ‘২ থেকে ৩ বা সাড়ে ৩ টাকায় আলু বিক্রি করতে হচ্ছে। এতে হিমাগার মালিক যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তেমনি কৃষক ও গ্রাহকরাও শতভাগ ক্ষতির মুখে পড়েছেন। কৃষি বিপণন অধিদফতর বলছে, চাহিদার থেকে উৎপাদন বেশি হওয়ায় লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের। রংপুর কৃষি বিপণন অধিদফতরের সহকারী কৃষি বিপণন কর্মকর্তা শাহীন আহমেদ বলেন, বাজারে প্রচুর পরিমাণ পুরানো আলু রয়েছে, সঙ্গে নতুন আলু যোগ হয়েছে। এতে সরবরাহ বেশি হওয়ায় দাম কমেছে। চলতি মৌসুমে রংপুর অঞ্চলে ১ লাখ ৬ হাজার হেক্টর জমিতে আলুর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ২০ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন।