ঠান্ডার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে রোগবালাই, আক্রান্তের বেশির ভাগই শিশু-বৃদ্ধ

মাদারীপুরে তীব্র শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বর, সর্দি, কাশি, শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগ। প্রতিদিনই সরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, যার বেশির ভাগই শিশু ও বৃদ্ধ। শয্যার ধারণক্ষমতার তুলনায় রোগীর সংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হওয়ায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক ও নার্সরা।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) সরেজমিনে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে দেখা যায়, শিশু ওয়ার্ড ও ডায়রিয়া ওয়ার্ডে রোগীর চাপ বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। ঠান্ডাজনিত রোগের পাশাপাশি কারও কারও চর্মরোগেও আক্রান্ত হওয়ার খবর মিলেছে। একই সঙ্গে বহির্বিভাগেও রোগীর দীর্ঘ সারি দেখা যায়। এ অবস্থায় কাঙ্ক্ষিত সেবা না পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিন গড়ে শুধু এই হাসপাতালে অন্তঃবিভাগ ও বহির্বিভাগ মিলিয়ে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। অনুমোদিত ১৬৪ জন জনবলের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন চিকিৎসক-নার্সসহ ১৩৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। দীর্ঘদিন ধরে ২৯টি পদ শূন্য থাকায় স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।মাদারীপুর পৌর এলাকার বাসিন্দা কহিনুর বেগম বলেন, ‘আমার নানির নিউমোনিয়া হয়েছিল। প্রথমে খুব ভয় পেয়েছিলাম। চার দিন চিকিৎসার পর এখন কিছুটা সুস্থ।’আরও পড়ুন: টানা দুই সপ্তাহ চুয়াডাঙ্গায় শৈত্য প্রবাহ অব্যাহতসদর উপজেলার মোস্তফাপুর থেকে আসা সীমা আক্তার বলেন, ‘বাইরে কাজ করতে গিয়ে ঠান্ডা লেগে যায়। পরে আমার ছেলেও আক্রান্ত হয়। জ্বর সেরে না ওঠায় সরকারি হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।’মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স কনিকা শিকদার বলেন, ‘শীতের মৌসুমে ঠান্ডাজনিত রোগ থেকে বাঁচতে বাইরে বের হলে অবশ্যই গরম পোশাক পরতে হবে। মায়েদের নিজেদের সুস্থ থাকার পাশাপাশি সন্তানদেরও ঠান্ডা থেকে রক্ষা করতে হবে। শিশু, বৃদ্ধ বা যেকোনো ব্যক্তির ঠান্ডাজনিত উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত সরকারি হাসপাতালে এসে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।’শীতের প্রকোপ অব্যাহত থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।