ঘন ঘন মেকআপ ব্র্যান্ড পরিবর্তনে ত্বকের যে ক্ষতি হয়

তারুণ্য ও দীপ্তিময় ত্বক পাওয়ার জন্য বর্তমানে অনেকেই বিভিন্ন পন্য ব্যবহার করেন। কারণ সবাই চাই ত্বক হবে দাগহীন, নরম, কোমল। শুধু এই কারণেই বাজারভর্তি এখন হাজার হাজার পণ্যে।ইনফ্লুয়েন্সার বা সেলিব্রিটি পোস্ট দেখে আমরা নতুন পণ্য কিনতে উৎসাহী হন। কিন্তু বাজারে নতুন পণ্য এলেই সঙ্গে সঙ্গে কিনে ফেলার সিদ্ধান্ত কি সত্যিই ত্বকের জন্য ভালো? নাকি এতে ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। চলুন জেনে নেওয়া যাক- ত্বকের সমস্যা, বিশেষ করে ব্রণ, অনেক সময় আমাদের নিজের অভ্যাসের ফল। ঘন ঘন নতুন মেকআপ ব্র্যান্ড ব্যবহার ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তরকে পরিবর্তন করে দেয়। জার্নাল অব ক্লিনিক্যাল অ্যান্ড এসথেটিক ডার্মাটোলজির তথ্য থেকে জানা গিয়েছে, প্রত্যেকের ত্বকের উপর একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা স্তর থাকে। ফলে বারবার মেকআপ পণ্য পরিবর্তন ত্বকের ধরন পরিবর্তন করে। ঘনঘন কেমিক্যাল, সুগন্ধি এবং প্রিজারভেটিভের পরিবর্তন ত্বক সহ্য করতে পারে না। ফলে ব্যাকটেরিয়া ত্বকে প্রবেশ করে এবং ব্রণ বাড়তে পারে। আমেরিকান একাডেমি অব ডার্মাটোলজি অনুসারে, নতুন মেকআপ ব্যবহার করার ২–৩ সপ্তাহের মধ্যেই ব্রণ বাড়লে, তার অন্যতম কারণ হচ্ছে প্রোডাক্টের উপাদান। একটি নতুন প্রোডাক্টে ত্বক মানিয়ে নিতে গড়ে ২–৪ সপ্তাহ সময় লাগে। তার আগেই আবার পরিবর্তন করলে স্কিনে ইরিটেশন, ব্রণের মতো সমস্যা হতে পারে। বৃটিশ জার্নাল অব ডার্মাটোলজি অনুযায়ী, নতুন মেকআপ মানেই নতুন গন্ধ, যা ত্বকের ওপরের প্রাকৃতিক তেলকে নষ্ট করে। ফলে ত্বক নিজেকে বাঁচাতে আরও বেশি তেল তৈরি করে। ফলে লোমকূপ বন্ধ হয়েও ব্রণ হয়। নতুন মেকআপের সঙ্গে পুরোনো ব্রাশ ব্যবহার করলেও হয় ত্বকের ক্ষতি। ঘনঘন প্রোডাক্ট বদলালে, পরিষ্কার না করা ব্রাশে জমে থাকে পুরোনো পণ্য থেকে তৈরি হওয়া ব্যাকটেরিয়া, যা সরাসরি ত্বকের ছিদ্র ঢুকে ব্রণ বাড়ায়। যা করবেন১. একসঙ্গে একাধিক নতুন মেকআপ ব্র্যান্ড ব্যবহার করবেন না।২. নতুন পণ্য ব্যবহার করার আগে অন্তত ৩ সপ্তাহ অপেক্ষা করুন।৩, সুগন্ধি ছাড়া পণ্য নিন।৪. ব্রাশ ও স্পঞ্জ সপ্তাহে ১-২ বার পরিষ্কার করুন। মেকআপের ব্র্যান্ড পরিবর্তন খারাপ নয়, তবে ঘনঘন ও পরিকল্পনা ছাড়া পরিবর্তন করা বিপদ ডেকে আনে। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া, ইন্ডিয়া টুডে আরও পড়ুন:সাবান দিয়ে মুখ পরিষ্কার করলে কী হয় জানেন?ত্বকের উজ্জ্বলতায় ডিমের জাদুকরী ভূমিকা এসএকেওয়াই/এমএস