বিয়ে বাড়িতে বর-কনেসহ নিহত ৮, যেভাবে ঘটল বিস্ফোরণ

পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের জি-৭/২ সেক্টরে একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নবদম্পতিসহ অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন। গেল রোববার (১১ জানুয়ারি) এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এদিকে, ওই বাড়িতে গ্যাস সিলিন্ডার কীভাবে বিস্ফোরিত হয়েছে তা নিয়ে মিলেছে নতুন তথ্য।ইসলামাবাদের অ্যাডিশনাল ডেপুটি কমিশনার (এডিসি) জেনারেল সাহিবজাদা ইউসুফ জানিয়েছেন, অতিথিরা উপস্থিত থাকার সময়ই বিস্ফোরণটি ঘটে। এতে পার্শ্ববর্তী চারটি বাড়ি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া সবাইকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন তিনি। পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম এক্সপ্রেস ট্রিবিউন জানিয়েছে, উদ্ধারকারী দল ধ্বংসস্তূপ থেকে মোট ১৯ জনকে উদ্ধার করে। তাদের মধ্যে আটজন মারা যান এবং আহত ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কর্মকর্তারা জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন বর ও কনে, তাদের মা, চাচা, ফুফু ও এক চাচাতো ভাই এবং ওয়াসিম ও নাইম নামে তাদের দুই প্রতিবেশী। আহতদের ইসলামাবাদের ক্যাপিটাল হাসপাতাল ও পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অব মেডিকেল সায়েন্সেস (পিআইএমএস)-এ নেয়া হয়। জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতে পিআইএমএস-এ ‘জরুরি অবস্থা’ জারি করা হয় বলে জানান হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. আনিসা জলিল। তিনি বলেন, দুই শিশুসহ আহত মোট ১১ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পর ছাদ ধসে পড়ায় অধিকাংশ আহত ব্যক্তি গুরুতর জখম হয়েছেন। বর্তমানে অর্থোপেডিকস, বার্ন সেন্টার ও নিউরোলজি বিভাগে তাদের চিকিৎসা চলছে।  আরও পড়ুন: পাকিস্তানে বন্দুকধারীর গুলিতে ৫ পুলিশ নিহত ডেপুটি কমিশনার ইউসুফ জানিয়েছেন, উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে এবং কেউ আর ধ্বংসস্তূপের নিচে নেই। নিশ্চিত হওয়ার জন্য স্নিফার ডগ ও আধুনিক সরঞ্জাম ব্যবহার করা হয়েছে। এক বিবৃতিতে পুলিশ জানায়, এলাকাটি সম্পূর্ণ ঘিরে রাখা হয়েছে, আহতদের চিকিৎসা সহায়তা দেয়া হচ্ছে এবং ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত শুরু করেছে। সিডিএ চেয়ারম্যান মুহাম্মদ আলী রন্ধাওয়া নিশ্চিত করেছেন যে, ‘গ্যাস লিক’ থেকেই বিস্ফোরণটি ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আটজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে, তবে আহতদের কেউই আশঙ্কাজনক অবস্থায় নেই।’ রন্ধাওয়া জানান, শীতকালে এ ধরনের দুর্ঘটনা কখনো কখনো ঘটতে পারে। তিনি নাগরিকদের রাতে গ্যাস ব্যবহার না করারও আহ্বান জানান। এছাড়া দ্রুত উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেন। অবৈধ নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন দোষারোপের সময় নয়, তবে তদন্তের অংশ হিসেবে অননুমোদিত ভবন পর্যালোচনা করা হবে। সিডিএ চেয়ারম্যান জানান, প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ঘটনা সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে এবং একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এদিকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ এবং আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন। তিনি স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা নিশ্চিত করারও নির্দেশ দেন। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি ঘটনাটিকে মর্মান্তিক ও গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেন। গ্যাস সিলিন্ডারের উৎপাদন, মান ও ব্যবহারে নিরাপত্তা বিধি কঠোরভাবে বাস্তবায়নেরও নির্দেশ দেন তিনি।  আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডে বিস্ফোরণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪৭, বিভিন্ন দেশের শোক এছাড়া প্রাদেশিক সরকার ও ইসলামাবাদ প্রশাসনকে গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিয়ে জনসচেতনতা কার্যক্রম চালুর আহ্বান জানান পাক প্রেসিডেন্ট। গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে ইসলামাবাদ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও। সূত্র: এক্সপ্রেস ট্রিবিউন