বরেণ্য সংগীতশিল্পী, সুরকার ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের সংগীতশিল্পী শব্দসৈনিক মলয় কুমার গাঙ্গুলী মারা গেছেন। তিনি সোমবার (১২ জানুয়ারি) রাতে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮২ বছর।জানা গেছে, তার মরদেহ বর্তমানে মিরপুরে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতালে রাখা রয়েছে। শিল্পীর একমাত্র মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন। তিনি দেশে ফিরলে শেষকৃত্য নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।বরেণ্য এই শিল্পীর প্রয়াণে সংগীতাঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ‘ভাওইয়া অঙ্গন’র প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ বেতারের সাবেক সংগীত প্রযোজক শিল্পী একেএম মোস্তাফিজুর রহমান এক ফেসবুক পোস্টে শোক জানিয়ে লিখেছেন, ‘আমার প্রিয় মলয় দা (মলয় কুমার গাঙ্গুলী) নীরবে নিশব্দে অনন্তকালের পথে চলে গেলেন।’ আরও পড়ুন: কনসার্টের কয়েক ঘণ্টা আগে প্রাণ হারালেন সংগীতশিল্পী জিমেনেজতিনি দেশবরেণ্য লোকসংগীত শিল্পী। তিনি বাংলাদেশ বেতারের সুরকার ও সংগীত প্রযোজক, নিজস্ব শিল্পীদের বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর এবং স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের বীর মুক্তিযোদ্ধা (কণ্ঠযোদ্ধা) ছিলেন। তার গাওয়া বিখ্যাত গান “আমার মন তো বসে না গৃহ কাজে সজনী গো, অন্তরে বৈরাগীর লাউয়া বাজে”’।১৯৪৪ সালে নেত্রকোণার কেন্দুয়ার মোজাফফরপুর গ্রামে জন্ম নেয়া মলয় কুমার গাঙ্গুলীর জীবনজুড়ে ছিল দেশপ্রেম ও সুরের সাধনা। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে কণ্ঠকে অস্ত্র করে লড়াই করেছিলেন তিনি। সে সময় বাড়ি ছেড়ে কলকাতায় গিয়ে যোগ দেন স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে। বালিগঞ্জ সার্কুলার রোডে বসে নিয়মিত গান লেখা, সুরারোপ ও কণ্ঠে মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন এই শিল্পী। আরও পড়ুন: ‘ইন্ডিয়ান আইডল’জয়ী গায়ক ও অভিনেতা প্রশান্ত মারা গেছেনস্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ‘পুত্রবধূ’ সিনেমায় গাওয়া তার জনপ্রিয় গান ‘গুরু উপায় বলো না’ তুমুল আলোড়ন তোলে। সেই গানে ঠোঁট মিলিয়েছিলেন প্রয়াত অভিনেতা প্রবীর মিত্র। এছাড়া ‘আমার মনতো বসে না গৃহ কাজে সজনী গো’, ‘অন্তরে বৈরাগীর লাউয়া বাজে’সহ বহু কালজয়ী গানে আজও মানুষ তাকে স্মরণ করে।