জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্জ বলেছেন, তিনি মনে করেন ইরানের নেতৃত্ব তার ‘শেষ দিন এবং সপ্তাহে’ পৌঁছেছে। কারণ এটি ব্যাপক বিক্ষোভের মুখোমুখি হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এ কথা বলেন মের্জ।মের্জ বলেন, ‘আমি ধরে নিচ্ছি যে আমরা এখন এই শাসনের শেষ দিন এবং সপ্তাহগুলো দেখছি।’ ভারত সফরের সময় ইরানি নেতৃত্বের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে মের্জ এসব কথা বলেন।জার্মান চ্যান্সেলর আরও বলেন, ‘যখন কোনো শাসনব্যবস্থা কেবল সহিংসতার মাধ্যমে ক্ষমতা ধরে রাখে, তখন কার্যত তার সময় শেষ হয়। জনগণ এখন এই শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে।’ আরও পড়ুন:‘বিশ্ব ব্যবস্থা ধ্বংস করছে যুক্তরাষ্ট্র’, ট্রাম্পের কড়া সমালোচনা জার্মান প্রেসিডেন্টের মের্জ আরও বলেন, ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে জার্মানি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য ইউরোপীয় সরকারগুলোর সাথে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে এবং তেহরানের প্রতি, বিক্ষোভকারীদের উপর তাদের মারাত্মক দমন-পীড়ন বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে, তিনি ইরানের সাথে জার্মানির বাণিজ্য সম্পর্ক নিয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সোমবার বলেছেন যে, যেসব দেশ ইরানের সাথে ব্যবসা করবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে তাদের ২৫ শতাংশ শুল্ক দিতে হবে।রয়টার্স জানায়, উল্লেখযোগ্য বিধিনিষেধ সত্ত্বেও জার্মানি ইরানের সাথে সীমিত বাণিজ্যিক সম্পর্ক বজায় রেখেছে, যার ফলে বার্লিন তেহরানের ইউরোপীয় ইউনিয়নের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার হয়ে উঠেছে। আরও পড়ুন:ট্রাম্পের আগ্রাসী পদক্ষেপ কি বদলে দেবে বৈশ্বিক রাজনীতি?মঙ্গলবার ফেডারেল পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুসারে, ২০২৫ সালের প্রথম ১১ মাসে ইরানে জার্মান রপ্তানি ২৫ শতাংশ কমে ৮৭১ মিলিয়ন ইউরো হয়েছে, যা মোট জার্মান রপ্তানির ০.১ শতাংশের কম। মুদ্রার পতন এবং অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার কারণে ডিসেম্বরে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। পরে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘাত সহিংসতায় পরিণত হয় এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে বৈধতার সংকটে ফেলে।