ইরানে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার হুমকি নিয়ে সতর্ক করেছে কাতার। দেশটির কর্মকর্তারা বলছেন, এই হুমকি থেকে পুরো অঞ্চলে সংঘাত ছড়িয়ে পড়তে পারে। যার ফল হতে পারে ‘বিপর্যয়কর’। খবর আল জাজিরার।ডলারের বিপরীতে রিয়ালের রেকর্ড দরপতন এবং এর প্রেক্ষিতে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি এবং জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের প্রতিবাদে গত ২৮ ডিসেম্বর রাস্তা নামেন তেহরানের ব্যবসায়ীরা। এরপর তা তেহরানের বাইরে কারাজ, ইসফাহান, শিরাজ, কেরমানশাহসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভে অংশ নেয় বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা। ইরানি কর্তৃপক্ষ যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলকে চলমান অস্থিরতা উস্কে দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেছে এবং সেই সঙ্গে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রয়োগ করেছে। ফলে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে হতাহতের সংখ্যা। এরই মধ্যে ইরানে সামরিক হামলার হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। গত রোববার মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন যে, ইরানে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সরকারের অব্যাহত দমন-পীড়ন চললে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হস্তক্ষেপ করবে। সেক্ষেত্রে তারা ‘শক্তিশালী বিকল্প’ বিবেচনা করছে। যার মধ্যে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আরও পড়ুন: ইরানে বিক্ষোভে ২ হাজার মানুষ নিহত: রয়টার্স জবাবে সোমবার (১২ জানুয়ারি) ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে বলেন, তার দেশ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত। ওয়াশিংটন যদি ‘পরীক্ষা’ করতে চায় তবে তার দেশ যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত আছে। দুই দেশের মধ্যে এমন উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। এরই ধারাবাহিকতায় মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মিত্র কাতারও উদ্বেগ জানালো। আজ মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দোহায় এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল-আনসারি বলেন, গত দুই সপ্তাহ ধরে চলা প্রাণঘাতী বিক্ষোভের কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা এবং যুদ্ধের হুমকির মধ্যে মধ্যস্থতা করার চেষ্টা করছে কাতার। তার কথায়, ‘বর্তমান উত্তেজনা এই অঞ্চলে উত্তেজনার সৃষ্টি করবে বলে আশা করা হচ্ছে এবং আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছি। আমরা জানি যে যেকোনো উত্তেজনা ... এই অঞ্চলে এবং তার বাইরেও বিপর্যয়কর পরিণতি ডেকে আনবে এবং তাই, আমরা যতটা সম্ভব তা এড়াতে চাই।’ আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা দেশগুলোর ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ ট্রাম্পের আল-আনসারি আরও বলেন, আঞ্চলিক সংকট সমাধানের সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো কূটনীতি এবং ‘আমরা আমাদের প্রতিবেশী এবং অংশীদারদের সাথে এটি নিয়ে কাজ করছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এই অঞ্চলের পরিস্থিতি শান্ত করার এবং ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যে বিরোধ সমাধানের লক্ষ্যে যোগাযোগের একটি পক্ষ।’