ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গ্যাস সংকট বিরাজ করছে। এ নিয়ে মঙ্গলবার ‘গণশুনানি’ অনুষ্ঠিত হয়। গণশুনানির সময় ভুক্তভোগীদের তোপের মুখে পড়েন বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কম্পানি লিমিটেডের (বিজিডিসিএল) কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগীরা দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলনে যাওয়ারও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা নাগাদ প্রায় সাড়ে তিনঘন্টা ধরে সুর সম্রাট দি আলাউদ্দিন সঙ্গীতাঙ্গনে এ গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার গ্যাস বিতরণ ব্যবস্থা ও গ্রাহক সেবা বিষয়ে কম্পানির পক্ষ থেকে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।এতে সভাপতিত্ব করেন, বিজিডিসিএল’র মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন ডিভিশন) নাহিদ বানী ইসলাম। এতে প্রধান অতিথি’র বক্তব্য রাখেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহান।অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সিফাত মো. ইশতিয়াক ভূঁইয়া, জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের আমির মো. মোবারক হোসেন আকন্দ, বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জহিরুল হক খোকন, সহ-সভাপতি এ বি এম মমিনুল হক, সাবেক পৌর মেয়র মো. হাফিজুর রহমান মোল্লা ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া আইন কলেজের অধ্যক্ষ মো.হাবিবুল্লাহ। সভায় বাখরাবাদের পক্ষে বক্তব্য দেন কম্পানির মহাব্যবস্থাপক (সার্ভিস ও বিপণন প্রকৌশলী মর্তুজা রহমান খান, মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন এন্ড মেইন্টেনেন্স) প্রকৌশলী মোহাম্মদ জাহিদুর রেজা। পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে একাধিক বক্তা আলোচনা করেন।আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ভুয়া চিকিৎসককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানাএ সময় গ্রাহক পর্যায় থেকে অভিযোগ করা হয়, প্রতিরাতেই গ্যাস লাইন বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। দিনের বেলা গ্যাস থাকলেও ঠিকভাবে চুলা জ্বলছে না। মাসের পর মাস এ অবস্থা চলছে। তবে এর সুরাহা করতে কোনো ধরণের উদ্যোগ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। দ্রুত এ সমস্যার সমাধান না হলে আন্দোলন গড়ে তোলার হুশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়। ভুক্তভোগীরা এ সময় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক কর্মকর্তা বক্তব্য রাখার সময়ও তারা প্রতিবাদ করেন। একপ্রকার তোপের মুখে পড়ে যান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। ভুক্তভোগীরা বাখরাবাদ গ্যাসের বদলে তিতাস গ্যাসের নাম পুনর্বহালের দাবিও তুলেন। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার তাদের আলোচনায় নির্বাচনের আগে কোনো ধরণের আন্দোলন না করার আহবান জানান। একটি পক্ষ এ আন্দোলনের সুযোগ নিয়ে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে বলে কর্মসূচি না দেওয়ার কথা তারা উল্লেখ করেন।বাখরাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ তাদের আলোচনায় জানান যে,"তারা ৫২ হাজারের মতো সংযোগ দিয়েছেন। এর বাইরে ২৫ হাজারের মতো অবৈধ সংযোগ রয়েছে। এছাড়া লাইন পুরাতন হওয়ায় গ্যাস লিকেজ হচ্ছে। সব মিলিয়ে অতিরিক্ত সিস্টেম লস হচ্ছে। এতে কম্পানিও লোকসান গুনছে। এসব সমস্যার সমাধান করার পাশাপাশি গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ানোর আশ্বাসও দেন তারা।